বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৬ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের দ্বাদশ শাহাদাতবার্ষিকী শুক্রবার পালিত হবে। এই উপলক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “উপমহাদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র, ইসলামী আন্দোলনের নিবেদিতপ্রাণ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের দ্বাদশ শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মহান রবের কাছে তার মাগফিরাত কামনা করছি ও তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।”
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, বিশ্বনন্দিত ইসলামী চিন্তাবিদ, অসংখ্য বইয়ের লেখক, ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ও জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমকে বাংলার এ জমিনে পাঠিয়ে মহান আল্লাহ দ্বীনের দাওয়াতকে প্রসারিত করার দায়িত্ব পালন করিয়েছেন। তিনি শত প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি ও জুলুমের শিকার হয়েও মাথানত না করে দাঈ হিসেবে জীবনকাল অতিক্রান্ত করেছেন। মহান আল্লাহ তাআলার কাছে ফরিয়াদ করছি—তিনি যেন তার সমস্ত ভালো প্রচেষ্টা কবুল করেন এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার জীবনকালটি ছিল শিক্ষার ও বর্তমান সময়ের জন্য গবেষণার। তিনি রাজনৈতিক জীবনে মানুষের অধিকার আদায়ে ছিলেন সোচ্চার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন আর বাতিলের জন্য ছিলেন চ্যালেঞ্জস্বরূপ। নিজের বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন, রাজনৈতিক জীবন ও পেশাগত জীবনে তিনি সেই স্বাক্ষর রেখে গেছেন এবং অনুসরণীয় হয়ে রয়েছেন। ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও দেশ গঠনে তার অবদানকে জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় তিনি ছাত্রজীবনে ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) নির্বাচিত হয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি তমদ্দুন মজলিসে যোগ দিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। পূর্ব পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশের মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরশাসক ও তাদের দোসরদের শত অত্যাচার-নির্যাতন ও অপবাদ সহ্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনের এ মজলুম দাঈ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলা”র রূপকার অধ্যাপক গোলাম আযম। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তিনি ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম এ ফর্মুলা উপস্থাপন করেন। ১৯৯৬ সালে তার পূর্ববর্তী প্রস্তাবমতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সংবিধানে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলা’ সংযোজন করে। তার প্রণীত এই ফর্মুলা শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর অনেক দেশ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় জামায়াতে ইসলামী সমৃদ্ধ হয়েছে; উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের উর্বর ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। তিনি ১৯৫৪ সালের এপ্রিলে জামায়াতে ইসলামীতে সহযোগী (মুত্তাফিক) হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালের জুন মাসে তিনি রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতের সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। এর এক বছর পর তাকে পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং রাজশাহী বিভাগীয় জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯–৭১ সেশনে তিনি জামায়াতে ইসলামী পূর্ব পাকিস্তানের আমির নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০০ সালের ডিসেম্বরে মজলিসে শূরার কাছে বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি লাভ করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযমের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারাভোগের সময়কাল ও জুলুমের শিকার হওয়ার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ৯২ বছরের জীবনে তিনি পাঁচবার কারাভোগ করেছেন—ভাষা আন্দোলনের সময় দুইবার, ১৯৬৪ সালে একবার, ১৯৯২ সালে একবার এবং সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনের সময় ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি তিনি গ্রেপ্তার হন। প্রিজন সেলে থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে অনন্ত সুন্দর জীবনে চলে গেছেন এ দাঈ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় প্রায় দুই বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন মাওলানা আজিজুল হক ওরফে জানু মিয়া (৬০)। পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের চার দিন পর কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ আজিজুল হক নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুল মান্নান মনা মিয়া। তিনি হরিপুর ইউনিয়ন তাবলীগের আমির এনামুল হক রানার বড় ভাই বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছে খোঁজ নিয়েও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে পরিবার।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো সহৃদয় ব্যক্তি মাওলানা আজিজুল হক জানু মিয়ার সন্ধান পেলে নিচের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।
যোগাযোগ: ০১৩২৮-০৩৪০৩৩
নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে তাঁর ছবি ও এ সংবাদটি বেশি বেশি শেয়ার করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পরিবার। তাঁর সন্ধান পেলে পরিবারকে জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু চুরির সন্দেহে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একজনকে গ্রেফতার করেছে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।
শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ জানায়, শিশু ওয়ার্ড থেকে বাচ্চা চুরির সন্দেহে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে ২-৩ জন মিলে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে আহত করে। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে চলে যায় তারা।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তারা মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে অয়ন নামের একজনকে গ্রেফতার করে। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তর রাজাপুরে অবস্থিত। বর্তমানে তিনি ঢাকার কাফরুল থানার সেনপাড়া পর্বত এলাকার একটি বাসায় বসবাস করছেন।
পুলিশ আরও জানায়, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি। লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য ব্যক্তিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর ২০২৬ : আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দলও অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করেন জাতীয় দলের অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে হারের পরেও সতীর্থদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ চেয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ ২৮-১৬ গোলে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছে।
ম্যাচ শেষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের দীর্ঘ বিরতির কথা উল্লেখ করে নিশি বলেন, ‘আসলে আমরা তো টুর্নামেন্ট পাই না। আমরা ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছি, তারপরে আবার ২০২৪’এ এসে খেললাম। আমরা যদি প্রতিনিয়ত এরকম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই, তাহলে আমরাও অনেক ভালো করতে পারব। কারণ আমরা যত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারব, আমাদের তত বেশি উন্নতি হবে, খেলোয়াড়দের ভেতরে তত বেশি আত্মবিশ্বাস আসবে, দক্ষতা বাড়বে এবং তারা আরও ভালো করবে।’
ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলার সুযোগের পার্থক্য তুলে ধরে বাংলাদেশ অধিনায়ক যোগ করেন, ‘ভারত সারা বছর অনেক ম্যাচ খেলে। ওরা সামনে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে, ওরা কমনওয়েলথ গেম খেলে, এশিয়ান পর্যায়ে বিভিন্ন টুর্ণামেন্টে অংশ নেয়। আমাদের তো সেরকম ম্যাচ হয় না, আমাদের তো অংশগ্রহণই করা হয় না। আমরা যদি এইসব টুর্নামেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো হবে এবং আমরাও একসময় অনেক দূর এগিয়ে যাব।’
শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নিশি বলেন, ‘আমাদের কোচ যেভাবে খেলতে বলেছেন, আমরা ঠিক সেভাবেই চেষ্টা করেছি। আমাদের পজিশন ভালো ছিল, সর্বোপরি সব দিক দিয়েই ভালো ছিল। তবে মাঝে মাঝে আমাদের খেলা একটু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। তাছাড়া ওদের গোলরক্ষক কিছু নিশ্চিত গোল সেভ করায় আমরা পিছিয়ে পড়ি। এরপরও আমরা সব দিক দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি আমার দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ই ভালো খেলেছে এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েই লড়েছে।’
ফাইনালে ভারতের শারীরিক উচ্চতার ভীতি কাটিয়ে প্রথম ১০ মিনিট সমানে সমান লড়াই করেছিল আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার দল। প্রথমার্ধে ভারত ১৪-৯ গোলে এগিয়ে ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় সফরকারীরা। ম্যাচে অবিশ্বাস্য সব সেভ করে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন ভারতীয় গোলরক্ষক দিকশা কুমারী। চার জাতির এই টুর্নামেন্টে লিগ পর্বে নেপাল ও মালদ্বীপের বিপক্ষে জিতে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : নাগরিক কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন আগামীকাল।
১৯২৯ সালের এই দিনে ঢাকার মাহুতটুলীতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
বাচ্চু ছিল তার ডাকনাম। তার বাবা মোখলেসুর রাহমান চৌধুরী এবং মা আমেনা বেগম। লেখক হওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নাম থেকে পৈতৃক উপাধি ‘চৌধুরী’ বাদ দিয়েছিলেন।
ঢাকা শহরে কবির বেড়ে ওঠা। নাগরিক জীবনের কষ্ট, দুঃখ ও সুখ তার কবিতায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। জীবনের সত্য ও সুন্দরকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। বাঙালির সকল আন্দোলন ও সংগ্রামের গৌরবময় অধ্যায়ও তার কবিতায় ফুটে উঠেছে।
তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়। মোট ৬৬টি কাব্যগ্রন্থ, চারটি উপন্যাস, একটি প্রবন্ধগ্রন্থ, একটি ছড়ার বই এবং ছয়টি অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
কবিতার জন্য তিনি স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন।
২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট কবি শামসুর রাহমান মৃত্যুবরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ