প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে লাওস ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
দেশটির রাজধানী ভিয়েনতিয়েনে বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ বৈঠক (এফওসি)-তে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ অনুরোধ করা হলে, লাওসের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দান করা হয়।
১৯৮৮ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ৩৮ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং লাওসের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী আনৌপার্ব ভংনোরকেও নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও লাওস প্রতিনিধিরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
কনস্যুলার সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টধারী নাগরিকদের জন্য লাওসের ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজ করার অনুরোধ জানানো হয়। ভিয়েনতিয়েন ইতিবাচক সাড়া দেয়। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও যাতায়াত বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়েও। দুই দেশ শ্রম সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রক্রিয়া শুরুর ব্যাপারে একমত হয়েছে।
এছাড়া সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক করার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়। জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, তরুণ কূটনীতিকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পর্যটন সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও একমত হয়েছে তারা।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর মসৃণ রূপান্তরের কৌশল ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশ একমত হলো যে, বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম। সেজন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়াতে এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের জাতীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও শিল্প চেম্বারগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং প্রতিনিধিদল বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের ওষুধ ও কৃষিপণ্যের বিষয়ে লাওস বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ লাওসের সমর্থনের জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে লাওসের অব্যাহত সমর্থন চাওয়া হয়।
বাংলাদেশের আসিয়ান খাতভিত্তিক সংলাপ অংশীদার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে (আরসিইপি) সদস্য হওয়ার উদ্যোগের প্রতি লাওস সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ ও লাওস ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও এর প্রভাব প্রশমন বিষয়ক কৌশল নিয়ে অভিজ্ঞতা ও সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের বিষয়ে তারা একমত হয়।
বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও লাওসের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা ফলাফলসংক্রান্ত একটি দলিলে স্বাক্ষর করেন। পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব ও তার প্রতিনিধিদলের সম্মানে লাওসের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী নৈশভোজের আয়োজন করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন