১১:১৩ এম
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞের উন্মাদনা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েছে। এই উন্মাদনায় শিক্ষার্থীরা শুধু বর্তমান সময়ের তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রকে নয়, ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ম্যারাডোনার গ্রাফিতি এঁকে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের কমনরুমের দেয়ালে ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি আঁকেন ভেটেরিনারি অনুষদের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক শান্ত। অন্যদিকে, ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের প্রতিকৃতি আঁকেন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ ফারাবি।
মেসি ও নেইমারদের পাশাপাশি পেলে ও ম্যারাডোনার উপর আঁকা দেয়ালচিত্র দুটি বাকৃবির বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ভিন্ন আমেজ ও আনন্দ সৃষ্টি করেছে। গ্রাফিতিগুলো দেখতে এবং ছবি তুলতে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে ভিড় করছেন নানা হলের শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফর ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ: রিজভী
পেলের গ্রাফিতি অঙ্কনকারী ব্রাজিল সমর্থক ফারাবি বলেন, 'আমার কাছে পেলে ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। তিনিই একমাত্র ফুটবলার, যাঁর হাতেই তিনটি বিশ্বকাপের ট্রফি উঠেছে। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে তাঁর কীর্তি অনন্য।'
প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার গ্রাফিতি তৈরির সময় এবং পরিশ্রমের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'পুরো কাজটি শেষ করতে আমার প্রায় তিন দিন ও তিন রাত লাগিয়েছি। প্রথম দিন স্কেচ করতে সময় লেগেছে। পরে রঙের কাজ করতে দুই দিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখানে প্রায় ১৮ ধরনের রং ব্যবহার করা হয়েছে। ক্লাস শেষ করে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিদিন কাজ করেছি।'
এদিকে, ম্যারাডোনার গ্রাফিতি আঙ্কনকারী আর্জেন্টিনা সমর্থক রেজওয়ানুল হক শান্ত জানান, 'প্রতি চার বছরে একবার বিশ্বকাপ এলে ক্যাম্পাসে উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। সেই আনন্দকে সবচেয়ে বেশি বাড়ানোর জন্য আমরা এই গ্রাফিতির উদ্যোগ নিই।'
শান্ত জানান, প্রায় ১১ ফুট উচ্চতার ম্যারাডোনার গ্রাফিতিটি আঁকতে তার দুই দিন লেগেছে। এতে জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও তাকে সাহায্য করেছে। হলের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অর্থায়নে গ্রাফিতির যাবতীয় খরচ বহন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন
শুধু শাহজালাল হলেই নয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হল, সোহরাওয়ার্দী হল ও ঈশা খাঁ হলের দেওয়ালেও শিক্ষার্থীরা ফুটিয়ে তুলেছেন বিশ্বকাপের নানা রঙ। তবে চলতি প্রজন্মের তারকাদের ভিড়ে পেলে ও ম্যারাডোনার এই গ্রাফিতি দুটি ক্যাম্পাসে নস্টালজিক হাওয়া আনছে। আঁকার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন এই দুই শিক্ষার্থী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন