ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইয়াবাসহ রোমান হাওলাদার আটক


ইয়াবাসহ রোমান হাওলাদার আটক

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ। গত ১৩ তারিখ রাতে উপজেলার একটি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটক রোমান উপজেলার চোরমর্দন গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

জানা যায়, এর আগে ফেসবুকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কটূক্তির অভিযোগে রোমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। ঢাকা সাইবার ট্রাইবুনালে মামলাটি করেন সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোছাইন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সানজিদা খানম ইভা জানান, মামলাটি (নং ৩৩/২০২৪) আমলে নিয়ে আদালত ঢাকা সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট নিজের ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করেছেন।

আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গলাচিপায় ফোনে মিলছে ইলিশ, প্রশাসনের অভিযান চলছে

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সিরাজদিখানের সামাজিক সংগঠন ঝিকুট ফাউন্ডেশন ও সাংবাদিক ইকবালের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিটে চরম কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর ও অশ্রাব্য ভাষায় কটূক্তি করা হয়। এটি সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর ২১, ২৫ ও ২৯ ধারায় অপরাধের শামিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে নারীসংক্রান্ত কেলেঙ্কারি, মাদক সেবন, চুরি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে নারীসংক্রান্ত একটি ঘটনায় তিনি এক বছরের সাজা পেয়েছিলেন। মাদক সেবনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ২৮ দিনের কারাদণ্ড দেন। এসব বিষয়ে সিরাজদিখান থানায় তাঁর নামে একাধিক সাধারণ ডায়েরি, অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সাংবাদিক মোক্তারের ক্যামেরা চুরির অভিযোগে থানায় অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সিরাজদিখান প্রেসক্লাব থেকে থানায় লিখিত আবেদন দেওয়া আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর কর্মকাণ্ডে উপজেলার সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকেরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী একাধিকবার তাঁকে গণপিটুনি দিয়েছে বলেও জানা গেছে।

আরও পড়ুন: বরিশালে বিএমপির থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭ জন

সিরাজদিখান থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রকৌশলী ও ব্যাংকারের চাকরি ছেড়ে লিজা এখন শিশুদের প্রিয় ‘আপা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া,নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০০ এম


প্রকৌশলী ও ব্যাংকারের চাকরি ছেড়ে লিজা এখন শিশুদের প্রিয় ‘আপা’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে কেউ প্রকৌশলী হন, কেউ ব্যাংকার। ভালো বেতন, প্রতিষ্ঠিত কর্মজীবন আর শহুরে স্বাচ্ছন্দ্যের হাতছানি থাকে অনেকের সামনে। তবে নাইলা সারাফ লিজার কাছে সাফল্যের অর্থটা একটু আলাদা। প্রকৌশলী ও ব্যাংকার হিসেবে কাজ করার পর তিনি বেছে নিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা। এখন তাঁর সময় কাটে নেত্রকোনার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের সঙ্গে।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাইলা সারাফ লিজা শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি তাদের ‘লিজা আপা’—কখনোবা সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা লিজার শিক্ষাজীবন কেটেছে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে তিনি ভর্তি হন বুয়েটে। পড়াশোনা শেষ করে ২০০৯ সালের দিকে যোগ দেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি), সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে। পরে ২০১১-১২ সালের দিকে চাকরি নেন জনতা ব্যাংকে।

কিন্তু প্রকৌশলী কিংবা ব্যাংকার—কোনো পেশাতেই নিজেকে দীর্ঘদিন আটকে রাখতে পারেননি তিনি। নিজের অনুভূতি জানিয়ে লিজা বলেন, ‘জব তো কখনো খারাপ হয় না। তবে আমার নিজেকে কখনো মনে হয়নি যে ওই জবগুলোতে আমি খুব বেশি ফিট।’

শিশুদের সঙ্গে অন্য রকম এক বন্ধন

২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বুয়েট থেকে পাস করা একজনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়কর। শুরুতে লিজার মনেও সংশয় ছিল। প্রথম তিন মাস তাঁর মনে প্রশ্ন জেগেছিল, এই পরিবেশে তিনি থাকতে পারবেন তো?

কিন্তু সহকর্মীদের আন্তরিকতা আর শিশুদের সরল মুখ তাঁকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অন্য চাকরির সুযোগ এলেও তিনি থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শিশুদের কাছেই।

লিজার কাছে শিক্ষকতা মানে শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু শেখানো নয়। শিশুদের শেখার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষককে শিশুদের মন বুঝতে হবে। কেবল শাসন করে কিংবা বারবার একই কথা বলে কাউকে শেখানো যায় না। বরং শিক্ষার্থীর নিজের ভেতর থেকে শেখার আগ্রহ তৈরি করতে পারাটাই আসল।

লিজার ভাষায়, ‘শিক্ষক হওয়ার জন্য শিশুদের ভেতরে প্রবেশ করতে পারা এবং তাদের মোটিভেট করার ক্ষমতা থাকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমি নিজেকে খুব সাধারণ একজন মানুষ মনে করি। আমি শুধু ওদের মোটিভেট করার চেষ্টা করি, উৎসাহ দিই। শিক্ষার্থী নিজে থেকে না শিখলে আমি সারাদিন ঘ্যানঘ্যান করলেও কোনো লাভ হবে না।’

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক, কখনো বন্ধু

লিজার শ্রেণিকক্ষের পরিবেশও কিছুটা আলাদা। শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেকে ভয়ের কারণ করে তুলতে চান না তিনি। বরং এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান, যেখানে শিশুরা ভুল করলেও নির্ভয়ে তা স্বীকার করতে পারে।

টিফিনের সময় শিশুদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্য দিয়েও তৈরি হয় তাঁর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সম্পর্ক।

লিজা বলেন, ‘আমি যখন পড়াই, তখনো যদি কেবল নিজেকে শিক্ষক মনে করি, তাহলে ওরা আমাকে ভয় পাবে। আমি ক্লাসে ওদের বন্ধু। ওরা কোনো ভুল করলেও নির্দ্বিধায় আমার কাছে স্বীকার করতে পারে।’

তাঁর বিশ্বাস, শিশুরা নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে থাকলে শেখার প্রতি আগ্রহী হয়। তাই পাঠদানের পাশাপাশি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি।

পড়াশোনার বাইরেও শেখার জগৎ

সাহিত্যচর্চা, ছবি আঁকা, নাচ, গান ও আবৃত্তির প্রতি লিজার রয়েছে গভীর আগ্রহ। এসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে তিনি শিশুদের মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন।

তাঁর মতে, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। শিশুদের সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও সাংস্কৃতিক বোধ বিকাশেও ভূমিকা রাখতে হয়।

নিজের আগ্রহ ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের সেই জগতের সঙ্গে পরিচিত করানোর চেষ্টা করেন তিনি। আর এভাবেই শিক্ষকতার সঙ্গে তৈরি হয়েছে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক।

ঢাকার জীবন ছেড়ে শেকড়ের কাছে

লিজার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। বাবা ছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। পড়াশোনা ও কর্মজীবনের শুরুর সময়ও ছিল ঢাকাকেন্দ্রিক।

তবে তাঁর পারিবারিক শেকড় নেত্রকোনায়। বাবার বাড়ি ও দাদার বাড়ির সূত্রে এই জেলার সঙ্গে রয়েছে তাঁর গভীর সম্পর্ক। একসময় সেই শেকড়ের কাছেই থিতু হয়েছেন তিনি।

শুরুতে মফস্বলের পরিবেশ ও যাতায়াতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগলেও এখন নেত্রকোনার জীবন তাঁকে স্বস্তি দেয়। ঢাকার ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনের তুলনায় এখানকার মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতি তাঁকে আকৃষ্ট করেছে।

বর্তমানে স্বামী ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে নিয়ে নেত্রকোনায় থাকেন লিজা। তাঁর ছেলে পড়াশোনা করছে মায়ের কর্মস্থল পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই।

সাফল্যের সংজ্ঞা যেখানে আলাদা

একজন বুয়েট স্নাতক হিসেবে প্রকৌশল কিংবা ব্যাংকিং পেশায় আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল নাইলা সারাফ লিজার সামনে। কিন্তু তিনি নিজের ভালো লাগা খুঁজে পেয়েছেন শিশুদের শেখানোর মধ্যে, তাদের বেড়ে ওঠার সঙ্গী হওয়ার মধ্যে।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে তিনি বুঝেছেন, বড় ডিগ্রি থাকলেই একজন ভালো শিক্ষক হওয়া যায় না। শিশুদের বোঝার ক্ষমতা, তাদের উৎসাহিত করা এবং শেখার আনন্দ তৈরি করাই শিক্ষকতার বড় শক্তি।

বাংলাদেশে যত দিন থাকবেন, শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি।

লিজার গল্প তাই শুধু পেশা বদলের গল্প নয়; এটি নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দেওয়ার গল্প। যে মানুষটি একসময় প্রকৌশলবিদ্যা শিখেছিলেন, তিনি এখন শিশুদের স্বপ্ন দেখতে শেখান। তাঁর কাছে সাফল্য বড় কোনো পদ বা প্রতিষ্ঠানের নাম নয়; বরং ছোট ছোট শিক্ষার্থীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ।

আর সেই কাজটিই নীরবে করে চলেছেন নেত্রকোনার পঞ্চাননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘লিজা আপা’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই মাসে হাতে লিখলেন পুরো কোরআন, ১৮ বছর ধরে বিনা বেতনে শিশুদের পড়ান খাদিজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ এম


দুই মাসে হাতে লিখলেন পুরো কোরআন, ১৮ বছর ধরে বিনা বেতনে শিশুদের পড়ান খাদিজা

সংসারের কাজ সামলে অবসর সময়ে দুই মাসে ৭৩০ পৃষ্ঠায় পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে লিখে সম্পন্ন করেছেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার গৃহবধূ মোসাম্মৎ খাদিজা আক্তার (৩৫)। শুধু তা-ই নয়, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে গ্রামের শিশুদের বিনা পারিশ্রমিকে কোরআন শিক্ষা দিয়ে আসছেন তিনি। তাঁর এমন উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

খাদিজা আক্তার নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ জজ মিয়া পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। সীমিত আয়ের সংসারে নানা ব্যস্ততার মধ্যেও ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার ও আরবি হাতের লেখার চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

খাদিজার আরবি লেখার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। একসময় নিজের হাতের লেখার চর্চা ধরে রাখতে পুরো কোরআন শরীফ হাতে লেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামীর সহযোগিতায় সাদা কাগজ সংগ্রহ করে লেখা শুরু করেন। এরপর ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রায় দুই মাসের চেষ্টায় ৪০টি কলমের কালি ব্যবহার করে ৭৩০ পৃষ্ঠায় ৩০ পারার সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ লেখা শেষ করেন।

খাদিজার বাবার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের বেলাটি গ্রামে। স্কুলে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদের মক্তবে আরবি শিক্ষা নেন তিনি। পরে স্থানীয় মাওলানা আশরাফুলের কাছে কায়দা ও আমপারা শেষ করে কোরআন পড়া শুরু করেন। তাঁর সুন্দর আরবি হাতের লেখা ও শুদ্ধ তেলাওয়াত দেখে শিক্ষক তাঁকে লেখার চর্চা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন।

পরে বড় ভাই ও শিক্ষক মাওলানা আশরাফুলের সহযোগিতায় ঢাকার উত্তরার খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা থেকে ২৫ দিনের মুয়াল্লিমা প্রশিক্ষণ নেন খাদিজা। গ্রামে ফিরে মক্তবে শিশুদের পড়ানো শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বিরামপুরের মুকলেছ সিটি কিন্ডারগার্টেনেও আরবি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০০৮ সালের শেষ দিকে জজ মিয়ার সঙ্গে বিয়ের পর আতকাপাড়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন খাদিজা। তখন এলাকায় শিশুদের আরবি শেখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তিনি নিজ উদ্যোগে বাড়িতে শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেওয়া শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাঁর বাড়ির উঠানেই গড়ে ওঠে অনানুষ্ঠানিক একটি মক্তব।

বর্তমানে তাঁর মক্তবে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থীর নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২৫ জনের মতো শিশু, যাদের অধিকাংশই কন্যাশিশু, আরবি লেখা ও কোরআন তেলাওয়াত শিখতে আসে। শিক্ষার্থীদের বয়স সাত থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে শিশুদের পড়ালেও কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বেতন বা হাদিয়া নেন না খাদিজা। স্বামীর সীমিত আয়ের সংসারেও নিজের উদ্যোগে বিনা পারিশ্রমিকে এই শিক্ষাসেবা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনেও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে খাদিজাকে। তিন পুত্রসন্তানের মধ্যে মেজো সন্তানকে হারিয়েছেন তিনি। সেই শোক সামলে পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গ্রামের শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

কেন বিনা পারিশ্রমিকে শিশুদের পড়ান এবং পুরো কোরআন হাতে লেখার অনুপ্রেরণা কোথায় পেয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে খাদিজা আক্তার বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তিনি এই কাজ করেন। অবসর সময় ভালো কাজে ব্যয় করা এবং নিজের হাতের লেখার চর্চা ধরে রাখাও তাঁর উদ্দেশ্য। শিশুদের পড়ানোর মাধ্যমে নিজের চর্চা বজায় থাকে, পাশাপাশি সওয়াবের আশাও করেন তিনি।

প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো ডিগ্রি কিংবা আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলেও নিজের ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খাদিজা আক্তার। হাতে লিখে সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ শেষ করা এবং দীর্ঘদিন বিনা পারিশ্রমিকে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি স্থানীয় মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুতা আমদানির কড়াকড়িতে বিপাকে তৈরি পোশাক খাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ এম


সুতা আমদানির কড়াকড়িতে বিপাকে তৈরি পোশাক খাত

দেশে সুতা আমদানির কড়াকড়িতে বিপাকে পড়েছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বন্ড সুবিধা বাতিল হওয়ার ফলে দেশীয় সুতার প্রতি কেজিতে দাম ৩০ থেকে ৪০ সেন্ট পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এর ফলে পণ্য উৎপাদনে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমছে। যদিও বস্ত্রকল মালিকরা দাবি করছেন, সুতার দামে উচ্চমূল্য নয় বরং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিল্প রক্ষা এবং কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে অর্থনীতিবিদরা সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন।

দেশে টেক্সটাইল মিলের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০-এর বেশি। এর মধ্যে স্পিনিং বা সুতাকল রয়েছে ৫২৭টি। এই স্থানীয় সুতাকলগুলো দেশের নিট পোশাকশিল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ওভেন শিল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতার চাহিদা পূরণ করে।

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সুতাকলকে সুরক্ষা দিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। শিল্প মালিকদের বক্তব্য, আমদানির বিপরীতে আগাম গ্যারান্টি দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা সব উদ্যোক্তার নেই।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ব্যাংক গ্যারান্টির নাম মুখ দিয়ে উচ্চারণ করার আগে কিছু কোল্যাটারাল সিকিউরিটি নিয়ে সেখানে হাজির হতে হবে। তা না হলে ব্যাংক গ্যারান্টি পাবে না।’

এছাড়া, আমদানি সুযোগ সীমিত হওয়ার পর দেশীয় বাজারে বেড়েছে সুতার দাম। রপ্তানিকারকদের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রতি কেজি ৩০ কাউন্টের কটন সুতার দাম ছিল ৩ ডলার ১৫ থেকে ৩ ডলার ২০ সেন্ট; বর্তমানে তা বেড়ে ৩ ডলার ৫০ থেকে ৩ ডলার ৬০ সেন্টে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, ‘বাড়তি দামে সুতা কিনে ওভারহেড খরচ বাড়িয়ে ব্যাংককে উচ্চ মুনাফা দিয়ে কারখানা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’

যদিও বস্ত্রকল মালিকরা বলছেন, বন্ড সুবিধা বাতিল হওয়ার ফলে বাজারে দেশীয় সুতার সরবরাহ বাড়ছে। অযৌক্তিক দামবৃদ্ধির বিষয়ে নজরদারি রয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ)।

সংগঠনটির সাবেক সহসভাপতি সালেউদ জামান খান বলেন, ‘আমাদের খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে মিল রেখে সুতার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সুতার দাম বেশি রাখার সুযোগ নেই। বিটিএমএর সদস্য মিলগুলোকেও বলা হয়েছে যেন তারা সুতার দাম বেশি না নেয়।’

এমন বাস্তবতায় এনবিআরের আদেশ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। স্থানীয় শিল্প রক্ষার পাশাপাশি কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিতে সমন্বিত পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এটার জন্য আলাদাভাবে চাপের দরকার নেই। যখনই আমদানিকৃত সুতা কম দামে আসতে শুরু করবে, তখন বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশীয় সুতারও দাম কমবে।’

বর্তমানে বছরে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। যার সিংহভাগ আসে নিটওয়্যার খাত থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিলানে পোষা কুকুরের ইশারায় গাছের নিচে নবজাতক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ এম


মিলানে পোষা কুকুরের ইশারায় গাছের নিচে নবজাতক উদ্ধার

ইতালির মিলানের একটি গাছের নিচে নীল প্লাস্টিকের ব্যাগে ফেলে রাখা এক নবজাতককে উদ্ধার করা হয়েছে। পোষা কুকুরের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ৫৮ বছর বয়সী সান্দ্রা নামের এক নারী ব্যাগটি খুলে শিশুটিকে দেখতে পান। শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

ইতালির সংবাদমাধ্যম Corriere della Sera ও La Repubblica-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে সান্দ্রা তাঁর পোষা কুকুর নিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় কুকুরটি রাস্তার পাশে একটি গাছের নিচে রাখা নীল প্লাস্টিকের ব্যাগের কাছে গিয়ে ঘ্রাণ নিতে শুরু করে।

প্রথমে সান্দ্রা ধারণা করেছিলেন যে ব্যাগের ভেতরে কুকুরের ছানা থাকতে পারে। তবে ব্যাগটি নড়াচড়া করতে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। পরে তিনি ব্যাগটি খুলে ভেতরে একটি নবজাতককে দেখতে পান।

সান্দ্রা জানান, ব্যাগটি দুটি শক্ত গিঁট দিয়ে বাঁধা ছিল এবং শিশুটিকে একটি চাদরে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছিল। ব্যাগের ফাঁকা জায়গাগুলো মোজা ও সোয়েটার দিয়ে পূর্ণ করা ছিল। ব্যাগ খোলার পর শিশুটি জোরে কেঁদে ওঠে।

ঘটনার পর সান্দ্রা জরুরি সেবা নম্বর ১১২-তে ফোন করেন। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত জরুরি সেবার অপারেটরের নির্দেশনা অনুসরণ করে তিনি নিজের সোয়েটার দিয়ে শিশুটিকে জড়িয়ে উষ্ণ রাখার চেষ্টা করেন।

পরে শিশুটিকে মিলানের নিগুয়ার্দা হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়েছিল। তাকে উষ্ণ করার চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি হালকা অক্সিজেন সহায়তা দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং বিশেষ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে আছে।

এদিকে, নবজাতককে কে বা কারা সেখানে ফেলে গেছে, তা শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইতালিতে পরিচয় গোপন রেখে হাসপাতালে সন্তান প্রসব এবং নবজাতককে নিরাপদে রেখে যাওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে। এই ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শিশুটিকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%