বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৩ পি.এম
দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আটকা পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে, তেহরান সতর্ক করেছে যে, যদি দক্ষিণ কোরিয়া সামরিকভাবে জড়িত হয়, তবে দেশটির জন্য ‘গুরুতর পরিণতি’ অপেক্ষা করছে। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধে সহায়তা করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এই অবরোধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ৬৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, তেহরান এই সম্পর্কের গুরুত্বকে স্বীকার করে।
তবে, তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে, তবে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধ থেকে আত্মরক্ষা করছে। বাঘাই আরও বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে ইরান ‘আগ্রাসনকারীর প্রতি সরাসরি সমর্থন’ হিসেবে গণ্য করবে। তিনি এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য ‘গুরুতর পরিণতি’ সম্পর্কে সতর্ক করেন।
দক্ষিণ কোরিয়া এখনও ইরানের এই বক্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এখনও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে সিউল বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, যেখানে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
সুতরাং, সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে কেবল ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়া কেন জড়িত?
ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে রয়েছে। ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে সীমিত সহায়তা চেয়েছিলেন। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই নেতা ১৭ মে ফোনে কথা বলেছিলেন। ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে বলেছিল, “না, ধন্যবাদ।” তবে এরপর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে।
১৬ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার ঠিক আগের সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মহড়াটি উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট করা হবে। ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ বা ইউএফএস মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা। সাধারণত ১১ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এই মহড়া এবার কমিয়ে পাঁচ দিনে আনা হয়।
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে দাবি করেন, এসব মহড়া ব্যয়বহুল এবং এগুলো উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কাছে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ বার্তা পাঠায়। তিনি জানান, কিমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন তিনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন সংসদে বলেন, মহড়া কমানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি।
ট্রাম্প আরও প্রশ্ন তোলেন, কোরীয় উপদ্বীপে যখন হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, তখন দক্ষিণ কোরিয়া কেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করবে। এর পাশাপাশি, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা আরেকটি যৌথ সামরিক মহড়াও যুক্তরাষ্ট্র বাতিল করেছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে জুনেই একটি বিজ্ঞপ্তি পেয়েছিল। ওয়াশিংটন তখন মহড়া বাতিলের কারণ হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কারণে তৈরি সামরিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছিল।
দক্ষিণ কোরিয়া কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং একজন উদারপন্থী নেতা। তিনি উত্তেজনা কমিয়ে প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে নমনীয় নীতি গ্রহণের পক্ষে। তাই ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে না গিয়ে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। এর আগে প্রেসিডেন্ট লির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ‘অর্থপূর্ণ সংলাপ’ চালিয়ে যেতে চায়।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ সোমবার জানিয়েছে, ওয়াশিংটন সিউলের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা ইয়োনহাপকে জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সামরিকভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সিউল বিবেচনা করছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপে যেন দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই হবে প্রধান শর্ত।
ওই কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বেশ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে অসামরিক ও অনুসন্ধান-উদ্ধারকারী বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল পর্যালোচনা শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং চালকবিহীন মাইন শনাক্ত ও অপসারণের ব্যবস্থা।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ জনপ্রিয় নয়। দেশটির বিরোধী দল সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের বিরোধিতা করেছে। প্রেসিডেন্ট লির ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতর থেকেও কেউ কেউ সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করেছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক নাগরিকও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ করেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে থেকেও ইরান ইস্যুতে সামরিকভাবে কতটা জড়াবে, তা নিয়ে সিউলের সামনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কের ইতিহাস কী?
১৯৫০ সালের কোরীয় যুদ্ধের সময় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়াকে সমর্থন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও সামরিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে ওয়াশিংটন। যুদ্ধের পর করা চুক্তির আওতায় কোরীয় উপদ্বীপে এখনো প্রায় ২৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করতে দক্ষিণ কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আসছে।
এর বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়া বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দিয়েছে। ইরাক যুদ্ধসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়া অংশ নিয়েছে। দেশটি ন্যাটোর সদস্য না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। সিউল পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে আলোচনার পথ বেছে নেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে।
একই বছর সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি হুন্দাই কারখানায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর অভিযানে শত শত দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক গ্রেপ্তার হন। এই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর অক্টোবরে ট্রাম্প ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে দক্ষিণ কোরিয়া যান। চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট লিও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। একই সঙ্গে লি জে মিয়ং যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আবারও সংলাপ শুরু করার চেষ্টা করছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে দক্ষিণ কোরিয়াও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। এসব তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে দেশটিতে পৌঁছায়। যুদ্ধের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
এর প্রভাব পড়েছে দেশটির অর্থনীতিতেও। যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মুদ্রা ওন ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এ কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে সরাসরি জড়িয়ে পড়লে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, দেশের সামরিক বাহিনী বিদেশে মোতায়েন করতে হলে সরকারের সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে ক্ষমতাসীন দলেরই কিছু সদস্য সম্ভাব্য সামরিক মোতায়েনের বিরোধিতা করতে পারেন। ফলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে এখন বড় একটি কঠিন প্রশ্ন, জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় হরমুজ প্রণালিতে কতটা ভূমিকা নেবে। এ ছাড়া কীভাবে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এড়াবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের রাজপথ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের পরিচিত নাম সালেহা আক্তার ইতি। আসন্ন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে যার নাম এখন জনতার মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। সততা, নিষ্ঠা, উচ্চশিক্ষা এবং সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি ইতিময় পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। শুধু একজন প্রতিশ্রুতিশীল ও তরুণ রাজনীতিক হিসেবেই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিএনপির নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী সালেহা আক্তার ইতি তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেত্রী। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে বিগত ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলা শাখার সদস্য এবং ২০২২-২০২৩ মেয়াদে জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজপথে থেকেছেন সম্মুখ সারিতে। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি তিনি। শুধু আন্দোলন-সংগ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, দলের যেকোনো প্রয়োজনে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বাড়িয়ে দিয়েছেন আর্থিক ও মানসিক সহায়তার হাত। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি এক বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল।সালেহা আক্তার ইতির রাজনৈতিক রক্ত ও পারিবারিক ঐতিহ্য অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং বিএনপি পরিবারের সাথে গভীর রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ। তার শ্বশুর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী মিয়া ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং দলীয় রাজনীতিতে একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তার স্বামী রফিকুল ইসলাম স্বপন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক, জেলা যুবদলের সাবেক সম্পাদক এবং শহর যুবদলের সাবেক সভাপতির দায়িত্ব পালন করে রাজপথে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তার ভাসুর অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম রিপন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলার ডিস্ট্রিক্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি তাদের সন্তান আদনান ইসলাম নাফীও রাজপথের ছাত্রদলের একজন উদীয়মান ও সক্রিয় নেতা। পুরো পরিবারের এমন ত্যাগের পটভূমি তাকে জাতীয়তাবাদী দলের একজন নিখাদ ও আদর্শিক সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলেছে।
তবে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়েই সালেহা আক্তার ইতিকে সীমাবদ্ধ রাখা কঠিন। তার আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তার কর্মে, একজন প্রখ্যাত সমাজসেবিকা হিসেবে। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করার জন্য তিনি স্টার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপন করেছেন ‘মুক্ত পাঠাগার’। শিক্ষানুরাগী এই নেত্রী মনে করেন একটি শিক্ষিত ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ার জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
সামাজিক ও সামাজিক-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে তার অবদান সর্বজনবিদিত। টাঙ্গাইল সদরের বিভিন্ন মসজিদ নির্মাণে তিনি সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এলাকার এতিমখানাগুলোতে পিতৃহীন শিশুদের সুশিক্ষা ও জীবনধারণের সুবিধার্থে নিয়মিত নগদ অর্থ ও অনুদান পৌঁছে দিচ্ছেন। সেই সাথে বিভিন্ন হাফেজিয়া ও কওমি মাদ্রাসার সার্বিক পরিচালনা ও প্রসারে তিনি প্রতিনিয়ত নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ যোগান দিয়ে আসছেন। বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ চলাকালীন যখন পুরো দেশ স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। বিগত ২০২০ সালের কঠোর লকডাউনের সময় থেকেই তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ পৌঁছে দিয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে করোনা মহামারি থেকে রক্ষা করতে নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। বিপদের দিনে মানুষের জন্য তার এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ তাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে দিয়েছে।দলীয় নেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। বিগত ২০২৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে একটি মহিলা মাদ্রাসায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। দলীয় প্রধানের সুস্থতার জন্য তার এই একক উদ্যোগ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এছাড়া গত বছর জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কেক কেটে দলের জন্মদিন পালন করেছেন দলের একনিষ্ঠ আস্থাভাজন নেত্রী সালেহা আক্তার ইতি। তাছাড়া প্রতিটি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব-পার্বণেও পিছিয়ে পড়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের 'আইনবিরোধী' যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্ষোভ করেছে সাধারণ নাগরিক। দেশটির সরকারকে হরমুজ প্রণালিতে সেনা না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
সিউলে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ায় বিক্ষোভকারীরা। সেখানে লেখা ছিল, ‘আগ্রাসী যুদ্ধে যোগ দেবেন না।’ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীরা বলছে, আমাদের তরুণদের মৃত্যুর মুখে পাঠাতে পারি না।’
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দেখতে একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দল পাঠানোর কথা জানানোর এক দিন পর এই বিক্ষোভ হয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার বলেছে, সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতিতে সমস্যা না হলে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করার বিষয়টি বিবেচনা করবে তারা। তবে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া সেখানে সেনা পাঠালে তা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হবে। যার ফলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেছে। প্রাথমিক ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এই জলপথ দিয়ে মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ পার হয়েছে। আগের দিন সোমবার এ সংখ্যা ছিল নয়টি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
রয়টার্সের উদ্ধৃত কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২টি জাহাজ চলাচল করেছে। সেই হিসাবে মঙ্গলবারের জাহাজ চলাচলের সংখ্যা স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে ট্র্যাকিংয়ের এই সংখ্যা পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। কারণ সমুদ্রযাত্রার সময় কিছু জাহাজ নিরাপত্তা বা অন্যান্য কারণে তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখে। কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার চলাচল করা ছয়টি জাহাজের মধ্যে পাঁচটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে এবং একটি বের হয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে একটি পানাম্যাক্স ও একটি ইন্টারমিডিয়েট ট্যাংকার ছিল। সূত্র: আল-জাজিরা, আরব নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর বর্তমানে এটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
আইনি যাচাই সম্পন্ন হলে এসআরও নম্বরসহ প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে সেখানে প্রজ্ঞাপনটি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে জানান, পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে সরকারের পক্ষ থেকে অযথা সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
নতুন কাঠামোর বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে ভেটিংসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগছে।
নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানো হচ্ছে। ২০তম গ্রেডের বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।
তবে নতুন বেসিকের পুরোটা একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিন ধাপে বাড়তি বেতন মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিক কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেসিক বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে যথাক্রমে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা, ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২০ হাজার টাকা হবে মূল বেতন।
প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেসিক বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে মূল বেতন দাঁড়াবে যথাক্রমে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা, ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
নবম গ্রেডেও মূল বেতন দ্বিগুণ হয়ে ২২ হাজার টাকা থেকে ৪৪ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে এ গ্রেডের বেসিক দাঁড়াবে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা ও ৪৪ হাজার টাকা।
নতুন পে স্কেলে বাড়তি বেসিক কার্যকর হলেও সব ভাতা একই সময়ে নতুন হারে দেওয়া হবে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে নতুন কাঠামো কার্যকর করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। এতে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ সুবিধার আওতায় আসবেন।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, একবারে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর করা হলে সরকারের রাজস্ব ও বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ তৈরি হতো। এ কারণে রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি ও সরকারের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে বেতন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ