বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১১:৫৮ এম
পাবনার ঈশ্বরদীতে ট্রাকের চাপায় বাহারুল ইসলাম (৩৬) নামে এক স্কুটি আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে পাবনা-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের ঢুলটি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাহারুল মুসলিম ঈশ্বরদী পৌরসভার মাহাতাব কলোনি এলাকার মৃত আকিল উদ্দিনের সন্তান ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র মতে, বাহারুল শ্বশুরবাড়ি থেকে স্কুটি চালিয়ে পাবনা-ঈশ্বরদী সড়ক ধরে বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন। পথিমধ্যে ঈশ্বরদীর ঢুলটি এলাকায় তিনি একটি ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন। এসময় ওই ট্রাকের চাকার নিচে পড়ে গিয়ে পিষ্ট হয়ে তিনি মারা যান।
ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর মীর আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, বাহারুল ইসলাম নিজে একজন ট্রাকচালক ছিলেন। স্কুটি চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের চাপায় তার মৃত্যু ঘটেছে। তিনি আরও জানান, ঘাতক ট্রাকের কোনো সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া হাটে চিংড়িতে জেলি মিশিয়ে বিক্রির অপরাধে, ভ্রাম্যমাণ আদালত একটি ব্যবসায়ীকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এসময়, জেলি মিশ্রিত ৮ কেজি চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ঝলমলিয়া হাটে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এই অভিযান পরিচালনা করেন পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাশ।
অভিযানের সময় চিংড়িতে জেলি ব্যবহার করে বিক্রির অপরাধে মো. আরিফুল ইসলামকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি ঝলমলিয়া এলাকার মৃত জলিল মন্ডলের ছেলে।
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান জনস্বার্থে অব্যাহত থাকবে।
এসময় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডা. দীপু মনি, যিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী, ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ঢাকার কলাবাগানের তার বাসায় পৌঁছান। সেখানে মৃত স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের শেষবারের মতো মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে严깐 নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সকাল সোয়া ৯টায় দীপু মনি কলাবাগানের বাসায় পৌঁছান।
বাসায় পৌঁছে তিনি প্রিজন ভ্যানে থাকা স্বামী তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ দেখে অশ্রুসিক্ত হয়ে যান। এসময় স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ নেমে আসে।
দীপু মনির পক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল জানিয়েছেন, কলাবাগানে এই বাসাটিতেই দীপু মনির সঙ্গে তৌফিক নেওয়াজের প্রথম দেখা হয়েছিল। মরদেহটি পরবর্তীতে গুলশান আজাদ মসজিদে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজার পর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) দীপু মনিকে প্যারোলে মুক্তির জন্য মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন তার মেয়ে তনী দীপাভলী নেওয়াজ। আবেদনটি গ্রহণ করে তাকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। প্যারোলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন।
তথ্য মতে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে ডা. দীপু মনি গ্রেপ্তার হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে বিরোধের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সব রুটে বাস এবং ট্রাকের চলাচল বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে একটি শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা কর্মবিরতি শুরু করার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলাচলকারী বাস থেকে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয়ের জন্য চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে।
এরই জেরে, গত মঙ্গলবার মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীদের বিরুদ্ধে কয়েকজন বাস শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়টি নিয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে পুলিশ তত্ত্বাবধানে দুই শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও সেখানে কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
এরপর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা কর্মবিরতি শুরু করতে থাকেন। এ কারণে জেলার সব রুটে বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সংগঠনটির সদস্যরা পিকেটিং করে যানবাহন চলাচলে বাধা প্রদান করেন।
জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান জানান যে, দীর্ঘদিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নামে একটি সংগঠন সড়কে বাস আটকে বেআইনিভাবে চাঁদা আদায় করে আসছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে তাঁদের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ জুলমত বলেন, তাঁদের সংগঠন শুধুমাত্র নিয়ম মেনে বাস থেকে চাঁদা আদায় করছে। অন্যদিকে ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন ট্রাক ও বাস থেকেও চাঁদা আদায় করছে, যদিও বাস থেকে চাঁদা নেওয়ার অনুমতি তাদের নেই।
তিনি এই বিষয়গুলো নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে ছয় দফা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি বলে উল্লেখ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একরামুল হক জানান, দুই সংগঠনের বিরোধ নিরসনে বুধবার রাতে পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে। এক ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনা চলার পরেও দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, বৈঠকে সমঝোতা না হলেও সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করা যাবে না, এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দুই সংগঠনের নেতাদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলকাতার আবাসিক হোটেল ‘শিখা ইন’এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জন নিহত হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাতে কলকাতার এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
তবে হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবু জাফরের পাশাপাশি আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের নাম এবং পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত দুজনের মধ্যে হোটেল 'যাপন' এর একটি কর্মী রয়েছে, যা ‘শিখা ইন’ এর সংলগ্ন।
মঙ্গলবার গভীররাতে ‘শিখা ইন’ হোটেলে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যেখানে ৯ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি। নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং পরে তা আশেপাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সময় হোটেলের অতিথিরা ঘুমিয়ে ছিল এবং হোটেলের ঘরগুলো ধোঁয়ায় ভরে গেলে আতঙ্কিত অতিথিরা ছুটাছুটি শুরু করে।
কলকাতার ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর ওই হোটেলের কাছে অবস্থিত। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। নিউ মার্কেট থানার পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের কর্মীরাও উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না। কেবল কালো ধোঁয়া গলগল করে বের হতে দেখা যাচ্ছিল। আগুন লাগার বিষয়টি বুঝতে পেরে হোটেলের অতিথিরা বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে, কিন্তু গলির মধ্যে ওই ভবনে প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথ খুব সঙ্কীর্ণ ছিল। সে সময়ে সেখানে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই ভবন থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে অনেকেই ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে পড়েছিল এবং তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ