০৮:০৭ এম
গ্যালিক ফুটবল একটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, দ্রুতগতির এবং শারীরিক শক্তির খেলা, যা আয়ারল্যান্ডের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সকার বা ফুটবল, রাগবি এবং বাস্কেটবলের একটি চমৎকার মিশ্রণ, যেখানে খেলোয়াড়েরা হাত এবং পা—দুইই ব্যবহার করে বলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন এবং গোল করতে পারেন।
গ্যালিক ফুটবলের অফিশিয়াল নিয়ম, স্কোরিং এবং খেলার পদ্ধতি নিম্নরূপ—
খেলার মাঠ, খেলোয়াড় এবং সময়
আরও পড়ুন: ভিনিসিয়ুসের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মোরিনিওর বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘চুপ থাকো’
খেলার মাঠ : এই খেলা একটি বড় ঘাসের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যা সাধারণ ফুটবল মাঠের তুলনায় আকারে বড় (সাধারণত ১৩০-১৪৫ মিটার লম্বা এবং ৮০-৯০ মিটার চওড়া)। গোলপোস্টটি ইংরেজি ‘H’ (এইচ) বর্ণের মতো দেখতে, যা রাগবি পোস্ট এবং ফুটবল নেটের একটি সমন্বিত রূপ।
খেলোয়াড় : প্রতিটি দলে মাঠের ভেতর ১৫ জন খেলোয়াড় থাকে (১ জন গোলরক্ষক, ৬ জন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়, ২ জন মধ্যমাঠের খেলোয়াড় এবং ৬ জন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়)।
সময় : একটি আদর্শ ম্যাচ ৭০ মিনিট স্থায়ী হয়, যা ৩৫ মিনিট করে দুটি অর্ধে বিভক্ত করা হয়।
বল নিয়ন্ত্রণ ও পাসিং
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের কোচের আইফোন ও ক্রেডিট কার্ড চুরি, উদ্বেগের সৃষ্টি
খেলোয়াড়েরা বল হাতে নিয়ে দৌড়াতে পারেন, তবে খেলাটিকে গতিশীল রাখার জন্য বল বহনের ক্ষেত্রে কিছু কঠোর নিয়ম রয়েছে।
৪ ধাপের নিয়ম : একজন খেলোয়াড় বল হাতে নিয়ে সর্বাধিক ৪ কদম বা ধাপ এগোতে পারেন।
বাউন্স : ৪ ধাপ যাওয়ার পর খেলোয়াড় বলটিকে মাটিতে ড্রপ বা বাউন্স খাইয়ে আবার হাতে লুফে নিতে পারেন। তবে একবার বল পাওয়ার পর কেবল একবারই বাউন্স করা যাবে।
সোলো বা টো-ট্যাপ: বাউন্স করার পর যদি খেলোয়াড় আরো সামনে এগোতে চান, তাহলে তাকে ‘সোলো’ করতে হবে। সোলো হলো বলটি হাত থেকে নিজের পায়ে ফেলে কিক করে আবার হাতে লুফে নেওয়া।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা যবিপ্রবির খেলোয়াড়দের পেটালেন
গতিপথের নিয়ম: একজন খেলোয়াড় যতবার খুশি সোলো করতে পারেন এবং ইচ্ছে হলে একটি সোলো ও একটি বাউন্স পর্যায়ক্রমে মিলিয়ে করতে পারেন (যেমন: ৪ ধাপ ➔ বাউন্স ➔ ৪ ধাপ ➔ সোলো ➔ ৪ ধাপ ➔ সোলো...)। তবে পর পর দুইবার বল বাউন্স করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পাস দেওয়া: এই খেলায় বল ছুড়ে (থ্রো করে) পাস দেওয়া যায় না। পাস দেওয়ার জন্য হাতের খোলা তালু বা মুষ্টি দিয়ে বল আঘাত করতে হয় (যাকে হ্যান্ড পাস বলে) অথবা পায়ে কিক করে পাস দিতে হয়।
স্কোর বা পয়েন্ট পদ্ধতি
‘H’ আকৃতির গোলপোস্টের কোন অংশ দিয়ে বল পার হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে পয়েন্ট দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ৪২ বছর বয়সে মারা গেলেন বিসিবির কোচ মোসাদ্দেক হোসেন ছোটন
ক্রসবারের ওপর দিয়ে (১ পয়েন্ট): বলটিকে কিক করে বা হ্যান্ড পাস দিয়ে পোস্টের মাঝখান দিয়ে এবং ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠালে দল ১ পয়েন্ট পায়। এটি হলে আম্পায়ার একটি সাদা পতাকা তোলেন।
ক্রসবারের নিচ দিয়ে বা জালে (৩ পয়েন্ট): বলটিকে কিক করে ক্রসবারের নিচ দিয়ে জালের ভেতর পাঠালে তাকে গোল বলা হয়। একটি গোলের মান ৩ পয়েন্ট। এটি হলে আম্পায়ার একটি সবুজ পতাকা তোলেন। (মনে রাখবেন: অন্য কোনো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বাতাসে ভেসে আসা বল ছাড়া, সরাসরি হাত দিয়ে বল নেটের ভেতর ঠেলে গোল দেওয়া যায় না)।
স্কোর লেখার নিয়ম
খেলার স্কোর সাধারণত [গোল]-[পয়েন্ট] এভাবে লেখা হয়। মোট পয়েন্ট হিসাব করতে গোল সংখ্যাকে ৩ দিয়ে গুণ করে তার সঙ্গে পয়েন্ট সংখ্যা যোগ করতে হয়।
আরও পড়ুন: কেন সমর্থকদের কলার বেলুন নিয়ে মাঠে আসতে বললেন ম্যানসিটি কোচ এনজো মারেসকা
উদাহরণ: কোনো দলের স্কোর যদি ২-১২ হয়, তার মানে তারা ২টি গোল (৬ পয়েন্ট) এবং ১২টি একক পয়েন্ট পেয়েছে, অর্থাৎ তাদের মোট পয়েন্ট ১৮।
ট্যাকলিং এবং ফাউল
গ্যালিক ফুটবল একটি শারীরিক সংস্পর্শের (কন্টাক্ট) খেলা হলেও এতে ধাক্কাধাক্কির কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
বৈধ ট্যাকল: একজন খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে পাশ থেকে কাঁধ দিয়ে ধাক্কা (শোল্ডার চার্জ) দিয়ে তার ভারসাম্যের ব্যত্যয় ঘটাতে পারেন। এছাড়া এক হাত দিয়ে আঘাত করে প্রতিপক্ষের হাত থেকে বল কেড়ে নেওয়া বৈধ।
আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয়ের পর পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তি আটকে গেল
অবৈধ ট্যাকল: পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া, ল্যাং মারা, টেনে ধরা, জার্সি ধরে টানা বা পেছন থেকে ট্যাকল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়াও ফাউল হিসেবে গণ্য হয়।
কৌশলগত ফাউল: পর পর দুইবার বল মাটিতে বাউন্স করা, মাটি থেকে সরাসরি হাত দিয়ে বল তুলে নেওয়া (মাটি থেকে বল তুলতে হলে পা দিয়ে ফ্লিক করে বা কিক করে হাতে তুলতে হয়) এবং ‘স্কয়ার বল’ (বল পৌঁছানোর আগেই আক্রমণভাগের কোনো খেলোয়াড় গোলপোস্টের ছোট বক্সে প্রবেশ করা)।
শাস্তি ও কার্ডের ব্যবহার
কোনো ফাউল হলে প্রতিপক্ষ দল সেই নির্দিষ্ট স্থান থেকে একটি ফ্রি কিক পায়।
কার্ডের নিয়ম: রেফারি ম্যাচে তিন ধরনের কার্ড ব্যবহার করেন:
হলুদ কার্ড : বারবার বা মারাত্মক ফাউল করার জন্য সতর্কবার্তা।
কালো কার্ড : ইচ্ছাকৃত বা ক্ষতিকর ফাউলের জন্য খেলোয়াড়কে ১০ মিনিটের জন্য সাময়িকভাবে মাঠের বাইরে (সিন বিন) পাঠানো।
লাল কার্ড : ম্যাচ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার। এই ক্ষেত্রে ওই খেলোয়াড়ের পরিবর্তে অন্য কোনো খেলোয়াড় মাঠে নামানো যায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন