০৪:২৬ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল-কে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোনের অনুপ্রবেশের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিউলের একটি আদালত। শুক্রবার (১২ জুন), সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করে।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউন সুক-ইওল উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর উদ্দেশ্য ছিল দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি করা, এবং সেই পরিস্থিতিকে ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ঘোষিত সামরিক আইন জারির জন্য যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিপন্ন করার জন্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ইউন সুক-ইওলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিশেষ কৌঁসুলির সুপারিশ অনুযায়ী আদালত তাকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।
আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
একই মামলায় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিরক্ষা কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স কমান্ডের সাবেক প্রধান ইয়ো ইন-হিয়ংকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড, এবং ড্রোন অপারেশনস কমান্ডের সাবেক প্রধান কিম ইয়ং-দেকে তিন বছরের সাজা দেয়া হয়েছে, তবে সেটি পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে, অভিযুক্তরা সামরিক আইন জারির পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়াকে উসকানি দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এভাবে সীমান্তে সংঘাত বা জাতীয় নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করা হয়।
কিন্তু ইউনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ড্রোন অভিযানটি উত্তর কোরিয়ার আবর্জনাবাহী বেলুন পাঠানোর জবাবে পরিচালিত একটি বৈধ সামরিক অভিযান ছিল। তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিল করেছেন।
এদিকে, আদালত মনে করে যে, এই ড্রোন অভিযান দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত সম্পদ উত্তর কোরিয়ার কাছে উন্মুক্ত করে দিয়ে দেশের নিরাপত্তা স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
এটি মনে রাখতে হবে, সামরিক আইন জারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউন সুক-ইওল বর্তমানে একাধিক মামলার মুখোমুখি রয়েছেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, সামরিক আইন জারির মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি আপিল করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন