ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

জুলাইযোদ্ধা হওয়ার ২০০ আবেদনই ভুয়া


জুলাইযোদ্ধা হওয়ার ২০০ আবেদনই ভুয়া

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হওয়ার দাবি করে নতুন করে তিন হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। তবে যাচাই-বাছাইয়ে দেখা গেছে, প্রায় ২০০টি আবেদন সম্পূর্ণ ভুয়া। আরও প্রায় ৬০০ আবেদনে তথ্যগত অসংগতি পাওয়া গেছে এবং একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন ও শহীদের নামে আহত হিসেবে পুনরায় আবেদনসহ নানা অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়।

দৈনিক সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোট ২,৩৮৮টি আবেদন পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। তদন্ত শেষে ১,৫৯০ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে এবং তাদের গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তিনটি ক্যাটেগরিতে গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধার সংখ্যা ১৪,৩৭০। নতুন ১,৫৯০ জন যুক্ত হলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৫,৯৬০।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এখনও অনেকে আবেদন করছেন। যাচাই শেষে যদি তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায় তবে তারা জুলাইযোদ্ধা হিসেবে নথিভুক্ত হবেন। তবে যদি কেউ অসত্য তথ্য প্রদান করেন এবং গেজেটভুক্ত হন, তাহলে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: নতুন ভোটার হওয়া ও এনআইডি সংশোধনের নিয়ম জেনে নিন

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর পূর্বে গেজেট প্রকাশের সময় তালিকায় কিছু নাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। ১৩ জন শহীদ ও ২১৯ জন আহত ‘জুলাইযোদ্ধার’ নাম গেজেট থেকে বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে বিতর্ক এড়াতে আবেদনকারীদের তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের শুরুর দিকে ‘জুলাই শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধা’দের গেজেট প্রকাশের পর অনেকেই আহত ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি করে আবেদন করেন। বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২,৩৮৮ জনের আবেদনের তথ্য মাঠ পর্যায়ে যাচাই করেছে এসবি ও পিবিআই। গত বছরের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জুলাইযোদ্ধাদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তদন্তের অনুরোধ জানায়। নভেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গোয়েন্দা সংস্থা দুটিকে তদন্ত গঠন করে প্রতিবেদন প্রদান করতে নির্দেশ দেয়। এই বছরের জুন মাসে এসব সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, গেজেট প্রকাশের পর আরও ৩,৩১৬ জন আবেদন করেন। এর মধ্যে ২,৩৮৮ জনের আবেদন তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল, যাতে ১,৫৯০ জনের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৭৮৯ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২৭৬ জনের এমআইএসভুক্তির কাজ চলছে। নির্বাচন করার পরও ২১০ জনের যাচাই শেষ হয়েছে। সত্যতা পাওয়া অন্যান্য আবেদনগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

তবে তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ২০০ জনের আবেদন সরাসরি ভুয়া। বাকি প্রায় ৬০০ আবেদনের মধ্যে দুটি তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অমিল পাওয়া গেছে, একাধিক আবেদন একই ব্যক্তির এবং শহীদ হওয়ার পরও আহত হিসেবে আবেদন করেছেন এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব আবেদনের মধ্যে আরো একশ’র বেশি আবেদনের সত্যতা মিলতে পারে বলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের আহ্বান: পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হতে হবে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের হামলায় নিহতরা ‘শহীদ’ এবং আহতরা ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। যদি কাউকে জালিয়াতির মাধ্যমে শহীদ বা জুলাইযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়, তবে তাদের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা বা তার বেশি অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেন, আবেদনকারীরা সত্যিই জুলাই গণঅভ্যুত्थানে আহত হয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত করতে তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্যে আসলে যেন কোনো ‘ভুয়া জুলাইযোদ্ধা’ গেজেটভুক্ত না হন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে।

যেসব কারণে অনেকের আবেদন আটকে গেল, তার মধ্যে গত বছর ১৭ এপ্রিল জুলাইযোদ্ধা হিসেবে আবেদন করেন মো. নাছির উদ্দিন (৩৮)। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২২ জুলাই উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের হাউস বিল্ডিং এলাকায় বাঁ হাতের কনুইয়ে টিয়ারশেল ও লাঠির আঘাতে আহত হন, তবে তিনি উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হননি। তিনি আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করেছেন। কিন্তু কেন তিনি এখনও গেজেটভুক্ত হননি, তা তিনি জানেন না।

তবে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনে নাছিরের সম্পৃক্ততার কোনো ছবি বা ভিডিও নেই। তিনি ৫ আগস্ট জাতীয় পতাকা হাতে একটি ছবি দেখিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাছির ওই হাসপাতালে সহকারী প্লাম্বার হিসেবে কাজ করছেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবায় তিনি সহযোগিতা করেন। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন, তাকে আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত হবে সে বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ নেই। এছাড়া হাসপাতালের রেকর্ডেও তার নাম পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটে নতুন নিয়ম, লিখতে হবে যেভাবে

আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে মো. রিফাত ইসলাম নামে একজন আবেদন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, আহত হওয়ার ঘটনায় তার কোনো মামলা হয়নি। রিফাত যে ছবিতে বাঁ হাতে আঘাতের কথা বলেছেন, সেটিতে তার মুখাবয়ব স্পষ্ট নয় এবং দালিলিক প্রমাণ নেই। আহত হওয়ার পর তিনি কোনো হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেননি এবং আঘাত পাওয়ার ৮ থেকে ৯ দিন পরে কিছু চিকিৎসার জন্য ফার্মেসিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফার্মেসিরও কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। প্রায় এক বছর পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার কথা জানা যায়। রিফাতের বিরুদ্ধে একটি মামলায় সাজা ভোগের তথ্যও আছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিফাত দাবির প্রেক্ষিতে জানিয়েছেন যে তিনি ছাত্র আন্দোলনে আহত হয়েছেন। কিন্তু কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই। ডিসক্লোজারের হিসাবে রিফাত অন্য কারণে আহত হতে পারেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রালয়ের সূত্র জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ মো. আরাফাত হুসাইন। গত বছর ১৫ জানুয়ারি জারি করা গেজেটের মধ্যে তার নাম ৮২৬ নম্বরে রয়েছে। কিন্তু নগরের আহত ব্যক্তির তালিকা সংযোজনের জন্য তিনি আবারও আবেদন করেন। তদন্তে দেখা গেছে, এ কারণে তার আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

আবেদন যাচাই করতে গিয়ে রাজনৈতিক চাপ ও সামাজিক চাপ সহকারে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে কর্মকর্তারা, তাই এসবি ও পিবিআই দিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অংশ নেওয়া একটি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, নতুন আবেদনগুলোর মধ্যে সংখ্যা বেশি ঢাকা বিভাগ থেকে এসেছে। ঢাকা বিভাগ থেকে ৫৮২টি আবেদনের মধ্যে ঢাকা জেলা থেকে ৩৩৯টি করা হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে সবচেয়ে কম আবেদন ৫টি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনের অস্থিরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তদন্তের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর পরিচয়, ঠিকানা, পেশা, এনআইডি/জন্মনিবন্ধন, গেজেটভুক্ত হওয়ার পূর্বের তথ্য, আহত বা শহীদ দাবির ক্ষেত্রে মামলা ও তার অবস্থান, সাক্ষী, ছবি-ভিডিও, খবর ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি চিকিৎসার সময়, চিকিৎসাপত্র, চিকিৎসকের বক্তব্য এবং ঘটনার ভিডিও, অডিও, ছবি বা সামাজিক মাধ্যমে থাকা আলোচনা যাচাই করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে যে তালিকা পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। যাদের আবেদনপত্রের তথ্যে অসংগতি পাওয়া গেছে, সেগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত সোমবার অবধি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং গুরুতর আহত (ক শ্রেণি) ৯৯০ জন, গুরুতর আহত (খ শ্রেণি) ১,৪১৭ জন ও আহত (গ শ্রেণি) ১১,৯৬৩ জন জুলাইযোদ্ধার গেজেট প্রকাশ হয়েছে। স্বীকৃত আহতদের মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি এবং ময়মনসিংহে সবচেয়ে কম।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে এককালীন দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে এবং আরো ২০ লাখ টাকার অব্যহতি চলছে। এছাড়া প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন শহীদের পরিবার। ঢাকায় তাদের জন্য ফ্ল্যাট দেওয়ার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আহতদের জন্য ক শ্রেণির জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা এককালীন, খ শ্রেণির জন্য তিন লাখ টাকা এককালীন এবং গ শ্রেণির জন্য এক লাখ টাকা এককালীন সহায়তা করে মাসিক দশ হাজার টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন: সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় অনেকে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে, জুলাইযোদ্ধার তালিকা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ৫ আগস্টের আগের সড়ক দুর্ঘটনায় বা পরে মারা যাওয়া ব্যক্তিও তালিকায় নথিভুক্ত হয়েছেন। নতুন আবেদনকারীদের চাপের কারণে পুরো আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেকেই অন্য কারণে আহত হয়ে তালিকাভুক্তের চেষ্টা করছেন। তবে, এখনও অনেক প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা তালিকার বাইরে রয়েছেন। তদন্তে দেখা গেছে, ভুয়া আবেদনকারীদের পাশাপাশি প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের শনাক্ত করার কাজ সহজ হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জানান, নতুন আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে গেজেটভুক্ত করা হবে। গেজেট প্রকাশের পর যেন কোনো বিতর্ক না ওঠে, প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদেরকেই গেজেটভুক্ত হতে হবে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডেই বদলে গেল ম্যাচের চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডেই বদলে গেল ম্যাচের চিত্র

শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ৭৯ মিনিট পরিমাণ সময় ধরে ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের এক ঝড়ে পুরো ম্যাচের চিত্রই বদলে দেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্কালোনির শিষ্যরা।

আটলান্টায় শুরু থেকেই চাপের মধ্যে ছিল আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিসর। এরপর আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি লিওনেল মেসি। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করার পরেও তারা সমতায় ফেরার জন্য ব্যর্থ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে শুরু করে মিসর। ফাউলের কারণে একটি গোল বাতিল করা হয় সালাহদের। পরে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে মোস্তাফা জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিসর। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে মেসির আর্জেন্টিনার।

কিন্তু সেখান থেকেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন শুরু হয়। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমান। চার মিনিটের কিছু বেশি সময় পর সমতাসূচক গোল করেন মেসি নিজেই। এরপর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে জয়সূচক গোল আসে।

মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে তিন গোল করে আর্জেন্টিনা ম্যাচের গল্পই পাল্টে দেয়। প্রায় নিশ্চিত হার থেকে দুর্দান্ত এই জয় তুলে নিয়ে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায়।

রেফারি যখন ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজায়, তখন আবেগের কারণে ভেঙে পড়েন মেসি। এই কান্না জয়, আনন্দ এবং বিশ্বাসের নিদর্শন।

এই নাটকীয় ম্যাচের মধ্যে আর্জেন্টিনা আবারও প্রমাণ করেছে, চ্যাম্পিয়নদের সবচেয়ে বড় শক্তি কেবলমাত্র দক্ষতা নয়, বরং শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা। ম্যাচের গল্প যেকোন সময় বদলে দিতে পারে মেসির আর্জেন্টিনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাল্টা আক্রমণে ইরান, বাহরাইন-কুয়েতে ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৩ এম


পাল্টা আক্রমণে ইরান, বাহরাইন-কুয়েতে ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের পর এখন একটি বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে এবার পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার উপর একযোগে বিশাল আক্রমণ করেছে তারা।

ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌ এবং বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই অপারেশন সম্পন্ন করেছে। এই হামলায় প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার দাবি করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের ‘প্রাথমিক জবাব’। এর পূর্বে ইরানের হরমুজগন ও মাহশাহর এলাকার উপকূলীয় ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্টেশনে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরান এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। এছাড়াও, ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের আড়াল করার জন্য ওয়াশিংটন এই সময়টি বেছে নিয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

এদিকে, ইরানের বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মহবি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা লঙ্ঘনের জবাবে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়।

মার্কিন নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হার্লান উলম্যান আল-জাজিরাকে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। যেকোনো সময় এটি সমগ্র অঞ্চলে একটি বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তবে একটি বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ কোনও পক্ষের জন্যই ভালো হবে না। তাই পরিস্থিতি শান্ত রাখা দুই দেশের স্বার্থের অনুকূলে।

উল্লেখযোগ্য যে, গত ১৮ জুন দুই দেশ একটি যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে সই করেছিল। কিন্তু মাত্র ২০ দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার ইরানে প্রথম হামলা চালায় আমেরিকা। সেই হামলার পরেই ইরান এই ভয়াবহ পাল্টা জবাব দিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চবির সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৫ এম


দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চবির সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের কারণে আজ বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সব ক্লাস ও পরীক্ষাগুলো বন্ধ করা হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা আদেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থার দিকে লক্ষ্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একদিনের জন্য সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মেরুংয়ে সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মেরুংয়ে সংবাদ সম্মেলন, নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং এলাকায় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন যুব সমাজ এই মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানাচ্ছেন, সম্প্রতি এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করতে এলাকার কয়েকজন যুবক সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু পরে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। বক্তারা আশঙ্কা করছেন, এতে অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে আসা সাধারণ মানুষ নিরুৎসাহিত হবে।

তাদের বক্তব্য, যদি মামলা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়, তবে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যাবে না। তাই, সুষ্ঠু তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বক্তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, মেরুং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, যৌন অপরাধ ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এলাকাবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করেছেন, মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাটা অত্যাবশ্যক। তাঁরা আরও দাবি করেছেন, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে সচেতন যুব সমাজের পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা প্রদান, যুবকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রত্যাহার, মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পুনঃতদন্ত এবং মেরুং এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করা।

সংবাদ সম্মেলনে মেরুং এলাকার সচেতন যুব সমাজ জানাচ্ছে, তারা আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং কোনো অপরাধীকে রক্ষা করার পক্ষে নন। তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্টদের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%