বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৫ পি.এম
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলের নেতৃত্ব দেন হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদ আলী। মিছিলের সময় ‘আপা আপা করিস না, শেখের বেটি আর আসবে না’ সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান শোনা যায়। মিছিল শেষে সেখানে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক নেতা তবিবুর রহমান, শহিদ আলী, মাকসুদুর রহমান রিন্টু এবং লিটন হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও তার সহযোগীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে। বক্তারা বলেন, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিজেদের স্বার্থ ও কর্মপরিবেশের কথা চিন্তা করে কোনো উসকানিতে পা না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
তারা আরও বলেন, শার্শা উপজেলা তথা দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হলে বন্দরের শ্রমিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে হাজার হাজার শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : চিত্রনায়ক সালমানশাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায়, বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমানশাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন— সালমানশাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানশাহের মৃত্যুর পর, রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়।
তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমানশাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরানশাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানশাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন যে সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে।
তখন দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন যে সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।
সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান।
তারা সালমানশাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমানশাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।
মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী তার মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।
সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তিনি তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমানশাহকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া বাজারে একটি নকল ওষুধ তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাঘা থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই অভিযানটি সম্পন্ন হয়। বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান অনন্যা এই যৌথ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
অভিযান চলাকালীন ভেজাল ওষুধ তৈরির অপরাধে অভিযুক্তদের কাছ থেকে মুচলেকা গ্রহণ করা হয়। একই সময়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪১ ধারায় কারখানাটিকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় কারখানায় মজুদ রাখা বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয় এবং প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে নকল ওষুধ তৈরির কারখানাটি সিলগালা করে দেয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভেজাল ওষুধের বিস্তার রোধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বিদেশি সংস্থাগুলি থেকে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করছে, এমন অভিযোগ করেছে মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতাদের কাছ থেকে এবং কৌশলবিদ আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তানি রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘তাদের (সিজেপি) যে অননুমোদিত উৎস থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে, অর্থাৎ ভারতবিরোধী এনজিও এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা ভারতবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন থেকে, তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।’
বিজেপির মুখপাত্র তুহিন এ সিনহা অভিযোগ করেছেন যে, দিল্লিতে উৎসবের সময়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সিজেপি এবং কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে আন্দোলন করছে, যা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
এদিকে, দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। পুলিশ নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং অন্য দলের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ তদন্ত করছে।
গত ১০ অক্টোবর শান্তিভঙ্গ না করার মুচলেকা দিয়ে ৫০ হাজার রুপির বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন সৌরভ ও আশুতোষ।
তবে বিরোধীরা বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বিজেপি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারছেন না? তিনি গোয়েন্দা সংস্থা আইবি ও র-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন।
কংগ্রেস, বিজেপি এবং আরএসএসের অর্থায়ন নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কের প্রস্তাবও দিয়েছেন খাড়গে। প্রয়োজনে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে সেই আলোচনায় মধ্যস্থতার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটে একটি বাস ও মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে আশিফ হোসেন (১৭) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী মারা গেছেন। দুর্ঘটনার সময় আরও দুইজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ঘাতক বাসটিতে ভাঙচুর করে এবং সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে জয়পুরহাট-হিলি সড়কের কাশিয়াবাড়ী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আশিফ হোসেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার হাতিগারা গ্রামের এমরান হোসেনের ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে নাঈম হোসেন (২২) এবং মফিজুল হোসেনের ছেলে জিহাদ হোসেন (২২)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট থেকে ‘জে আর পরিবহন’ নামের একটি বাস পাঁচবিবির দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহী আশিফ নিহত হন এবং অপর দুজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
দুর্ঘটনার পরপরই বাসের যাত্রী ও স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে নেমে আসেন এবং বাসটিতে ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেন। এর ফলে জয়পুরহাট-হিলি সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। পুলিশ নিহত ও আহতদের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ