ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

লেবাননে ইসরাইলের হামলায় নিহত ১১


লেবাননে ইসরাইলের হামলায় নিহত ১১

ঢাকা, ১০ জুন, ২০২৬ : দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক শহর টাইর ও এর আশপাশের এলাকায় ইসরাইলের বিমান হামলায় মঙ্গলবার ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে, শহরটি খালি করার নির্দেশ দেয় ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরাইলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এক বন্দুকধারী সেনাদের ওপর গুলি চালালে, তাকে তারা হত্যা করে।

টাইর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানায়, টাইর ছাড়াও দক্ষিণ লেবাননের আরও এক ডজনের বেশি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরাইল তার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টাইরের কাছে এক হামলায় তিন জন নিহত হন।

এতে দক্ষিণাঞ্চলে ওই দিনের মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে পৌঁছেছে।

ওই হামলায় আরও নয় জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন। এর আগে আট জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

সোমবার ইরান সতর্ক করে বলেছিল, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আবারও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করবে। এর একদিন পরই এ হামলার ঘটনা ঘটল।

তেহরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অবসানে যে কোনো সমঝোতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরাইলের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে লেবাননকে এ সংঘাতে জড়িয়ে ফেলে।

মঙ্গলবার হিজবুল্লাহ লেবানন কর্তৃপক্ষকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার আহ্বান জানায়। 

তাদের মতে, তেহরানের সমর্থন থেকে লেবাননের উপকৃত হওয়া উচিত। 

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম অস্বীকার করলেন হেফাজতের আমির বাবুনগরী

কয়েক দিন আগে দক্ষিণ বৈরুতে ইসরাইলি বোমাবর্ষণের জবাবে ইরান ইসরাইলে হামলা চালায়।

গত সপ্তাহে লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ইরানকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান। 

এর আগে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের সঙ্গে একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।

-বাসিন্দাদের সরে যাওয়া-

আরও পড়ুন: রীতা রানীকে মারধরের অভিযোগ, ফেসবুকে ছড়ানো তথ্য নিয়ে ডিএমপির মন্তব্য

এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ইসরাইলের সতর্কবার্তার পর টাইরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বাসিন্দারা শহর ছাড়তে শুরু করেন।

উত্তরমুখী সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়।

আরেক সংবাদদাতা জানান, টাইর থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষদের উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় শহর সিডনে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

অনেকেই তড়িঘড়ি করে গাড়ির ছাদে মালপত্র বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

আরও পড়ুন: দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড

মার্চের ২ তারিখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালানোর পর নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে টাইর শহরে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।

টাইর সিটি কাউন্সিলের সদস্য ওয়ালিদ আল-তাওয়িল বলেন, ‘এলাকাটি প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। কেউ মালপত্র গুছিয়ে চলেম যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার অনেকে ইতোমধ্যে চলে গেছেন। হাতে গোনা কয়েকজন এখনো রয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, অধিকাংশ মানুষ সিডন অথবা বৈরুতের দিকে চলে গেছেন।

জাহরানি নদী টাইর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তরে। গত মাসে নদীর দক্ষিণের সব এলাকাকে ‘যুদ্ধাঞ্চল’ ঘোষণা করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

আরও পড়ুন: বিজেপি সরকারের সমালোচনা করায় তিন কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার

-বাড়ছে হতাহতের সংখ্য-

এনএনএ জানায়, সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারির আগে টাইরের উপকণ্ঠে একটি হামলা চালানো হয়। পরে সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও শহরের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সতর্কবার্তার আগের ওই হামলায় অন্তত আট জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে তখনও জীবিতদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলছিল।

১৯৯০ সালে লেবাননের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর অন্যান্য সংগঠন অস্ত্র সমর্পণ করলেও হিজবুল্লাহ তা করেনি। 

বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করা ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে সংগঠনটি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৬৬ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লক্ষাধিক মানুষ।

অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননে ২৯ জন ইসরাইলি সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।

এপ্রিলের মাঝামাঝি প্রথম যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কোনো পক্ষই তা মেনে চলেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন-ইসরাইলি হামলা প্রতিরোধে উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব’ রয়েছে: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


মার্কিন-ইসরাইলি হামলা প্রতিরোধে উপসাগরীয় দেশগুলোর ‘আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব’ রয়েছে: ইরান

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণের প্রেক্ষাপটের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাধারণভাবে সতর্ক করেছে যে, মার্কিন এবং ইসরাইলি হামলা প্রতিরোধ করার বিষয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি ‘আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব’ আছে।

একটি বিবৃতিতে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং ইসরাইল যেন তাদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে বৈরী কার্যকলাপের পরিকল্পনা, সংগঠন, বাস্তবায়ন বা সমর্থন করতে না পারে, সেজন্য এই অঞ্চলের সকল দেশের (বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলবর্তী দেশগুলোর) আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।

একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার পর প্রতিবাদ হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর এই বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই হেলিকপ্টারটি গুলি করে ভূপাতিত করার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন।

এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ‘ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক হামলা’-কে ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের এক উপযুক্ত জবাব হিসেবে বিবেচনা করেছে। পরবর্তীতে সেন্টকম হামলার সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দিয়ে জানায়, এই হামলার ফলে হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভূমি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এসব হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং তাদের ভাষায় মার্কিন ‘আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকলে ‘আরও কঠোর জবাব’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কেউ জানিয়েছে যে, পরে তারা কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আরও হামলার ঘোষণা দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেনাপ্রধান বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আজ স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


সেনাপ্রধান বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আজ স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য নাম

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ আজ একটা স্বীকৃত এবং অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নাম। জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ ১৯৮৮ সাল থেকে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে।’ সেনাপ্রধান জানান, এই ধারাটি অব্যাহত থাকবে।

আজ বুধবার আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে ঢাকার সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সেনাপ্রধান। তিনি জানান, বর্তমানে শান্তি রক্ষার কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩ হাজার ৬০৮ জন, নৌবাহিনীর ৩০২ জন এবং বিমানবাহিনীর ২৬৭ জন, এবং পুলিশের ৩৫ জনসহ মোট ৪ হাজার ২১২ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯টা শান্তিরক্ষী মিশনে নিয়োজিত আছেন।

পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারী শান্তিরক্ষীরাও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের সর্বমোট ৩ হাজার ৯০৫ জন নারী শান্তিরক্ষী সফলভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ২৯৪ জন নারী সদস্য শান্তি রক্ষার কাজে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় নিয়োজিত আছেন।

সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তিরক্ষা মিশনের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের শান্তিরক্ষীরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ, নৈতিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা প্রমাণ রেখে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সদা প্রস্তুত আছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে তরুণদের যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে জান্তা, নতুন কৌশলে চাপ দিচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৪ পি.এম


মিয়ানমারে তরুণদের যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছে জান্তা, নতুন কৌশলে চাপ দিচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী

মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ নতুন এক মোড় নিল। সামরিক জান্তা নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশाली করার জন্য জোরপূর্বক তরুণদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার কৌশল ব্যবহার করছে- যার ফলে একসময় আক্রমণাত্মক থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এখন বাধ্য হচ্ছে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে চলে যেতে।

সম্প্রতি পাহাড়ঘেরা জঙ্গলে অবস্থিত একটি বিদ্রোহী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া চার তরুণের অভিজ্ঞতা এই পরিস্থিতির একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। তাদের মধ্যে কেউই যুদ্ধের সঙ্গে জড়াতে চাননি। একজন পেশায় রাঁধুনি ছিলেন, কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তখন সেনারা তাকে তুলে নেয়। অন্যজনকে আটক করা হয় গভীর রাতে বিনোদন শেষে ফেরার সময়। তৃতীয়জন বন বিভাগের চাকরিজীবী এবং চতুর্থজনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়।

১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী এই তরুণদের অভিযোগ থাকে, কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই তাদেরকে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে পাঠানো হয়। বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম করানো হলেও নিয়মিত সেনার কাজের তুলনায় তারা তুলনামূলকভাবে কম কাজ করতেন। চার মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে কারেন রাজ্যের ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়।

একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে পালানোর পথে পিপল'স ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এর একটি টহলের হাতে আটক হন। বর্তমানে তারা বিদ্রোহীদের সঙ্গেই অবস্থান করছেন এবং দাবি করেছেন যে- এখানে তারা শত্রু নয়, বরং আপনজনের মতো আচরণ পাচ্ছেন।

যুদ্ধের নতুন কৌশল- ২০২১ সালে অং সান সু চি-এর নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারে সংঘাত শুরু হয়। তবে ২০২৪ সাল থেকে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইন যুদ্ধের গতিপথকে বদলে দিয়েছে। বিদ্রোহী কমান্ডারদের মতে, এই নীতির ফলে জান্তা বাহিনী বিপুল সংখ্যক নতুন যোদ্ধা পাচ্ছে, যা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে অর্থ ও অস্ত্রের সংকটে ভুগছে বিদ্রোহীরা।

পিডিএফ এর একটি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সুবিধা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে টেকসই লড়াই চালানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

আধুনিক অস্ত্র ও কৌশলে এগিয়ে জান্তা- বিদ্রোহী নেতারা স্বীকার করছেন, অনিচ্ছায় যোগ দেওয়া সেনারাও ধীরে ধীরে সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে উঠছে। রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার ফলে জান্তা বাহিনীর বিমান শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এখন একাধিক যুদ্ধবিমান একযোগে হামলা চালাচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তিতেও তারা এগিয়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি চীনের মধ্যস্থতায় কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হওয়ায় প্রতিরোধ বাহিনীর সরবরাহ লাইন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

সংকটের মধ্যেও লড়াইয়ের ইচ্ছা- একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন বিদ্রোহী কমান্ডার জানিয়েছেন, ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে পা হারালেও তিনি আবার যুদ্ধে ফিরতে চান। তার ভাষায়, পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। সীমিত সম্পদ নিয়েও এই হাসপাতাল পরিচালনা করছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ডা. সং। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে তিনি আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা ও মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

যুদ্ধের মাঝেও জীবনের আলোর আঁকা- সব অন্ধকারের মধ্যে মানবতার কিছু ঝলক দেখা যায়। একই হাসপাতালে এক বিদ্রোহী দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করে একটি কন্যাশিশু। যুদ্ধের মধ্যে নবজাতকের আগমন যেন একটি টুকরো আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ‘সু পেয়ে’, যার অর্থ ‘পূরণ হওয়া ইচ্ছা’। বাবা-মায়ের স্বপ্ন হলো- একদিন যুদ্ধ শেষ হবে এবং তারা একটি শান্ত, স্বাধীন মিয়ানমারে তাদের সন্তানকে বড় করতে সক্ষম হবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জোহানেসবার্গে বন্দুক হামলায় প্রাণ হারালো ১২ জন, হাসপাতালে আরও ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৬ পি.এম


জোহানেসবার্গে বন্দুক হামলায় প্রাণ হারালো ১২ জন, হাসপাতালে আরও ৯

দক্ষিণ আফ্রিকার সর্ববৃহত শহর জোহানেসবার্গে ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণের ফলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য আরও অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতের সময়ে শহরের ক্লিভল্যান্ড এলাকার একটি বস্তিতে এই হামলা ঘটেছিল। হামলার ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে যে, একটি সাদা টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়িতে চল্লিশের বেশি সন্দেহভাজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এরপর তারা একটি পেট্রোল স্টেশন থেকে বস্তির মধ্যে ঢুকে দুই দিক দিয়ে একযোগে গুলি চালাতে শুরু করে। হামলার পর, তারা একই গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রাত ১১টা ১০ মিনিটে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান চালায়।

পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ৮ জন এবং নারী ৩ জন রয়েছে। ঘটনাটির পর আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। বিষয়টির তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলাকারী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

দ্রষ্টব্য, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের অন্যতম উচ্চ অপরাধপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। এখানে গড়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ হত্যার শিকার হয়ে থাকে, বিশেষ করে বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকায় গ্যাং সহিংসতা এবং ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে এধরণের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

তথ্য সূত্র : বিবিসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%