০৭:৩৯ এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দেশের দুটি মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ হল, মার্কিন নাগরিকদের সংবিধানস্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে ফিলিস্তিনপন্থী অধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে।
বুধবার, ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে যে, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞাগুলো ফিলিস্তিন-সংক্রান্ত মানবাধিকার কার্যক্রমে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে অনেক মার্কিন নাগরিককে পেশাগত সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হতে হচ্ছে এবং সংবিধানসম্মত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে হচ্ছে।
মামলার অন্যতম বাদী ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ডেমোক্রেসি ইন দ্য আরব ওয়ার্ল্ড নাও (DAWN)-এর নির্বাহী পরিচালক ওমর শাকির মন্তব্য করেন, ট্রাম্প প্রশাসন মানবাধিকারকর্মীদের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি লাখো মার্কিন নাগরিকের রাজনৈতিক মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
আরও পড়ুন: ফ্লাভিও বলসোনারোর পাসপোর্ট বাতিল
নিউইয়র্কভিত্তিক ট্যাক্সপেয়ার অ্যালায়েন্স এগেইনস্ট জেনোসাইড-এর সঙ্গে যৌথভাবে দায়ের হওয়া ৪৩ পৃষ্ঠার মামলায় বলা হয়েছে, সংগঠন দুটি অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জমা দেওয়ার কাজে সহায়তা করেছে। তারা গবেষণা প্রকাশ, সম্মেলন আয়োজন এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তিনটি ফিলিস্তিনি বেসরকারি সংস্থা ও জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের সঙ্গে কাজ করেছে।
বাদীপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা বাক্স্বাধীনতা এবং সংগঠনের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে। কিন্তু ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বহাল থাকলে, এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট মার্কিন নাগরিকরা ফৌজদারি মামলা বা আর্থিক জরিমানা পাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়ার দুই দিন পরে এই মামলা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী আকিলা রাধাকৃষ্ণান বলেন, আইসিসিকে আইনি পরামর্শ দেওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হওয়ায় তিনিও আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করছে এবং বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষুণ্ন করছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের টেন্ডারে দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) প্রয়োগ করে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। কারণ, ওই আইনে অবাণিজ্যিক ব্যক্তিগত যোগাযোগকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার কথা বলা হয়নি।
বাদীপক্ষের আশঙ্কা, এইভাবে নির্বাহী বিভাগকে সাংবিধানিক এবং আইনি সীমা অতিক্রমের সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে ভিন্নমত দমনেও একই আইন ব্যবহার করা হতে পারে।
এই মামলায় বিবাদী হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের (OFAC) পরিচালক ব্র্যাড স্মিথকে।
এদিকে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাবেক নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ মন্তব্য করেছেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়া ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ উদ্বেগজনক। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগে সহায়তাকারী মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের হুমকি দেওয়া স্পষ্টতই অসাংবিধানিক।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণের প্রস্তাব ইউনেস্কোর
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন