০৯:৩৮ এম
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মন্তব্য করেছেন, লেবাননের কোনো ভূখণ্ড দখলের মৌলিক লক্ষ্য তাদের নেই। তবে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা এক মিলিমিটারও অবস্থান থেকে সরে যাবে না।
সোমবার এই তথ্যটি ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল দ্বারা জানানো হয়েছে। ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান লেবানন সফর করেন। ওই সফরের দিনে কাটজ এ মন্তব্য করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় লেবানন দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠিগুলোকে নিরস্ত্র করবে এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ভেঙে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। এরপরেই ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের পথ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: সালমান শাহ হত্যা: সামীরা ও ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৮ ডিসেম্বর
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে বিতাড়িত করার লক্ষ্য নিয়ে দেশটির সেনাবাহিনীকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত মোতায়েন করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
যদিও গত রাতে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পুনরায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওই এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হিজবুল্লাহর হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ওই অঞ্চলে একটি বিস্ফোরণে আইডিএফের একটি সদস্য গুরুতর আহত হয়েছে।
কাটজ তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্ধারিত স্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে। তবে এর বাইরে অন্য কোনো এলাকা থেকে সেনা সরানোর পরিকল্পনা নেই। এই কর্মসূচির আওতায় লেবাননের সেনাবাহিনী দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বেনাপোল বন্দরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল
তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ভবিষ্যতে কোন কোন এলাকা থেকে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। কাটজ এই মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন, লেবাননের ভূখণ্ডের প্রতি ইসরায়েলের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, তবে হিজবুল্লাহ অস্ত্র সমর্পণ না করায় ইসরায়েল এক মিলিমিটারও সরে যাবে না।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, এ নীতির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও সম্মত এবং ইসরায়েল-লেবানন চুক্তিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কাটজের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ না থাকলে আইডিএফ লেবাননে হিজবুল্লাহর পতন ঘটাতে সক্ষম হতো। তিনি বলেন, ব্যাপক বিমান হামলার পরিকল্পনা ছিল, যা বাস্তবায়িত হলে হিজবুল্লাহ চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। তবে সে সময় নিজেদের রক্ষায় ইরানের কাছে সহায়তা চাইছিল গোষ্ঠীটি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন-ইরান আলোচনার সঙ্গে লেবানন ইস্যুকে যুক্ত করায় ইসরায়েলকে বৈরুতের উপর হামলা বন্ধ করতে হয়েছিল, যদিও এর আগে লেবাননের রাজধানীতে হিজবুল্লাহর অবস্থানে ব্যাপক হামলা হয়েছে। কাটজের বক্তব্যে যে বিষয়টি তাঁর কাছে দুঃখজনক তা হলেও, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে করা হয়েছিল। কারণ ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা এগিয়ে নিতে খুবই আগ্রহী ছিল।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা সম্পর্কিত তিনি বলেন, লেবাননের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়, তাহলে আইডিএফ তার জবাব দেবে এবং স্বাধীনভাবে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি রেখেছে। কাটজ বলেন, ইরানে হামলার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু প্রস্তুত রয়েছে এবং আইডিএফ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। তবে এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তাতে ইসরায়েল হস্তক্ষেপ করবে না।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, মোট ২৯ দিন ছুটি
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন