ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গণপরিবহনে আজ থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক


গণপরিবহনে আজ থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক

দেশের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার আজ শনিবার থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন এবং সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে।

নতুন নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ নবায়নের প্রেক্ষিতে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং মোবাইল অ্যাপে এর কার্যকারিতা দেখাতে হবে।

সরকারের এই উদ্যোগটি মূলত গণপরিবহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, রুট ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বেরোবিতে শেখ হাসিনা থেকে বেগম খালেদা জিয়া হল, নির্মাণকাজ এক দশকেও শেষ হয়নি

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত করা এবং সচল না থাকলে কোন গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। এই বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন মালিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান জানিয়েছেন, বিভিন্ন কোম্পানির গাড়িতে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ের জন্য ইতোমধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

তবে, আজ ১ আগস্ট থেকে সব গাড়িতে এটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা সম্ভব হবে না। এ জন্য আরো কিছু সময়ের প্রয়োজন রয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেছেন, কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে।

আরও পড়ুন: ২০ হাজারে মা ইলিশ নিধনের টোকেন বিক্রি করছে নৌপুলিশ

সুশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যথার্থ সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেছেন, নতুন কোনো গাড়ি নিবন্ধনের সময় সেই গাড়িতে জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস থাকা বাধ্যতামূলক। এই বিষয়টি যাচাই করার জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা তৈরি করছে, যাতে এটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় যে কোনো গাড়িতে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাল পুনঃখননের অর্থ ফেরত, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১০ এম


খাল পুনঃখননের অর্থ ফেরত, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা খারাকান্দি, দিঘীরপাড় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে নির্ধারিত বাজেটের অর্ধেক অর্থ সাশ্রয় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন কেরানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় কেরানীগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসার ঝড় উঠে এসেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা দিঘির পার খাল এবং মডেল থানার রুহিতপুর ইউনিয়নের খারাকান্দি খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিএনপি সরকারের বিশেষ খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। উক্ত প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইউএনও উমর ফারুক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার আহ্বান করেন এবং সরাসরি কাজের মনিটরিং ও অনিয়ম রোধে কঠোর ভূমিকা পালন করেন।

ফলে দেখা যায় যে, কাজ শতভাগ মানসম্মত হওয়ার পর মূল বাজেট থেকে অর্ধেক পরিমাণ অর্থ বেঁচে যায়। প্রকল্প শেষ হলে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাশ্রয়কৃত ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুকের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি অর্থ মানেই জনগণের আমানত। তিনি জানান, সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত তদারকি থাকলে নির্ধারিত বাজেট থেকেও সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। তারা সেই চেষ্টাই করেছেন এবং জনগণের টাকা জনগণের কাছে এবং রাষ্ট্রীয় তহবিলেই ফিরে গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী মন্তব্য করেছেন, সরকারি প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবি কিংবা বাজেট বৃদ্ধির খবর সাধারণ হলেও, প্রকল্প শেষে উল্টো ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬ শত ৯৭ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার ঘটনা বিরল। কেরানীগঞ্জের ইতিহাসে এটাই প্রথম ঘটনা। এভাবে কোনো সরকারি অফিসারকে আগে দেখা যায়নি কাজ করতে। তারা মনে করেন, দেশের মধ্যে যদি এ ধরনের সরকারি অফিসার প্রতিটি ইউনিয়নে থাকেন, তবে দেশের উন্নয়নে অনেক অগ্রগতি আসবে। তারা একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে কেরানীগঞ্জে ইউএনওর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পদক্ষেপকে উল্লেখ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১৫ বছর পরও ভুলে যাননি ১০০ টাকার দেনা, ছুটে এলেন শোধ করতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ এম


১৫ বছর পরও ভুলে যাননি ১০০ টাকার দেনা, ছুটে এলেন শোধ করতে

শমসের আলী নামের এক বৃদ্ধ ১৫ বছর আগে বকেয়া থাকা ১০০ টাকা পরিশোধ করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক ব্যক্তির বাড়িতে ছুটে এসেছেন। অন্যের পাওনা শোধ করাকে নিজের দায়িত্ব মনে করেই এ টাকা ফিরিয়ে দেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) আখাউড়া পৌর এলাকার খড়মপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা খাদেম এয়ার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী এম এন এইচ খাদেম দুলালের পাওনা দিতে আসেন শমসের আলী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মজলিশপুর থেকে তিনি দুলাল খাদেমের খড়মপুরের বাড়িতে আসেন।

শমসের আলী জানিয়েছেন, ১৫ বছর আগে তিনি বিদেশি লোক পাঠানোসংক্রান্ত লেনদেন করেন দুলাল খাদেমের সঙ্গে। এই সময় তিনি ১০০ টাকা কম দিয়েছিলেন। ওই টাকা ফেরত দেওয়াটা জরুরি বলে মনে করছিলেন তিনি।

এই কারণে অনেকদিন পরে হলেও টাকাটা ফেরত দিতে এসেছেন। ঢাকায় বসবাসকারী দুলাল খাদেম মাঝে মাঝে শুক্রবার এলাকায় আসেন, এমন চিন্তা থেকেই এসেছেন। দুলাল খাদেম এ বিষয়ে বলেছেন, অনেক সময় লেনদেন করতে গিয়ে টাকা গুণে রাখা হয় না।

তিনি আরও জানান, ওই ব্যক্তির বেলায় এটাও হয়ে থাকতে পারে। তবে তাঁর কিছুই মনে নেই। শুক্রবার ওই লোক এসে তাঁর হাতে ১০০ টাকা বুঝিয়ে দিলে তিনি টাকাটা হাতে নিয়ে উনাকে দিয়ে বললেন, কিছু একটা যেন কিনে খায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন দায়িত্বে ৩ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ এম


নতুন দায়িত্বে ৩ মন্ত্রী

 

রাজধানীর ইমারত নির্মাণ ও নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন-বিধিমালা কার্যকর ও যুগোপযোগী করার জন্য সরকার ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। গতকাল বুধবার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটিবিষয়ক অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা মহানগরে ইমারত বিধিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইনি কাঠামোকে আরো শক্তিশালী করতে The Building Construction Act, 1952 এবং The Town Improvement Act, 1953 পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কমিটির সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটি বিদ্যমান দুইটি আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের সুপারিশ করবে, যার মাধ্যমে ঢাকা মহানগরের ইমারত বিধিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।

এছাড়া, প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য কো-অপ্ট করার ক্ষমতা রাখে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সভা সংগঠিত হবে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করার কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন্দুয়ায় ভেজাল কীটনাশক ও নকল সার তৈরির কারখানার সন্ধান: বিপুল সরঞ্জাম ধ্বংস, ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ এম


কেন্দুয়ায় ভেজাল কীটনাশক ও নকল সার তৈরির কারখানার সন্ধান: বিপুল সরঞ্জাম ধ্বংস, ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় প্যাকেটজাত ভেজাল কীটনাশক ও নকল সার তৈরির কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও কারখানার তালা ভেঙে মালামাল ধ্বংসের ঘোষণার পরও থামেনি অসাধু চক্রের প্রতারণা। উল্টো অভিযোগ উঠেছে, অভিযানের সময় উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর কাঁচামাল ও সরঞ্জামাদি আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস না করে জনসমক্ষে লোক দেখানো নাটক করা হয়েছে। অভিযান শেষে পাশের একটি ঈদগাহ মাঠে এসব কাঁচামাল অবহেলা ও অরক্ষিত অবস্থায় স্তূপ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে অসাধু ডিলার কৌশলে সেই মালামাল সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে পুনরায় অন্য স্থানে গোপন কারখানা বানিয়ে বিষাক্ত ও নকল সার-কীটনাশক তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের মিয়া হোসেন মার্কেট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে বিশেষ এই তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়।

১. অনুমোদিত ডিলারশিপের আড়ালে নকল সারের সাম্রাজ্য:
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিলারশিপের সুবাদে সাজানো ব্যাবসায়িক আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল কৃষি উপকরণ তৈরি করে আসছিলেন উপজেলার পেচুন্দুরী গ্রামের আবুল হোসাইনের ছেলে মো. আকাইদ হোসাইন। তিনি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে নেত্রকোণার একজন অনুমোদিত বালাইনাশক ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছিলেন। তবে এই বৈধ ডিলারশিপের আড়ালে তিনি পাইকুরা ইউনিয়নের মিয়া হোসেন মার্কেটের দুটি গুদাম ভাড়া নিয়ে গোপনে একটি অবৈধ ভেজাল কারখানা গড়ে তোলেন।

ওই গুদামে অত্যন্ত নিম্নমানের রাসায়নিক, সাধারণ মাটি ও কৃত্রিম রং মিশিয়ে নামীদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কৃষি কোম্পানির নাম ও লোগো নকল করে সার ও কীটনাশক প্যাকেটজাত করতেন তিনি। পরবর্তীতে কম দামে এসব ভেজাল ও ভুয়া ওষুধ প্রান্তিক কৃষকদের হাতে তুলে দিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। এর ফলে স্থানীয় কৃষকেরা সস্তা ও নকল সার-কীটনাশক কিনে জমিতে প্রয়োগ করে চরম প্রতারিত হচ্ছিলেন এবং এক একরের পর এক একর জমির ফসল মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল।

২. ঝটিকা অভিযান ও আলামত জব্দ:
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল মিয়া হোসেন মার্কেটে ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানকালে আকাইদ হোসাইনের মালিকানাধীন দুটি গোডাউনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হলে প্রস্তুতকৃত নকল কীটনাশকের সারি সারি প্যাকেট ও কেমিক্যাল দেখতে পাওয়া যায়। তল্লাশি চালিয়ে দুটি গুদাম থেকে প্রায় ২০০ বস্তা সার তৈরির কাঁচামাল, কীটনাশক মেশানোর ক্ষতিকর রাসায়নিক, বিভিন্ন স্বনামধন্য কোম্পানির নকল প্যাকেট, লেবেল এবং ১০ বস্তা প্রস্তুতকৃত বিষাক্ত ও নকল কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।

ঘটনা সত্য প্রমাণিত হওয়ায় ও বালাইনাশক আইন, ২০১৮-এর ২৯(২) ধারায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মো. আকাইদ হোসাইনকে নগদ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আকাইদ হোসাইন তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন। এ মামলায় প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ উজ্জ্বল সাহা।

৩. ধ্বংসের নামে ‘নাটক’, ঈদগাহ থেকে মালামাল গায়েব!
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে উদ্ধারকৃত সব ভেজাল পণ্য ও সরঞ্জামাদি আগুনে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, বাস্তবে অধিকাংশ কাঁচামাল ও বস্তা পোড়ানোই হয়নি!

অভিযান শেষ হওয়ার পর উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক কাঁচামাল ও সরঞ্জাম ধ্বংসের নামে পাশের একটি ঈদগাহ মাঠে খোলা অবস্থায় স্তূপ করে রেখে প্রস্থান করে আভিযানিক দল। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিতির সুযোগে (কিংবা অভ্যন্তরীণ অদৃশ্য সমঝোতায়) অসাধু ব্যবসায়ী আকাইদ হোসাইন ওই রাতের আঁধারেই ঈদগাহ মাঠ থেকে যাবতীয় কাঁচামাল ও সরঞ্জাম নতুন একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। বর্তমানে সেই একই কাঁচামাল ও মোড়ক ব্যবহার করে তিনি পুনরায় বিপুল উদ্যমে ভেজাল সার ও বালাইনাশক তৈরি ও বাজারজাত শুরু করেছেন।

৪. চরম ক্ষুব্ধ কৃষক ও স্থানীয়রা:
অভিযানের পরও রহস্যজনক কারণে অসাধু ব্যবসায়ী আকাইদের কর্মকাণ্ড সচল থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক প্রবীণ কৃষক আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "ডিলার আকাইদের ১ লাখ টাকা জরিমানা তো সাধারণ বিষয়, একদিন নকল ওষুধ বেচলেই তাঁর এই টাকা উঠে যাবে! কথা ছিল জব্দ মালামাল আগুনে পুড়িয়ে ছাই করা হবে, তা না করে পাশে ঈদগাহে ফেলে রাখা হলো কেন? রাতেই তো মালামাল সব গায়েব হয়ে গেছে। এই ভুয়া অভিযানে কৃষকের কী লাভ হলো? আমাদের তো জমি ও ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েই যাচ্ছে।"

৫. কর্মকর্তা ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
অভিযান পরিচালনা শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, "কৃষি ও কৃষক আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের পকেট ভারী করতে ভেজাল কৃষি উপকরণ দিয়ে কৃষকদের সর্বশান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ভেজাল কাঁচামাল ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা)। কৃষক রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ উজ্জ্বল সাহা জানান, "নকল সারের প্রভাবে জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়। কৃষকদের প্রতি অনুরোধ, যেকোনো সার বা বালাইনাশক ক্রয়ের সময় সঠিক পাকা রসিদ সংগ্রহ করুন এবং কোথাও কোনো ভেজাল কারখানার তথ্য থাকলে সরাসরি উপজেলা কৃষি অফিসকে অবহিত করুন।"

তবে ঈদগাহ মাঠ থেকে জব্দকৃত কাঁচামাল গায়েব এবং পুনরায় কারখানা চালুর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%