০৫:৩৭ এম
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনকভাবে মাটি গরম হয়ে উঠছে। টানা ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান প্রবেশ সড়কের একটি অংশে মাটি স্পর্শ করলেই তীব্র তাপ অনুভূত হচ্ছে। ঘটনাটি জানাজানির পর থেকেই উৎসুক মানুষ ঘটনা স্থলে ভিড় করতে শুরু করেন। অনেকেই মাটির নিচে কোনো অজানা রাসায়নিক বিক্রিয়া, বৈদ্যুতিক ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণে এই তাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে ধারণা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
খবর পেয়ে গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। প্রাথমিকভাবে তারা মাটির নিচে গর্ত করে পানি দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু বারবার পানি দেয়ার পরও উত্তপ্ত অংশের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: পাবনায় শ্রমিক লীগ ও বিএনপির দুই নেতাকে গুলি করে হত্যা
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু মাটির উপরিভাগ নয়, নিচ থেকেও তাপ অনুভূত হচ্ছে, যা বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। উত্তপ্ত স্থানে বারবার পানি দিয়েও তাপমাত্রা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। মাটির নিচ থেকেও তাপ অনুভূত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে তাপের উৎস সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের একটি দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রাথমিক তদন্তে কোনো ধরনের বিদ্যুৎ লিকেজ বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।’
গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘আমাদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে বিদ্যুতের কোনো ত্রুটি বা লিকেজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ভালুকায় হবিরবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি
এ দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুল রহমান মিয়া বলেন, ‘প্রথমে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। পরে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’
রহস্যজনক এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই জানা যাবে মাটির নিচে আসলে কী কারণে এই অস্বাভাবিক তাপ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান বলেন, রহস্যজনক এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টির কারণ অনুসন্ধান করা হবে।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে গণধর্ষণের অভিযোগ নিতে ওসির অস্বীকৃতি! উল্টো ভিকটিমকে ৭ বছরের জেলের ভয়!
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন