নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
১১:১১ এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির রাস্তায় সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে একটি নতুন পুলিশ ইউনিট টহল শুরু করেছে। গত ডিসেম্বরে বন্ডাই বিচে ঘটে যাওয়া বন্দুক হামলার পর এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি অস্ট্রেলিয়ায় এই ধরনের উদ্যোগের প্রথম উদাহরণ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, নতুন ইউনিটটির নাম ‘সশস্ত্র প্রতিক্রিয়া কমান্ড’। এই ইউনিটটি বড় অনুষ্ঠান, জনসমাগমপূর্ণ স্থান, খেলাধুলার আয়োজন এবং উপাসনালয়ে টহল দেবে। পুলিশের উপস্থিতি যাতে সহজেই দৃশ্যমান হয়, সেই উদ্দেশ্যে টহল পরিচালনা করা হবে।
গত ডিসেম্বরে সিডনির বিখ্যাত বন্ডাই বিচে ইহুদিদের একটি উৎসবের অনুষ্ঠানে দুই ব্যক্তি গুলি চালান। এই ইহুদিবিদ্বেষমূলক হামলায় ১৫ জন নিহত হন। হামলাকারীরা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন।
নতুন ইউনিটটি গঠন করতে ৯ কোটি ৪০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার ব্যয় হয়েছে। ইউনিটটিতে ২৫০ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন, যাদের হাতে রয়েছে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত অ্যাসল্ট রাইফেল। অস্ট্রেলিয়ায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশের টহল খুবই বিরল, তাই নতুন ইউনিট গঠন দেশটির জন্য একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
ইউনিটটির প্রধান গোয়েন্দা সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ড্রু ইভান্স মন্তব্য করেছেন, বন্ডাই বিচের হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে, কোনো সশস্ত্র অপরাধী নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালালে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নতুন ইউনিটের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তারা উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সজ্জিত থাকবেন। প্রয়োজন হলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত থাকবেন।
তবে পুলিশের এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া। সংস্থাটি বলেছে, সিডনির রাস্তায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশের টহল চালুর সিদ্ধান্তটি গুরুতর কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তাদের মতে, পুলিশের কার্যক্রম ক্রমেই সামরিক রূপ নিচ্ছে কি না এবং মানবাধিকারের সুরক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে চুপ থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, অন্যথায় এক ঘণ্টা ধরে বক্তব্য দিতে হবে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, শেষ পর্যন্ত ৮৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক প্রায় নয় মিনিট কথা বলেন।
রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার পর খড়গে প্রায় ৩০ সেকেন্ড নীরব থাকেন। এ সময় সমাবেশস্থলে স্লোগান ও চিৎকারের পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্রের উচ্চ শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এতে বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যদি চুপচাপ বসেন, তাহলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করব। আর চুপ না থাকলে এক ঘণ্টা ধরে বক্তব্য দেব।’
সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি স্লোগান দেওয়া হয়। তবে খড়গের বক্তব্য ঘিরেও আলাদা আলোচনা সৃষ্টি হয়। কারণ, সপ্তাহখানেক আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে তাঁর একটি মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
রোববারের সমাবেশেও উপস্থিত কয়েকজনকে ‘মোদির বাবাও চলে যাবে’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। এর আগে বিহারের পাটনায় দেওয়া বক্তব্যে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন খড়গে। ওই মন্তব্যের জেরে বিজেপি তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায় এবং পাল্টা কর্মসূচিও ঘোষণা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে থাকে সরকার। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে চলতি বছরে ৭ নভেম্বর শনিবার পড়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাড়তি ছুটি ভোগের সুযোগ নেই।
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। এতে উপসচিব ওয়ালীউল দামান স্বাক্ষর করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে। তবে চলতি বছরে দিনটি শনিবার হওয়ায় এটি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গেছে। এ কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ছুটির সুযোগ থাকবে না।
এর আগে ৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে এবং এই দিনটিতে সরকারি সাধারণ ছুটি থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরাইলের নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন। তবে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, তার অভিযোগের পরও নির্বাচনের ফলাফল বহাল থাকবে।
কমিশনের প্রধান নোয়াম সোলবার্গ বলেছেন, "বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তা নির্বাচনি প্রক্রিয়া বা সামগ্রিক ফলকে প্রভাবিত করবে না।" এই সময় তিনি দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পর নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দলটি অভিযোগ করে যে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ভোট চুরি করেছে এবং কাতারের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছে, যদিও কাতার এই অভিযোগকে অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগে আটক তিন রাজনৈতিক কর্মীর মধ্যে দুজনকে পুলিশ মুক্তি দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ভোটারদের ঘুস দেওয়ার জন্য নগদ অর্থভর্তি খাম নিয়ে ছিলেন। একজনকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে এবং অন্যজনকে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক কর্মীদের সঙ্গে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম পার্টির সম্পর্ক রয়েছে। এবারের নির্বাচনে দলটি আটটি আসন পেয়েছে। দলটির নেতা মানসুর আব্বাস এই গ্রেপ্তারকে অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি নির্বাচনের ফলকে অবৈধ প্রমাণের জন্য পরিকল্পিত ও সংগঠিত প্রচার চালাচ্ছেন। এর আগে তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তবে, নির্বাচনের পর সরকার গঠনে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন লাভ করেছে। ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন সংখ্যা ১২০। ফলে, কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
এবারের নির্বাচনে তিনটি আরব নেতৃত্বাধীন দল মোট ১৯টি আসন পেয়েছে, যা দেশটির নির্বাচনে আরব দলগুলোর সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা। আইজেনকটের সঙ্গে আরব দলগুলো জোট গঠন করলে ৬৭ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। তবে, ইসরাইলের অনেকের কাছে এমন জোট রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সপ্তাহেই নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার কথা রয়েছে। এরপর দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের জন্য একজন প্রার্থীকে মনোনীত করবেন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ