০৭:০৩ এম
দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রবিবার দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটি সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।
কেএমএ (কোরিয়া মেটিওরোলজিকাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) জানিয়েছে যে, ইয়াংসানে টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। এছাড়া ডেগু, বুসানসহ বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তীব্র দাবদাহের কারণে কর্তৃপক্ষ ২০টিরও বেশি স্থানে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। মানুষকে সব ধরনের খোলা জায়গার কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আরো সতর্ক করেছে যে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) ছাড়া ঘরের ভেতরে অবস্থানও বিপজ্জনক।
আরও পড়ুন: ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধিতে সীমিত পরিসরের বাজেটের পথে যুক্তরাজ্য
আবহাওয়া বিভাগ পরামর্শ দিয়েছে যে, মানুষ যেন দ্রুত শীতল পরিবেশে আশ্রয় নেয়। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া উচিত।
চরম গরমের কারণে অনেক মানুষ শপিং মল, ক্যাফে ও অন্যান্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। রাজধানী সিউলের এক বাসিন্দা মন্তব্য করেছেন, “বাইরে থাকার মতো কোনো পরিস্থিতিই নেই। তাই বাসা বা এসি থাকা জায়গাতেই থাকতে হচ্ছে।”
তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব খেলাধুলাতেও পড়ে। অতিরিক্ত গরমের কারণে চাংওন শহরে দক্ষিণ কোরিয়ার পেশাদার বেসবল লিগের একটি ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত দর্শক এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কেএমএ-এর তথ্য মতে, গত পাঁচ বছরে দেশে বছরে গড়ে তাপপ্রবাহের দিনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ১৯ দিনে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহসহ চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরো ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। চলতি বছরে প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো-র প্রভাবও এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন