প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষ নার্সের সংকট নিরসন ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আধুনিক নার্সিং কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রায় ৩৩ কোটি ২৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করার পরও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় অরক্ষিত ভবনটি এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন কলেজ ক্যাম্পাসজুড়ে জন্মেছে ঘন আগাছা ও লতাপাতা। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে পড়ে রয়েছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে থাকলেও সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কোনো নিরাপত্তাকর্মী কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেই। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দিনের বেলায় এই স্থানটি অত্যন্ত নির্জন থাকলেও সন্ধ্যার পর নিয়মিত মাদকসেবীদের আসা-যাওয়া থাকে। দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকায় ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার বড় বাহাদুরপুর ও বড়দোয়ালী মৌজায় ২০২১ সালের ১০ মার্চ নার্সিং কলেজ নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়াভিত্তিক দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই (জেভি)—যৌথভাবে প্রকল্পটির দায়িত্ব পায়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ৮৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। তবে সময়মতো কাজ সম্পন্ন না করায় প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, "সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো শ্রমিক বা প্রকৌশলীকে এখানে দেখা যাচ্ছে না। এখন ভবনটি এলাকার বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।"
আরেক বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, "দিনে জায়গাটি নির্জন থাকলেও রাতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। নিরাপত্তার অভাবে সাধারণ মানুষ সন্ধ্যার পর এ এলাকায় আসতে ভয় পান। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে কলেজটি চালু করা জরুরি।"
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শিবচর উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল খায়ের খান বলেন, "দেশে দক্ষ নার্সের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করে কলেজ চালু করা গেলে একদিকে দক্ষ জনবল তৈরি হবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবার মানও উন্নত হবে।"
এ বিষয়ে মাদারীপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, "অবশিষ্ট নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন