বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:১৮ এম
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আব্দুল মান্নান নামে এক প্রবাসীকে মারপিট করে আহত করার পর, ৫ দিনের বেশি সময় ধরে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী, দুই ছেলে এবং শ্যালকের বিরুদ্ধে। পরে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রায়পুর থানায় মান্নানের ভাই সেলিম বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন– ভিকটিম মান্নানের ছেলে পারভেজ, মাহাজ, শ্যালক ফয়েজ এবং স্ত্রী পারভীন বেগম। ভিকটিম এবং অভিযুক্তরা উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের উত্তর কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের সঙ্গে ভিকটিম মান্নানের পারিবারিক এবং অর্থ সম্পদ নিয়ে দন্দ্ব ছিল, যার কারণে তারা প্রায়ই তাকে ভয়ভীতি দেখাতো।
১০ জুলাই রাতে অর্থসম্পদের লোভে তারা জিআই পাইপ দিয়ে মান্নানকে পিটিয়ে আহত করে, যার ফলে তার মাথার বাম পাশে ও নাক ফেটে যায়। চিকিৎসা না দিয়ে তাকে সেই অবস্থায় ঘরে আটকে রাখা হয়। এ ঘটনার পর যখন ভুক্তভোগীর ভাই সেলিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার ভাইয়ের সম্পর্কে জানতে চান, তখন অভিযুক্তরা জানান যে তিনি ঢাকায় আছেন।
তবে স্থানীয়রা বলেন যে মান্নান ওই বাড়িতেই আছেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মান্নানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে যে তার মাথার বাম পাশে ৪ টা সেলাই এবং নাকে ৩ টা সেলাই দেওয়া হয়েছে।
মো. সেলিম বলেন, ‘মান্নান আমার বড় ভাই। তিনি প্রায় ৩০ বছর প্রবাসে ছিলেন। তার অর্থসম্পদ রয়েছে। এই অর্থসম্পদের লোভে স্ত্রী, শ্যালক এবং সন্তানরা তাকে পিটিয়ে আহত করেছে। চিকিৎসা না দিয়ে তাকে ঘরে আটকে রেখেছে। আমি না আসলে তারা আমার ভাইকে মেরে ফেলতো। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৬ জুলাই তারিখে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ৬ জন, যার মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। সেদিন গুলির সামনে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের মৃত্যুর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ছাত্রনেতারা বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন, ১৬ জুলাই থেকেই আন্দোলন নতুন গতি পায়। সেদিন সারাদেশজুড়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় ৬ জন নিহত এবং কয়েকশ শিক্ষার্থী আহত হন।
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যে ছাত্র সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তিনি বলেন, ‘রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে? সেটা আমার প্রশ্ন। দেশবাসীর কাছেও প্রশ্ন। যে রাজাকার নাতিপুতিরা সবকিছু পাবে, মুক্তিযোদ্ধারা পাবে না।’
সেদিন রাত থেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে জড়ো হতে শুরু করেন। শেষে মধ্যরাতে হলের গেট ভেঙে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে আসেন। ছাত্রলীগের বাধা উপেক্ষা করে মেয়েরাও হলের তালা ভেঙে আন্দোলনে অংশ নেন। শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ক্যাম্পাসজুড়ে স্লোগান ওঠে। সেদিনই প্রথম রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহার করা হয় এবং ছাত্র সমাজ শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দেয়।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপকে এমন একটি স্লোগান তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়, যাতে শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে তুলে ধরা যায়। তৎকালীন জিয়া হল ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সমন্বয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক রিজভী আলম রাজু প্রথম স্লোগান দেন-‘তুমি কে, আমি কে? রাজাকার, রাজাকার। কে বলেছে, কে বলেছে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার।’
এরপর আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেয়ার চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ। ১৫ জুলাই সকাল থেকেই ছাত্রলীগ ও সরকারের মন্ত্রীরা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেন। তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে রাজাকার যারা হতে যাবে, তাদের কোনো দাবি মানা হবে না।’
সেদিন দুপুর থেকেই ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের খুঁজতে থাকে। বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয় এবং বিভিন্ন স্থানে গুলিও ছোড়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামি ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ জানান, হাসপাতালে হামলার ঘটনায় জড়িতদের প্রতিরোধের পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী ঢাকার কয়েকটি এলাকায় গিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
১৫ জুলাই রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হয়ে ওঠে। ওই রাতেই বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগের কর্মীদের বের করে দেয়া হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মতে, সেদিন থেকেই আন্দোলন নতুন দিকে মোড় নেয়। আরো পড়ুন: আবু সাঈদের সেই দৃশ্য ছিল জাতির ভয় জয়ের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর সব বাধা ভেঙে যায়। ওই রাতেই প্রতিটি হলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্রলীগকে হলগুলো থেকে বিতাড়িত করা হয় চূড়ান্তভাবে। ১৬ জুলাই সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ শুরু হয়। অধিকার আদায়ের দাবিতে বুক উচু করে দাঁড়িয়ে যান রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ। বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আবু সাঈদ।
একই দিনে চট্টগ্রামে নিহত হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্রলীগ আবারও হামলা করে। মূলত ১৬ জুলাই আন্দোলন নতুন মোড় নেয়। সেদিনেই সারাদেশে ৬ জন নিহত হন। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলেন, আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের মৃত্যু আন্দোলনে নতুন গতি আনে। এরপর আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।
ইসলামি ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদ হোসেন বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ এবং দুই হাত প্রসারিত করে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য আন্দোলনের একটি প্রতীকী মুহূর্তে পরিণত হয়। এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব রিফাত রশিদ জানান, আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের মৃত্যুর খবর একসঙ্গে পাওয়ার পর তারা বুঝতে পারি, আন্দোলন আর শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সামনে আরও বড় পরিসরে ভাবতে হবে। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ১৫ জুলাইয়ের ঘটনার ধারাবাহিকতায় ১৬ জুলাই থেকেই মূল গণঅভ্যুত্থানের গতি শুরু হয়। এদিকে, ১৬ জুলাই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এক প্রজ্ঞাপনে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষ নার্সের সংকট নিরসন ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আধুনিক নার্সিং কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রায় ৩৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করার পরও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় অরক্ষিত ভবনটি এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন কলেজ ক্যাম্পাসজুড়ে জন্মেছে ঘন আগাছা ও লতাপাতা। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে পড়ে রয়েছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে থাকলেও সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোনো নিরাপত্তাকর্মী কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেই। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দিনের বেলায় এই স্থানটি অত্যন্ত নির্জন থাকলেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত মাদকসেবীদের আসা-যাওয়া থাকে। দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকায় ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার বড় বাহাদুরপুর ও বড়দোয়ালী মৌজায় ২০২১ সালের ১০ মার্চ নার্সিং কলেজ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়াভিত্তিক দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই (জেভি)—যৌথভাবে প্রকল্পটির দায়িত্ব পায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। তবে সময়মতো কাজ সম্পন্ন না করায় প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, "সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো শ্রমিক বা প্রকৌশলীকে এখানে দেখা যাচ্ছে না। এখন ভবনটি এলাকার বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।"
আরেক বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, "দিনে জায়গাটি নির্জন থাকলেও রাতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। নিরাপত্তার অভাবে সাধারণ মানুষ সন্ধ্যার পর এ এলাকায় আসতে ভয় পান। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে কলেজটি চালু করা জরুরি।"
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শিবচর উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল খায়ের খান বলেন, "দেশে দক্ষ নার্সের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করে কলেজ চালু করা গেলে একদিকে দক্ষ জনবল তৈরি হবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবার মানও উন্নত হবে।"
এ বিষয়ে মাদারীপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, "অবশিষ্ট নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে ১.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।
এই চুক্তির আওতায়, সৌদি আরব ১০ হাজারটি এয়ার-টু-এয়ার গাইডেন্স সেকশন এবং ১০ হাজারটি এয়ার-টু-গ্রাউন্ড গাইডেন্স সেকশন কিনতে চেয়েছে। এসব প্রযুক্তি ক্ষেপণাস্ত্রকে আরও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সহায়তা করবে।
চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে বিএই সিস্টেমস কাজ করবে। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১৫ জন সরকারি কর্মকর্তা এবং ১৫ জন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে সৌদি আরবে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। তারা সামরিক কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজে সহায়তা করবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উল্লেখ করেছে, এই অস্ত্র বিক্রি সৌদি আরবের নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে, যা আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বজায় রাখতে সাহায্য করবে, সেইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্র দেশের বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবছে।
এছাড়া সৌদি আরব বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে। এই নতুন অস্ত্র ব্যবস্থা দেশটির বিমানবাহিনীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং শত্রু বিমান ও স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সক্ষমতা উন্নত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফাইনালের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে ইংল্যান্ড। এই পরাজয়ে দেশটির সাবেক খেলোয়াড়রা কোচ থমাস টুখেলকে সমালোচনার শিকার করছেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার কারণে ইংল্যান্ডের এই দশা।
এদিকে, টুখেল নিজে জানিয়েছেন যে, তিনি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো ‘আক্ষেপ নেই’। তার বক্তব্য, সমস্যাটি কৌশলগত কাঠামোর কারণে হয়নি।
টুখেল বলেন, "আমরা অবশ্যই দ্বিতীয় গোলটি পেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয়নি আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় নামানোতে কোনো লাভ হবে। আমরা আমাদের ৪-৪-২ ছকে খেলেছি। কিন্তু আমরা ক্রমশ আরও বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ছিলাম।"
ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ওয়েইন রুনি, অ্যালেন শিয়েরার এবং জো হার্ট কোচের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হওয়ার বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। ম্যাচ-পরবর্তী আলাপচারিতা করতে গিয়ে ওয়েইন রুনি বলেন, লিড নেওয়ার পর আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় তুলে রক্ষণাত্মক ফুটবলার নামানো ছিল টুখেলের সবচেয়ে বড় ভুল।
রুনি এর সঙ্গে যোগ করেন, "আপনি যদি একজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হন এবং ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যানেজারের পরিবর্তনগুলো দেখেন, তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। কতবার আর এভাবে পার পাওয়া যায়? তখন আপনি চিন্তা করতে শুরু করবেন, ‘ওহ না, আমরা কি এতক্ষণ রক্ষণভাগে সময় কাটাব? এভাবে আমরা ম্যাচটি শেষ করব কীভাবে?"
সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, "থমাস টুখেলকে আমরা যতটা প্রশংসা করেছি, যেভাবে তিনি দ্রুত পরিবর্তন এনেছেন তাতে মনে হয় তিনি তার দলের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁকে মনে হয়নি তারা আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অধিক আক্রমণ চালাতে পারবে।"
ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার অ্যালেন শিয়েরারও এ বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন যে, টুখেলের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, "কোচ খুব দ্রুত তার কৌশল পরিবর্তন করেছিলেন। আশা ছিল এভাবে রক্ষণ সামলে ম্যাচ বের করে নেবেন, কিন্তু তার সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ