ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সিদ্ধেশ্বরীতে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর আটক


সিদ্ধেশ্বরীতে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর আটক

রাজধানীর রমনা থানাধীন সিদ্ধেশ্বরী বস্তিতে সাত বছর চার মাস বয়সী এক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৪ জুন) রাতে ঘটনার চার ঘণ্টা পর প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার জন্য থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ভুক্তভোগীর মা জানান, রাত ৯টার দিকে যখন ভুক্তভোগী শিশুটি বাথরুমে যায়, তখন সেখান থেকে তাকে ডেকে নিজের ঘরে নিয়ে যায় ওই কিশোর। জানা যায়, সে রাজধানীর একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের হাইকমিশনার ‘দ্য ফেস্টিভ ঢাকা এডিট’ প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন

পরে মেয়েটিকে খুঁজে না পেয়ে মা ডাকাডাকি শুরু করলে, একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোর শিশুটির মুখ চেপে ঘরের বাইরে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগীর মা আরও অভিযোগ করে জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত কিশোরের মা ও আত্মীয়-স্বজনেরা নানাভাবে বুঝিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। তবে তিনি তার স্বামীকে বিষয়টি দ্রুত জানিয়ে দেন।

জানা গেছে, শিশুটির বাবা সোহেল স্থানীয় একটি মার্কেটে দারোয়ানের চাকরি করেন। তিনি এসে পুরো বিষয়টি জানার পর স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ হলো যে, অভিযুক্ত এবং তার পরিবার এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবশালী। এ ঘটনার পর থানায় এসে উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারকে মামলা না করতে চাপ দেয়াসহ নানান হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তারা। এমনকি সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত তাদের এক আত্মীয়ের প্রভাবের ভয়ও ভুক্তভোগী পরিবারকে দেখানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দিলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সব নিয়ম মেনে ভুক্তভোগী শিশুকে মেডিকেল টেস্টের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন: ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বড় সুখবর দিল বিআরটিএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গভীর রাতে অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে ধরা ইমাম, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৬ এম


গভীর রাতে অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে ধরা ইমাম, অতঃপর...

খুলনার পাইকগাছায় এক মসজিদের ইমাম এবং মাদরাসার কর্মচারীকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করার ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে অভিযুক্তের চাকরিচ্যুতির দাবি জানান স্থানীয়রা।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে শান্তা বাজার সড়কে শিবসা সামাজিক যুব উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে অংশ নিতে আসেন স্থানীয় শতাধিক মানুষ।

বক্তারা অভিযোগ করেন যে, আলমশাহী মসজিদের ইমাম এবং শান্তা নুরুল হক দাখিল মাদরাসার কর্মচারী মোস্তাকুল মোড়ল দীর্ঘদিন ধরে এক গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয়দের দাবী, গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই গৃহবধূর স্বামী বাড়ি থেকে আপত্তিকর অবস্থায় মোস্তাকুলকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনকারী একজন ব্যক্তি যদি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তবে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই তারা অবিলম্বে তার চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানান।

এদিকে, ফকিরাবাদ শান্তা আলহাজ্ব নুরুল হক দাখিল মাদরাসার অধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম জানান, ঘটনার সম্পর্কে মোস্তাকুল মোড়লকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর প্রযোজ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত মোস্তাকুল মোড়ল বলেন, ঘটনার পর তারা এলাকায় বাইরে অবস্থান করছেন এবং নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন।

তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনও আলোচনা এবং সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, যদি তদন্তের পর যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

পরকীয়ার অভিযোগ, পুলিশি হস্তক্ষেপ, তালাক ও নতুন বিয়ে, সবকিছুর মিলনে পাইকগাছার এই ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এখন সবার নজর মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে রইলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ এম


কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইস্তিনাব মাহি (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত ১টা ৩২ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মাহির বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ‘রয়্যাল নিউফাউন্ডল্যান্ড কনস্ট্যাবুলারি’ (আরএনসি) সূত্রে জানা গেছে, সেন্ট জনস এলাকার মেয়র অ্যাভিনিউ ও নিউটাউন রোডের সংযোগস্থলের কাছে চারজন আরোহী নিয়ে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় গাড়িটি সড়কের পাশের বেলভেডিয়ার কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীরকে ভেঙে ভেতরে গিয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। তারা গাড়ির চার আরোহীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহিকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা অন্য তিনজন আহত হলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত মাহি চট্টগ্রামের মো. মহিব উল্লাহ ও পারভিন আক্তার দম্পতির সন্তান। মেধাবী এই শিক্ষার্থী ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তার মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী এবং কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধুরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করছেন।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাহির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারাল আইভরিকোস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ এম


শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারাল আইভরিকোস্ট

শেষ মুহূর্তে একটি গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে দিয়েছে আইভরিকোস্ট। ম্যাচের ৯০ মিনিটে আমাদ দিয়ালো গোলটি করেছেন।

ম্যাচটির আগে, ২২ মিনিট ও ২৮ মিনিটে দুটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ইকুয়েডর। তারা আইভরিকোস্টের গলপোস্টে বল মেরেছে। তবে, আইভরিকোস্ট গোল করার মতো তেমন ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। উভয় দলই বক্সে প্রবেশ করে শট নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাতে গোল হয়নি।

দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসেছে আইভরি কোস্ট। সোমবার ফিলাডেলফিয়ায় গ্রুপ ‘ই’-তে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকার গতিশীল দল ইকুয়েডর ছিল। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় শুরু হয়েছে।

এই গ্রুপে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ফেভারিট হিসেবে রয়েছে। ফলে, নকআউট পর্বের টিকিট পেতে নিজেদের প্রথম ম্যাচই দুই দলের জন্য বড় লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

আইভরিয়ান দলটি ইতিপূর্বে ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ এই তিনটি বিশ্বকাপ খেললেও তারা প্রতিবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। এখন তাদের লক্ষ্য ইতিহাস গড়ে যেকোন মূল্যে নকআউটে যাওয়া।

অন্যদিকে, ইকুয়েডর এবার তাদের ৫ম বিশ্বকাপ খেলছে। তারা ২০০৬ সালে কেবল একবারই শেষ ষোলোতে উঠেছিল। সেখানে তারা ডেভিড বেকহ্যামের ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল। এবারের বিশ্বকাপে আসার পথে তারা দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ঠিক পেছনে থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

এবং উল্লেখযোগ্য যে, আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডর এর আগে কখনো মুখোমুখি হয়নি। এটি বিশ্বকাপ তো বটেই, আন্তর্জাতিক পরিসরেও তাদের প্রথম লড়াই হতে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রান্তিক মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১১ এম


প্রান্তিক মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান

প্রান্তিক মানুষের আপনজন হিসাবে তারেক রহমান পরিচিতি পেয়েছেন।

 

তাদের কথা কেউ ভাবে না। পাঁচ বছরে একবার ভোটের সময় ছাড়া তাদের কাছে কেউ যায় না।

কেউ তাদের কষ্টের কথা শোনে না। আপন মানুষের মতো বলে না আমি তোমাদেরই লোক। বাংলাদেশের বিপুল প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এভাবেই অনাদরে, অবহেলায় বেঁচে থাকে। তাদের বিপদে, দুঃখ-কষ্টে কেউ পাশে থাকে না। অথচ তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এ দেশের মালিক তারা। নীরবে এরা ফসল ফলিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। এরা কষ্ট করে আমাদের জীবনকে সুন্দর করে। এই অবহেলিত মানুষের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আসে শুধু প্রয়োজনে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে খুব কম নেতাই তাদের কাছে গেছেন, তাদের কথা শুনেছেন। এখন এই মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটেছে। তারা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তারা খুঁজে পেয়েছেন তাদের আপনজন, কাছের মানুষ। তারেক রহমান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবদান অপরিসীম। তারা সেদিন জীবন দিয়ে মাতৃভূমি মুক্ত করেছিল এই আশায় যে, স্বাধীন দেশে তারা মানুষের অধিকার পাবে, পাবে মানবিক মর্যাদা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই তারা যেন অনাহূতই রয়ে যায়। তাদের জীবনে প্রথম আশার আলো দেখা যায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর। জিয়া রাজধানীকেন্দ্রিক রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছুটে বেড়ান তিনি। যেখানে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান তো দূরের কথা, জনপ্রতিনিধি পর্যন্ত যাননি, সেখানে যান শহীদ জিয়া। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছিন্ন করে সরাসরি তিনি প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছান। তাদের কথা শোনেন। জিয়াউর রহমানই প্রথম রাষ্ট্রনায়ক যিনি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের সুযোগ করে দেন। তাদের চাওয়া-পাওয়া শুনে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে শহরকেন্দ্রিক রাখেননি; তিনি গ্রামবাংলাকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা করেছেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি গ্রামে। তাই গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ, খাল খনন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন। ‘গ্রাম সরকার’ ধারণার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর শাসনামলে (১৯৭৭-১৯৮১) বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে সফর এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর এ সফরগুলো মূলত ‘নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার’ এবং ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত ছিল। জিয়াউর রহমান সারা দেশে ব্যক্তিগতভাবে গিয়ে, কোদাল হাতে খাল খাটা কর্মসূচির সূচনা করতেন। ১৯৭৯ সালে তিনি পাতলী খাল খননকাজের সূচনা করেছিলেন, যা ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার একটি বড় উদ্যোগ। তিনি উঁচুতলার রাজনীতির পরিবর্তে গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের কাছে যেতেন এবং বাজেট বা নীতিনির্ধারণে তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিতেন। গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট, কৃষি উৎপাদন এবং সেচব্যবস্থার উন্নতির জন্য তিনি সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে তদারকি করতেন। শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আবারও অবহেলিত হয়ে পড়ে। গ্রামীণ জনপদের মানুষ একজন আপনজন, বিশ্বস্ত বন্ধু হারায়।

ঠিক ৪৫ বছর পর প্রান্তিক মানুষ যেন আবার একজন আপনজন পেয়েছে, বন্ধুরূপে। তাঁর নাম তারেক রহমান। যিনি পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ছুটে চলেছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। প্রান্তিক মানুষের কাছে সরাসরি যাচ্ছেন। তাদের কথা শুনছেন। তাদের ক্ষমতা কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। এর ফলে বদলে যাচ্ছে রাজনীতি। তৃণমূলের কণ্ঠস্বর ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। এমনটা নয় যে, প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি প্রান্তিক মানুষের কাছে যাচ্ছেন। তারেক রহমান রাজনীতি শুরুই করেছিলেন তৃণমূলকেন্দ্রিক রাজনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে তারেক রহমান জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘তৃণমূল সম্মেলন’ আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতিতে এক নতুন ধারা সূচনা করেন। এসি কক্ষকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে গ্রামে গ্রামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কৃষকের সমস্যা শোনা এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার এ উদ্যোগ বিএনপিকে একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল থেকে তৃণমূলবান্ধব রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করতে সহায়ক হয়। এ সময়েই তারেক রহমানের রাজনীতির ভিত্তি শক্তভাবে গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করেই দল পরিচালনা শুরু করেন। স্কাইপ ও জুমসহ আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেন। এ সময় তিনি নেতাদের চেয়ে একেবারে তৃণমূলের কর্মীদের কথা বেশি শুনতেন। তাদের মতামতকে প্রাধান্য দিতেন। ফলে তিনি সাংগঠনিক বিষয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নিতেন, যা তৃণমূলকে উজ্জীবিত করত। বিগত ১৭ বছরে সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের পরও বিএনপি যে আরও শক্তিশালী হয়েছে তার প্রধান কারণ তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক রাজনীতি। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান তার পিতা শহীদ জিয়ার মতোই সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। সরকার পরিচালনা, সংসদের কার্যক্রমের অবসরে যখনই তিনি সুযোগ পাচ্ছেন ছুটে যাচ্ছেন একেবারে তৃণমূলের প্রান্তিক মানুষের পাশে। তাদের কথা শুনছেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। কক্সবাজার থেকে ঠাকুরগাঁও, ঠাকুরগাঁও থেকে চাঁদপুর অবহেলিত জনপদের মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শহীদ জিয়ার মতো তারেক রহমান উপলব্ধি করেছেন গ্রাম বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ। প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নই বাংলাদেশের উন্নয়ন। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তৃণমূল পেয়েছে তাদের আপনজন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%