বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:২৩ পি.এম
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্পোরেট গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণের আবেদন, ছুটি ব্যবস্থাপনা এবং ডি-নথি কার্যক্রমকে আধুনিক, সহজ ও ডিজিটাল করার লক্ষ্যে তিনটি সফটওয়্যার ও ডি-নথি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এসব সফটওয়্যার ও ডি-নথি কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে সফটওয়্যারগুলোর উদ্বোধন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন বলেন, "আমাদের প্রতিনিয়ত নতুনত্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে হবে, বসে থাকলে হবে না। এগুলোর ব্যবহার করতে করতে আমরা পারদর্শী হয়ে যাব এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আরও উন্নত হব। ব্যবহারে কোনো সমস্যা হলে শিখে নিতে পারবো। অসাধ্য বলে কোনো কিছুই নেই। মনোনিবেশ করে এসব সিস্টেম কার্যকর করতে পারবো।"
তিনি বলেন, "দায়িত্ব পালনে উদাসীন হওয়ার সুযোগ নেই। সিস্টেমকে আরও উন্নত করে সামনে এগিয়ে যেতে পারলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জন করতে পারবে। প্রযুক্তিনির্ভর এসব উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিজেদের জাহাজে অভিনব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করছে রাশিয়া।
তেলের ট্যাংকারগুলোতে এখন ড্রোন-প্রতিরোধী জাল, ধাতব খাঁচা এমনকি পানির ট্যাংকও লাগানো হচ্ছে। সাগরে ভাসমান এসব জাহাজ এখন অনেকটা ‘ম্যাড ম্যাক্স’ সিনেমার দৃশ্যপটের মতোই মনে হচ্ছে।
সম্প্রতি বসফরাস প্রণালি পার হওয়ার সময় ২৮ বছরের পুরোনো ট্যাংকার ‘কারুজো’-তে এমন একটি দৃশ্য দেখা গেছে। ট্যাংকারটির চারপাশে ড্রোন-প্রতিরোধী জাল এবং ছাদের দিকে খাঁচার মতো কাঠামো ছিল। ড্রোনের আঘাতের শক্তি কমাতে এতে পানির ট্যাংকও সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষক ইয়োরুক ইসিক এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, ‘রিজভেল’ নামের অন্য একটি রুশ ট্যাংকারেও একই ধরনের জাল দেখা গেছে। ট্যাংকার ট্র্যাকার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা সামির মাদানি জানিয়েছেন, নাবিকেরা ভীতির কারণে নিজেদের ওই কাঠামোর ভেতর অবরুদ্ধ করে রেখেছেন।
মূলত রাশিয়ার সামরিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে কিয়েভ ড্রোন ও চালকবিহীন নৌযান দিয়ে হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আজভ ও কৃষ্ণসাগরে অন্তত ২১৮টি রুশ-সংশ্লিষ্ট নৌযানে হামলা করা হয়েছে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে।
তবে এসব হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নভোরোসিস্ক টার্মিনালের কাছে হামলা থামাতে কিয়েভকে অনুরোধ করেছেন। কৃষ্ণসাগরে জাহাজের বিমা ও পরিবহন খরচও বর্তমানে অনেকটাই বেড়ে গেছে।
শুধু জাহাজ নয়, নভোরোসিস্ক নৌঘাঁটির নিরাপত্তাও মস্কো দ্বারা জোরদার করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে ঘাঁটির চারপাশে বিশাল জাল এবং ব্যারিকেড দৃশ্যমান। এর মাঝে বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নভোরোসিস্কে তারা একটি ‘অনন্যসাধারণ অভিযান’ পরিচালনা করেছেন। এই অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে রুশ জাহাজ, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং বন্দরের অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে লাওস ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
দেশটির রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ বৈঠক (এফওসি)-তে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ অনুরোধ করা হলে, লাওসের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দান করা হয়।
১৯৮৮ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ৩৮ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং লাওসের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনৌপার্ব ভংনোরকেও নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও লাওস প্রতিনিধিরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
কনস্যুলার সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টধারী নাগরিকদের জন্য লাওসের ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজ করার অনুরোধ জানানো হয়। ভিয়েনতিয়েন ইতিবাচক সাড়া দেয়। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও যাতায়াত বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়েও। দুই দেশ শ্রম সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রক্রিয়া শুরুর ব্যাপারে একমত হয়েছে।
এছাড়া সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক করার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়। জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, তরুণ কূটনীতিকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পর্যটন সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও একমত হয়েছে তারা।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর মসৃণ রূপান্তরের কৌশল ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশ একমত হলো যে, বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম। সেজন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়াতে এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের জাতীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও শিল্প চেম্বারগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং প্রতিনিধিদল বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের ওষুধ ও কৃষিপণ্যের বিষয়ে লাওস বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ লাওসের সমর্থনের জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে লাওসের অব্যাহত সমর্থন চাওয়া হয়।
বাংলাদেশের আসিয়ান খাতভিত্তিক সংলাপ অংশীদার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) সদস্য হওয়ার উদ্যোগের প্রতি লাওস সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ ও লাওস ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও এর প্রভাব প্রশমন বিষয়ক কৌশল নিয়ে অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের বিষয়ে তারা একমত হয়।
বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও লাওসের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা ফলাফলসংক্রান্ত একটি দলিলে স্বাক্ষর করেন। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব ও তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে লাওসের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী নৈশভোজের আয়োজন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিধি তেওয়ারি, যে বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন, তবে তার স্বপ্ন ছিল দেশের প্রশাসন এবং কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করার। এই লক্ষ্যই তাকে স্থায়ী চাকরি ছেড়ে সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করেছে। একবার যদি ব্যর্থ হন, তাও থেমে যাননি তিনি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে (আইএফএস) জায়গা করে নিতে সক্ষম হন। বর্তমানে নিধি তেওয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করছেন।
২০১৪ ব্যাচের আইএফএস কর্মকর্তা নিধি তেওয়ারিকে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ভারতের সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ২৯ মার্চ ২০২৫ থেকে তিনি এই পদে যোগ দেন। এই নিয়োগ ‘কো-টার্মিনাস’ ভিত্তিতে হয়েছে, যাতে এটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নিধি তেওয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) ডেপুটি সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছিলেন এর আগে। ২০২২ সালের নভেম্বরে তিনি পিএমওতে আন্ডার সেক্রেটারি পদে যোগ দেন। পরে তিনি ডেপুটি সেক্রেটারি পদে উন্নীত হন।
উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে বেড়ে ওঠা নিধি তেওয়ারি তার স্কুল এবং স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করেছেন সেখানে। পরে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি একাডেমিক ফলাফলের জন্য স্বর্ণপদকও পেয়েছেন।
পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ভারতের অন্যতম প্রধান পরমাণু গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভাভা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে (বার্ক) বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন। তবে গবেষণাগারের পেশা তাকে দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারেনি। প্রশাসন, নীতিনির্ধারণ এবং কূটনীতিতে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা মনে রেখে তিনি নতুন করে ক্যারিয়ার বদলের সিদ্ধান্ত নেন।
২০০৮ সালে বার্কের চাকরি ছেড়ে তিনি ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন নিধি তেওয়ারি।
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পথে অনেক বাধা ছিল। ২০১২ সালের পরীক্ষায় তিনি ওয়েটিং লিস্টে ছিলেন। কিন্তু এতে তার মনোবল ভেঙে যায়নি এবং তিনি আবার প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
অবশেষে ২০১৩ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তিনি সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৯৬তম স্থান অধিকার করেন। এই ফলাফলের ভিত্তিতে তিনি ভারতীয় ফরেন সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান এবং ২০১৪ ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে কূটনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন।
আইএফএস কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সময় তিনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলিতে তিনি কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
পরে পিএমওতে যোগ দেওয়ার পরও তিনি পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কাজ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়েও তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তোলে বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ২৯ মার্চ নিধি তেওয়ারিকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেয় ভারতের অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি অব দ্য ক্যাবিনেট। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, লেভেল-১২ পে ম্যাট্রিক্সে তার এই নিয়োগ কার্যকর হয়।
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি অঙ্গরাজ্যের স্কুলে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ, বিকল্প সুবিধার দাবি।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সমন্বয়, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এবং সরকারি কার্যক্রমে সহযোগিতা করা, বিভিন্ন নীতিগত এবং প্রশাসনিক বিষয়ে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এ পদে থাকা কর্মকর্তাদের বিশেষ ভূমিকা থাকে।
একজন বিজ্ঞানী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে ইউপিএসসির মাধ্যমে কূটনীতিক হওয়া এবং পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছানো নিধি তেওয়ারির ক্যারিয়ার প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে উঠছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা আরও জোরদার করতে মাদক ও জুয়া নির্মূলে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ পরিহার করে পুলিশ নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা এবং সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এর পরে, দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত মাদক ও জুয়াকে নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুতর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, জাতীয় সংসদের সব সংসদ সদস্য মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছেন। এছাড়া, মাদক নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়, মাদক নির্মূলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ট্রাইব্যুনাল ও এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গঠনসহ বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ছয় মাসে পুলিশ নিয়োগ কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয়করণ না করে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
পরে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে কমিটির কাছে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থাসমূহের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট খাতওয়ারি বিভাজন ও ব্যয় পরিকল্পনা এবং ২০২৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সব সংস্থার খাতওয়ারি বাজেট ও ব্যয় বিভাজনের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বাজেট ২৮ হাজার ৬৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ২ হাজার ৪৬০ কোটি ২১ লাখ টাকা।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মীর শাহে আলম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নুরুল ইসলাম এবং মো. আব্দুল বাতেন অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ