প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশে সুতা আমদানির কড়াকড়িতে বিপাকে পড়েছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বন্ড সুবিধা বাতিল হওয়ার ফলে দেশীয় সুতার প্রতি কেজিতে দাম ৩০ থেকে ৪০ সেন্ট পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এর ফলে পণ্য উৎপাদনে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমছে। যদিও বস্ত্রকল মালিকরা দাবি করছেন, সুতার দামে উচ্চমূল্য নয় বরং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় শিল্প রক্ষা এবং কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে অর্থনীতিবিদরা সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন।
দেশে টেক্সটাইল মিলের সংখ্যা ১ হাজার ৮০০-এর বেশি। এর মধ্যে স্পিনিং বা সুতাকল রয়েছে ৫২৭টি। এই স্থানীয় সুতাকলগুলো দেশের নিট পোশাকশিল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং ওভেন শিল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতার চাহিদা পূরণ করে।
আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সুতাকলকে সুরক্ষা দিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। শিল্প মালিকদের বক্তব্য, আমদানির বিপরীতে আগাম গ্যারান্টি দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা সব উদ্যোক্তার নেই।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ব্যাংক গ্যারান্টির নাম মুখ দিয়ে উচ্চারণ করার আগে কিছু কোল্যাটারাল সিকিউরিটি নিয়ে সেখানে হাজির হতে হবে। তা না হলে ব্যাংক গ্যারান্টি পাবে না।’
এছাড়া, আমদানি সুযোগ সীমিত হওয়ার পর দেশীয় বাজারে বেড়েছে সুতার দাম। রপ্তানিকারকদের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রতি কেজি ৩০ কাউন্টের কটন সুতার দাম ছিল ৩ ডলার ১৫ থেকে ৩ ডলার ২০ সেন্ট; বর্তমানে তা বেড়ে ৩ ডলার ৫০ থেকে ৩ ডলার ৬০ সেন্টে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, ‘বাড়তি দামে সুতা কিনে ওভারহেড খরচ বাড়িয়ে ব্যাংককে উচ্চ মুনাফা দিয়ে কারখানা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’
যদিও বস্ত্রকল মালিকরা বলছেন, বন্ড সুবিধা বাতিল হওয়ার ফলে বাজারে দেশীয় সুতার সরবরাহ বাড়ছে। অযৌক্তিক দামবৃদ্ধির বিষয়ে নজরদারি রয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ)।
সংগঠনটির সাবেক সহসভাপতি সালেউদ জামান খান বলেন, ‘আমাদের খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে মিল রেখে সুতার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সুতার দাম বেশি রাখার সুযোগ নেই। বিটিএমএর সদস্য মিলগুলোকেও বলা হয়েছে যেন তারা সুতার দাম বেশি না নেয়।’
এমন বাস্তবতায় এনবিআরের আদেশ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। স্থানীয় শিল্প রক্ষার পাশাপাশি কাঁচামালের প্রাপ্যতা নিশ্চিতে সমন্বিত পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘এটার জন্য আলাদাভাবে চাপের দরকার নেই। যখনই আমদানিকৃত সুতা কম দামে আসতে শুরু করবে, তখন বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশীয় সুতারও দাম কমবে।’
বর্তমানে বছরে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। যার সিংহভাগ আসে নিটওয়্যার খাত থেকে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন