০৪:১৩ পি.এম
সরকারি হাসপাতালে অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে, বেসরকারি প্রচারণার মাধ্যমে নিজেকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সার্জন হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
এটি বগুড়ার ২৫০ শয্যা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মোস্তাকিম বিল্লাহ জনির বিরুদ্ধে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কর্মস্থলের বাইরে প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন দিয়ে কিডনি, ব্রেস্ট টিউমার, পাইলস, অ্যাপেন্ডিক্স, সিজারসহ অন্তত ২০ ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রচারণা চালানো হচ্ছে তার নামে।
সম্প্রতি একটি অপারেশন থিয়েটারের ভিডিওতে ডা. মোস্তাকিমকে পাইলসের অস্ত্রোপচার করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে উপস্থিত এক বিশেষজ্ঞ সার্জনের সঙ্গে তার তর্কবিতর্কের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানা গেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নাসিরনগরে বিএনপির র্যালি, অংশগ্রহণের আহ্বান জামাল আহমদের
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন রোগীর পাইলসের অস্ত্রোপচার করছেন ডা. মোস্তাকিম বিল্লাহ জনি। ভিডিও ধারণকারী চিকিৎসক তাকে অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করে প্রশ্ন করেন, তিনি কিভাবে এ ধরনের অস্ত্রোপচার করছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটিও ঘটে।
ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কি না, তা জানতে অনুসন্ধান চালিয়ে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের একাধিক বেসরকারি ক্লিনিকে ডা. জনির চিকিৎসাসেবা ও প্রচারণার তথ্য পাওয়া যায়। তার নামে ব্যানার, ফেস্টুন, মাইকিং এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব প্রচারণায় কিডনি, ব্রেস্ট টিউমার, পাইলস, অ্যাপেন্ডিক্স, সিজারসহ অন্তত ২০ ধরনের অস্ত্রোপচারের কথা উল্লেখ রয়েছে।
ফলে, অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের একজন চিকিৎসক হিসেবে এসব জটিল ও বিশেষায়িত অস্ত্রোপচার করার জন্য তার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও স্বীকৃতি অর্জন করেছেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া, ডা. মোস্তাকিমের সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ের সঙ্গে তার বেসরকারি কার্যক্রমের কোনো সংঘাত রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে দুপুর ২টা থেকে রোগী দেখার প্রচারণা চালানো হলেও তার সরকারি কর্মস্থল বগুড়ায়। বিষয়টি যাচাই করতে তার বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
আরও পড়ুন: মধুপুরে টনসিল অপারেশনের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি, আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন
গত ১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫২ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ডা. মোস্তাকিমের উপস্থিতি রেকর্ড হয়েছে ৩৫ দিন। তবে, প্রতিদিনই হাসপাতালে প্রবেশের (ইনটাইম) ও বের হওয়ার (আউট টাইম) সময় একই, অর্থাৎ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উপস্থিতি থাকলেও কর্মঘণ্টা শূন্য দেখাচ্ছে।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. মোস্তাকিম বিল্লাহ জনি দাবি করেছেন, তিনি যেকোনো ধরনের সার্জারি করতে সক্ষম। এটি রোগীরা জানেন। উপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আমার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দেখবেন, আপনাদের (সাংবাদিক) জবাব দেওয়ার কিছু নেই।’
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, বগুড়ার সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ বি এম জাফর সাদিক বলেন, ‘অস্ত্রোপচার মানেই শুধু একজন চিকিৎসকের দক্ষতার প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে জড়িত রোগীর নিরাপত্তা, অ্যানেসথেসিয়া, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল। কারণ অপারেশন থিয়েটারে একটি ভুলের মূল্য একজন রোগীকেই দিতে হয়। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ডা. মোস্তাকিম নিয়মিত জটিল অস্ত্রোপচার করছেন- এমন তথ্য তাদের জানা নেই। ২৫০ শয্যা মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম বলেন, উনি (ডা. মোস্তাকিম) অপারেশন টিমের সদস্য, কিন্তু অপারেশন করতে পারেন না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের বিশাল শোডাউন ও পথসভা
বিএমএ বগুড়ার সদস্যসচিব ডা. মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘বিশেষায়িত ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের যোগ্যতা ও পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটালে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’
বিএমএ বগুড়ার আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আজফারুল হাবিব রোজ বলেন, ‘অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক যদি সার্জারি করে থাকেন, তা অনৈতিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া দরকার।’
বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি বা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়া বিশেষায়িত মেজর সার্জারি করা অনৈতিক। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কর্মস্থলের বাইরে গিয়ে বেসরকারি কার্যক্রম পরিচালনারও সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
আরও পড়ুন: ফতুল্লায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ৪২ জনের নামে মামলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন