১০:২০ পি.এম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বর্তমান সরকারের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ। তিনি জাতীয় সংসদে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি এবং পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান করেছিলেন, তাই এর মর্যাদা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং এই অপচেষ্টাগুলো রুখে দেওয়ার জন্য তিনি প্রত্যয়ী। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা উচ্ছৃঙ্খলতা সহ্য করা হবে না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের বিভিন্ন নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে তিনি ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যুর ওপর বক্তব্য রাখেন। বিরোধীদলীয় সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। কিছু বিরোধীদলীয় নেতা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গোল্ড মেডেল দাবি করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যারা অর্থ নিয়েছেন, তারা নিজ নামে টাকা নেননি। এই বিতর্কের সূচনা বিগত নির্বাচনের সময় থেকে হয়েছে। নির্বাচনে কিছু কিছু এলাকায় ক্যান্ডিডেটরা অবিশ্বাস্য পরিমাণ টাকা খরচ করেছেন। এমন অনেক প্রার্থী ছিলেন যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বা আয়ের উৎস গোপন, তবুও তারা নির্বাচনে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন।
আরও পড়ুন: সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটিয়া অপসারণের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলো সরকার
এমন অবৈধ ও অপ্রদর্শিত অর্থ যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করে, তখন তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়। বিরোধী দলের পিটিশনের বরাত দিয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সমালোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের মন্তব্য সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি তদন্ত করে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পায়নি।
মন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের কোনো ব্যাংকের গ্রাহকই চেয়ারম্যানের নাম দেখে টাকা জমা বা উত্তোলন করতে আসে না। গ্রাহকের মূল স্বার্থ থাকে তার আমানতের নিরাপত্তা এবং সঠিক লভ্যাংশ পাওয়ার ওপর। তাই চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২-৩ হাজার crore টাকা উত্তোলনের দাবি বিরোধী দল করছে, তা অবান্তর। প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে একটি উগ্র গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খল কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, কিছু অশুভ শক্তি ইসলামী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করছে। ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বিরোধী দল দাবি করে যে ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মুনাফা ১০৮ crore টাকা থেকে ১৩৭ crore টাকায় উন্নীত হয়েছিল; কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, এটি ছিল মূলত ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বা কৃত্রিমভাবে দেখানো মুনাফা। খেলাপি ঋণের বিপরীত বিশাল প্রভিশন পরবর্তী বছরের জন্য ডেফারেল সুবিধার মাধ্যমে এই মুনাফা দেখানো হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে ২০১৫ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ ৯৪ হাজার crore টাকায় পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকটি ৬৯ হাজার crore টাকার প্রভিশন ডেফারেল সুবিধা নিয়েছিল, যেখানে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ হাজার crore টাকায়। এর ফলে ২০২৬ সালের প্রথম দিকে ব্যাংকটি কোনো মুনাফা করতে পারেনি এবং প্রায় ২৬৮ crore টাকার নিট লোকসান গুনেছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, বিগত স্বৈরশাসকের সময় ইসলামী ব্যাংক দখল করা হলেও সাধারণ গ্রাহকরা তাদের আমানত তুলেননি। তাই এখন চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকরা টাকা তুলে যাচ্ছে, এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে এই ব্যাংকটিকে তার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক মহল দেশের মধ্যে ‘মবোক্রেসি’ বা উশৃঙ্খলতার সংস্কৃতি তৈরি করতে চাচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রবণতা রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২৬ পাচ্ছেন ১৪ জন: আমিনুল হক
অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রশংসা করে বলেন, দেশের সকল স্তরের মানুষ মনে করে দীর্ঘদিন পর একজন যোগ্য গভর্নর দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি নিয়মনীতি অনুসরণ করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তাকে ঋণগ্রস্ত বলে খাটো করার চেষ্টা যারা করছেন, তারা বাস্তবে ভালো কাজকে স্বীকৃতি দিতে চান না। সংসদে উপস্থিত প্রায় সব সদস্যই কোনো না কোনওভাবে গাড়ি, বাড়ি বা ব্যবসার প্রয়োজনেই ব্যাংকের কাছে ঋণগ্রস্ত। সুতরাং ঋণ থাকা কোনো অপরাধ নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন