০৯:৪৮ পি.এম
ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড (আইএনজেড) জানিয়েছে, ভারত থেকে প্রাপ্ত স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের অর্ধেকেরও বেশি বর্তমানে তারা প্রত্যাখ্যান করছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে করা আবেদনের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের ভিসা পরিচালক সেলিয়া কুম্বস 'রেডিও নিউজিল্যান্ড'কে (আরএনজেড) জানিয়েছেন, ভুয়া কর্মসংস্থানের অভিজ্ঞতা এবং ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দেওয়া— উচ্চ হারে ভিসা প্রত্যাখ্যানের অন্যতম প্রধান কারণ।
গত সপ্তাহে আরএনজেড-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, গত তিন মাসে বাংলাদেশ থেকে আসা পূর্ণ-ফি প্রদানকারী সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার লাফিয়ে ৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নিউজিল্যান্ডে শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে চীনের পরেই দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ৩৯ শতাংশে রয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কিউবা পরিকল্পনা, ইরান থেকে ফেরার পথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত
কুম্বস জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অভিবাসন ও স্টুডেন্ট ভিসা সংক্রান্ত সহজ নীতি এবং অন্যান্য দেশ শিক্ষার্থী গ্রহণ সীমিত করায়, অনেক বেশি মানুষ এখন এই দেশে পড়াশোনা করতে আসতে চাচ্ছেন।
তিনি বলেন, "বিশ্বের অন্যান্য দেশ তাদের অভিবাসন নীতি কঠোর করায় নিউজিল্যান্ডে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এদের মধ্যে যেমন আসল ও যোগ্য শিক্ষার্থী রয়েছে যাদের ভিসা অনুমোদিত হচ্ছে, তেমনই ভুয়া বা শর্ত পূরণে ব্যর্থ আবেদনকারীর সংখ্যাও বাড়ছে।"
কুম্বস আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে আবেদনের সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, "গত বছরের এই সময়ে নিউজিল্যান্ডে আবেদনকারী শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকাতেও বাংলাদেশ ছিল না। কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে, অর্থাৎ মাত্র ৪-৫ মাসের ব্যবধানে এটি আমাদের ইমিগ্রেশন সিস্টেমে তৃতীয় সর্বোচ্চ আবেদনকারী দেশ হিসেবে উঠে আসে।"
কুম্বস উল্লেখ করেছেন, কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ও ভুল তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, "সম্প্রতি যে জালিয়াতিটি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, তা হলো ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও দলিলের পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তির আসল অর্থ ও সঠিক কাগজপত্র ব্যবহার করে পরবর্তীতে বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে অন্য একাধিক শিক্ষার্থীর জন্য সেই একই তথ্য বারবার জমা দেওয়া হচ্ছে।"
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির মূল হোতা ইসরাইল, দাবি মিসর, সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের
"একপর্যায়ে আমরা প্রায় ৮৫টি আবেদন চিহ্নিত করি, যেখানে সম্পূর্ণ একই কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল," যোগ করেন তিনি। কুম্বস জানিয়েছেন, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে আসা আবেদনগুলোতেও একই ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশীয় বাজার থেকে আসা আবেদনগুলোতে যে ধরনের জালিয়াতি দেখা যায়, তার একটি বড় অংশ হলো কাজের ভুয়া অভিজ্ঞতা। সাধারণত পড়ালেখার মাঝের বিরতি (গ্যাপ) ঢাকতে কিংবা স্টাডি প্ল্যানকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে এসব ব্যবহার করা হয়।"
"এছাড়া বাংলাদেশে সক্রিয় কিছু 'ডিপ্লোমা মিল' (ভুয়া সনদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান)-ও আমাদের টিমের নজরে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ভিসা আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীদের ভুয়া শিক্ষাগত সনদ তৈরি করে দেওয়া হতো।"
"আমরা অনেক সময় আয়ের ভুয়া উৎস, জাল ভাড়া রসিদ ইত্যাদি দেখতে পাই। মূলত অর্থের প্রকৃত উৎস প্রমাণ করতে না পেরে অনেকে এভাবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে থাকে।"
আরও পড়ুন: ইতালিতে ১২ বার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি
তবে কুম্বস পরিষ্কার করেছেন যে, সব প্রত্যাখ্যাত আবেদনই যে জালিয়াতির কারণে বাতিল হচ্ছে তা নয়। শিক্ষার্থীরা যেন সঠিকভাবে বুঝতে পারেন তাদের ঠিক কী কী তথ্য প্রমাণ হিসেবে দিতে হবে, সেটি অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানিয়েছেন, ভুয়া আবেদন ধরা পড়লে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সে বিষয়ে সতর্ক করে, যাতে তারা দায়ী এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
কুম্বস জানিয়েছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতে আসা শিক্ষার্থীদের আবেদনের ঢল সামলাতে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সাথে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির অফার লেটার দেওয়ার আগে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তিনি বলেন, "আমাদের কাজ হলো যোগ্য শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দ্রুত তাদের আসার সুযোগ করে দেওয়া। তাই আমরা শিক্ষ খাতকে তাদের শিক্ষার্থী বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উন্নতি আনার আহ্বান জানিয়েছি। প্রয়োজনে ভিডিও ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে তারা যাচাই করে দেখতে পারে শিক্ষার্থীটি তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য এবং প্রতিষ্ঠানটি ওই শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত কি না। একই সাথে এজেন্টদের কার্যক্রমও তাদের পর্যবেক্ষণ করা উচিত।"
"শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি অফার লেটার দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও খানিকটা বিচক্ষণ ও সতর্ক হতে পারে, তবে পুরো ব্যবস্থাটি অনেক বেশি উন্নত ও কার্যকর হয়ে উঠবে।"
আরও পড়ুন: স্থল অভিযান চালালে ইরান বিদেশি সেনাদের কবরস্থানে পরিণত হবে: আইআরজিসি জেনারেল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন