১১:২৭ এম
ইয়েমেনের কৌশলগত একটি প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় শুক্রবার অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। দেশটির এক মন্ত্রী ও সামরিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তেলসমৃদ্ধ মারিব অঞ্চলে বিদ্রোহীরা হামলা আরও জোরদার করেছে।
এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি’র পক্ষ থেকে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি এবং সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে ২০২২ সালে সংঘটিত যুদ্ধবিরতি গত মাসে ভেঙে গেছে। এর পর বৃহস্পতিবার মারিব প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরকারি বাহিনীর অন্তত ৫৮ সদস্য মারা গেছেন।
আরও পড়ুন: বিল গেটসের ৭১তম জন্মদিনে দানের ঘোষণা, সম্পদের প্রায় সবটাই মানবকল্যাণে
ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘২০২২ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকে যেকোনো সময়ের তুলনায় আজ ইয়েমেন বড় ধরনের সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি উভয় পক্ষকে ‘সংযম’ প্রদর্শন এবং ‘সদিচ্ছার সঙ্গে আলোচনায়’ ফিরে আসার আহ্বান জানান।
একটি সামরিক সূত্র’বাবে এএফপিকে জানানো হয়েছে যে, মারিবে সর্বশেষ হুথিদের হামলায় সরকারি বাহিনীর আট সদস্য মারা গিয়েছেন এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হুথিরা মারিব শহরের আবাসিক এলাকা ও বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে গোলাবর্ষণ পরিচালনা করেছে। এর ফলে অন্তত দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী
হুথিরা দাবি করেছে, তারা মারিব প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে হামলা চালিয়েছে। হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, ‘সৌদি শত্রু তাদের বাহিনীকে সংগঠিত ও উসকানি দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই বাহিনী এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে সাহন আল-জিন শিবিরে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘শুক্রবার সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়া মারিব শহরের আবাসিক এলাকা ও বাস্তুচ্যুতদের শিবির লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছে। প্রাথমিক হিসাবে এতে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন।’
এক সামরিক সূত্র অনুযায়ী, হুথিরা মারিব প্রদেশের সামরিক শিবিরগুলো লক্ষ্য করে ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও সাতটি একমুখী হামলা চালাতে সক্ষম ড্রোন হামলা করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের হামলায় ‘চুপ করে বসে থাকবে না’।সূত্রটি জানায়, মারিব তাদের জন্য একটি ‘লাল রেখা’ বা ‘চূড়ান্ত সীমা।’
আরও পড়ুন: ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ
সূত্রটি সতর্ক করে উল্লেখ করে যে, ‘জোট উত্তেজনা বাড়াতে চায় না’, ‘তবে হুথিদের মারিব প্রদেশ দখল সৌদি কর্তৃপক্ষ মেনে নেবে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন