০২:৫৪ এম
ফুটবল মাঠে ভাগ্য এবং ইতিহাসের মেলবন্ধন কতটা নাটকীয়ভাবে ঘটতে পারে, তা আজ ডালাস স্টেডিয়ামে বিশ্ববাসী দেখেছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ম্যাচের ৪১ মিনিট।
পর্তুগালের নুনো মেন্দেসের একটি বুলেট গতির শট যখন স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোর মাথা ছুঁয়ে জালের দিকে ছুটছিল, তখন স্প্যানিশ ভক্তদের মাঝে নিশ্চিত গোলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ছোট করে নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বলটি পোরো হেড দিয়ে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিল, তবে বলের গতি স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকেও ফাঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু বলটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসার ফলে স্পেনের কপাল দুর্দিনে বেঁচে যায়।
ঠিক তার পরের মিনিটেই, অর্থাৎ ৪২তম মিনিটে ইতিহাস নতুন করে রচনা করেছিল ‘লা রোহা’রা। সুইজারল্যান্ডের টাইমের ১৬ বছর পুরনো রেকর্ডটি ভেঙে এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় জাল অক্ষত রাখার অনন্য বিশ্বরেকর্ডটি স্পেনের দখলে।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
অবশ্য, পর্তুগালের বিপক্ষে এই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে নামার আগেই স্পেনের রক্ষণভাগের ঝুলিতে যুক্ত ছিল টানা ৫১৯ মিনিট গোল না খাওয়ার একটি কীর্তি। রেকর্ড স্পর্শ করার জন্য দরকার ছিল আরো ৪০ মিনিট। ম্যাচে নুনো মেন্দেসের ওই শটটি ক্রসবারে প্রতিহত হওয়ার পর ঠিক ৬০ সেকেন্ড পরে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
৪২ মিনিটে পা রাখার সাথে সাথে স্পেনের জাল অক্ষত থাকার সময়কাল দাঁড়ায় ৫৬০ মিনিটে, যা ভেঙে দেয় সুইজারল্যান্ডের ৫৫৯ মিনিটের পুরোনো বিশ্বরেকর্ড। প্রথমার্ধের বাঁশি বাজানোর আগ পর্যন্ত স্পেনের এই ‘ক্লিন শিট’ রেকর্ডটি গিয়ে দাঁড়ায় ৫৬১ মিনিটে।
বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি সময় কোন গোল না খাওয়ার আগের রেকর্ডটি এককভাবে ছিল সুইজারল্যান্ডের। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০১০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা তিনটি আসরে মিলিয়ে ৫৫৯ মিনিট নিজেদের জালে বল ঢুকতে দেয়নি সুইসরা।
স্পেনের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ ভাগে। সেখানেই মরক্কোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়সহ ১২০ মিনিট গোলহীন থাকার পর, চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ (২৭০ মিনিট) এবং নকআউট পর্বের পূর্ববর্তী ম্যাচেও প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন