০২:৩১ পি.এম
সাবেক স্ত্রীকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনিকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের জামায়াতের রুকন আবু বক্কর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশি তদন্তে তাকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পরে আত্মসমর্পণ করার পর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
পুলিশ গত বছরের ১৫ জুন সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র দিয়েছিল ওই বছরের ২৮ নভেম্বর। পুলিশের তদন্তে মূল আসামি এবং হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে আবু বক্করের নাম উঠে এলেও এতদিন তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গত সোমবার ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করতে আসার পর শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
আরও পড়ুন: মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, মাদারীপুরে ৭ বাড়িতে আগুন, ৪০ ঘরে ভাঙচুর-লুটপাট
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আমজাদ হোসাইন বলেন, আসামি আবু বকর সিদ্দিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
খুনের কারণ হিসেবে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, জামায়াত কর্মী আবু বকর আগে একাধিক বিয়ে করেছেন। সর্বশেষ সালেহা বেগম নামের একজনকে বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু সে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন।
নিহত সালেহা বেগমের পূর্বের স্বামী মারা গেছেন।
নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, আবু বকর একসময় কমলনগর উপজেলার পূর্ব চর মার্টিনের বালির পোলে সালেহা বেগমের বাড়িতে থাকতেন। সেখানে তার ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার দায়িত্ব নেন। সালেহার স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের অজান্তে তাকে বিয়ে করেন। এ সময় আবু বকরের গ্রামের বাড়ি কমলনগরের চর কালকিনিতে স্ত্রী ও পরিবার ছিল।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সম্মাননা পেলেন চার চালক
জানা গেছে, সালেহাকে বিয়ে করার পর টাকা নিয়ে তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে পালিয়ে যান। স্ত্রীকে তিনি তালাকও দিয়েছিলেন। মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, বিয়ের পর স্ত্রী সালেহার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন আবু বক্কর। এই টাকার দ্বারা জমি কেনার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে জমি না কিনে তিনি স্ত্রীর কাছে আরো টাকা গ্রহণের জন্য দাবি করেন। মূলত ওই টাকার কারণে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল। সালেহা টাকার জন্য চাপ দিলে আবু বকর তাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন এবং এজন্য ৫০ হাজার টাকায় মো. সেলিম নামের একজনকে খুনের প্রস্তাব দেন। চুক্তি অনুযায়ী সেলিম সালেহাকে হত্যা করেন।
হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের প্রক্রিয়া
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন কমলনগর উপজেলার মতিরহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে সালেহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর এক দিন আগে ১৫ জুন সালেহাকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় তার মেয়ে ফাতেমা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কমলনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সেলিম নামের এক ব্যক্তিকে গত বছরের জুলাই মাসে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দির পর পুলিশ একাধিকবার আবু বক্করকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
তবে তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৮ নভেম্বর এই মামলার অভিযোগপত্র দেয়। এতে উল্লেখ করা হয়, আবু বক্করের নির্দেশে সেলিম সালেহা বেগমকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে গলা টিপে হত্যা করেন। হত্যার পর সালেহার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে স্বর্ণালংকার নিয়ে সাভারে বিক্রি করেন। এক বছর আগের ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করে গত সোমবার কারাগারে যান স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক।
আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের হত্যা: গুরুদাসপুরের ওসি প্রত্যাহার, এমপি ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা
লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহ বলেন, আবু বকর বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কোনো পদে নেই। তবে তিনি অনেক আগে দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন