০৭:০৬ এম
আকরাম আলী (ছদ্মনাম) মাগুরা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন। কিছুদিন পর নম্বরপত্র হাতে পেয়ে তার চোখ কপালে ওঠে।
কারণ, নম্বরপত্রে তার নাম আকরাম আলীর পরিবর্তে ছাদ্দাম আলী লেখা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েন। এখন তিনি কী করবেন? যদি নম্বরপত্রে নিজের নামই ভুল থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
আকরামের মতো অনেকেই এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। নিজের নামের পাশাপাশি অনেক সময় বাবা বা মায়ের নামও সনদে ভুল লেখা হয়ে থাকে। কখনো কখনো জন্মতারিখ কিংবা অন্যান্য তথ্যেও ভুল থাকে। কিন্তু এসব ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন না বলেই অনেকে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।
আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে ইউজিসি
তবে সনদে নামের বানান, জন্মতারিখ বা অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুসরণ করে এসব তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করা সম্ভব। তবে জন্মতারিখসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে বোর্ডের নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভুল ধরা পড়লে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
যেভাবে সংশোধন করবেন
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
নাম বা জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম জেনে নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী হলফনামা (এফিডেভিট) এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রয়োজন হতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর সনদে থাকা নাম, বাবা-মায়ের নাম, শিক্ষার শাখা, পরীক্ষার সাল, পরীক্ষাকেন্দ্র, রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম ও জন্মতারিখ উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি কোন তথ্যটি সংশোধন করতে চান, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
আরও পড়ুন: ভোলায় শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক সম্মেলন
শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করুন
যে শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে, সেই বোর্ডে সংশোধনের আবেদন করতে হবে। বোর্ডের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তা পূরণ করতে হবে। আবেদন করার আগে সংশোধনের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি, জমা দেওয়ার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি।
যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে
সংশোধনের আবেদনের সঙ্গে সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে—
আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মৌলিক এআই কোর্সের সুখবর
আবেদনের ধরন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্রের তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বোর্ডের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত
আবেদন জমা দেওয়ার পর শিক্ষা বোর্ড প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে শুনানি বা সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হতে পারে। প্রয়োজন হলে আবেদনকারীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকেও ডাকা হতে পারে। যাচাই-বাছাই শেষে বোর্ড সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
জন্মতারিখ সংশোধনে সতর্কতা
আরও পড়ুন: ১৬৯০ ইবতেদায়ি শিক্ষকের অনুদান ছাড়ের দাবি জানাল শিক্ষক কল্যাণ কমিটি
জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সীমা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে আবেদনের সুযোগ বোর্ডভেদে বা প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই পাশের সাল থেকে কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত।
সনদে ভুল তথ্য থাকলে তা ফেলে না রেখে দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য শিক্ষাগত নথিতে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে আবেদন করা প্রয়োজন। এতে পরবর্তী সময়ে চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা এড়ানো সহজ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন