ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারী বৃষ্টিতে আরও পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা


ভারী বৃষ্টিতে আরও পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির ফলে দেশের কিছু জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন নদী ও নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের আরও পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কিত সতর্কতা প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলাহয়েছে, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর সহ বিভিন্ন জেলার নদী-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মাঝে কিছু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমার উপরে উঠতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময় লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকায়ও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী

তবে চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমাটে পারে। ফলে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতিরও ধীরগতিতে উন্নতি ঘটতে পারে বলে কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টাতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কোথাও কোথাও এ নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টির কারণ হতে পারে।

এছাড়া, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পাশাপাশি সুরমা নদীর তীরবর্তী নিচু অঞ্চলেও নতুন করে পানি প্রবেশ করার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে দেখা যাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরে তিস্তা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ

অন্যদিকে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নদী-তীরবর্তী কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঘায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ পি.এম


বাঘায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে জরিমানা

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে, উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার অভিযান পরিচালনা করে এই জরিমানা করেন।

জানা গেছে, বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা নদীতে নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া বেড়িলাবাড়ি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আরিফুল ইসলাম এবং রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের অনিল প্রামানিকের ছেলে কৃষ্ণ প্রামানিক অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, “পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোটের মাধ্যমে ওই দুই ব্যক্তির উপর দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।” তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় বাঘা থানা পুলিশের সহযোগিতায়। গড়গড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় নদী থেকে বালু উত্তোলনের অপরাধেও তাদের প্রত্যেককে এক লক্ষ করে মোট দুই লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।” আদায়কৃত অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গত ৭ মাসে ৭ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। খুনের ঘটনাগুলি রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের পদ্মার চরে ঘটেছে। চর দকল ও বাবলু উত্তোলনের সাথে সম্পর্কিত মোট ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পদ্মার চরে গড়ে উঠেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গড়গড়ি ইউনিয়নের খানপুরের আমান মন্ডল এবং নাজমুল হোসেন, যিনি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর নিহত হন।

নিহত নাজমুল হোসেনের পরে ২৮ অক্টোবর হবিরচর থেকে কুষ্টিয়ার লিটন হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার দুই মাস পর, ৩ জানুয়ারি, গভীর রাতে সোহেল রানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সোহেল রানা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরের কালু মন্ডলের ছেলে। ১৮ মে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী চরে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল হামলা চালিয়ে স্বপন বেপারীকে গুলি করে হত্যা করে এবং তার লাশ ট্রলারে করে তুলতে থাকে। এরপর, স্বপন বেপারীর পরিবারের এক দেড় মাস পরেও তার সন্ধান মেলেনি।

উল্লেখ্য, গত ৯ জুন পদ্মার চরের নীচ খানপুর থেকে চৌদ্দহাজার মাঠের পাশে চর জাজিরা নামক স্থান থেকে নৌপুলিশ আজিজুল হাকিম ঝড়ুর লাশ উদ্ধার করে। আজিজুল হাকিম ঝড়ু বাগাতিপাড়া উপজেলার হিজলি পাবনা পাড়া গ্রামের আব্দুল শেখের ছেলে। এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, “প্রশাসনের তালিকায় পদ্মার চরের ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম রয়েছে।” সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে কাঁকন বাহিনী, মন্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী এবং সুখচাঁদ-নাহারুল বাহিনী অন্তর্ভুক্ত। এসব বাহিনী একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে মানুষ হত্যা করে আসছে। তবে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ অভিযানে কয়েক দফায় ২০৩ জনকে গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী মেডিকেলে তিন মাস ধরে সিটি স্ক্যান যন্ত্র নষ্ট, বিপাকে রোগীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ পি.এম


রাজশাহী মেডিকেলে তিন মাস ধরে সিটি স্ক্যান যন্ত্র নষ্ট, বিপাকে রোগীরা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সিটি স্ক্যান যন্ত্রটি তিন মাস ধরে বিকল হয়ে রয়েছে। যার ফলে রোগীরা বাইরের রোগনির্ণয় কেন্দ্র বা হাসপাতালে গিয়ে দ্বিগুণ টাকা খরচ করে সিটি স্ক্যান করাতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গরিব রোগীদের জন্য সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম বিপাকে পড়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মেশিনটি সচল করার জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে ঢাকার আরপি এন্টারপ্রাইজ রামেক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিনটি সরবরাহ করে। সাত বছরের ওয়ারেন্টি থাকার পরও চালুর প্রায় সাড়ে চার বছরের মাথায় ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর থেকেই মেশিনটি পুরোপুরি অচল হয়ে রয়েছে। এই কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা সিটিস্ক্যান সেবা নিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত টাকায় রোগীর সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে। এছাড়া, সিটি স্ক্যান রুমের দরজায় সাময়িক বন্ধের নোটিশ লাগানো হয়েছে। প্রায় তিন মাস কেটে যাওয়ার পরও কয়েক কোটি টাকার মেশিনটি সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা যায়নি। রোগীর স্বজন সানজিদা খাতুন বলেন, হাসপাতালের সিটি স্ক্যান বন্ধ থাকায় বাইরে করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে করলে সাধারণত কম খরচ হত, কিন্তু বর্তমানে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অন্তত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মনতাজ আলীর স্বজন রজব আলী বলেন, চিকিৎসক সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু হাসপাতালের মেশিন নষ্ট রয়েছ। পরিস্থিতির কারণে রোগীকে স্থানান্তর করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে এবং অতিরিক্ত খরচও বাড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল রামেক হাসপাতালে রাজশাহী বিভাগের পাশাপাশি খুলনার চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য আসেন। সিটিস্ক্যান সেবা বন্ধ থাকার এই পরিস্থিতিতে তাদের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে চাপের ফলে সিটি স্ক্যান মেশিনটি বিকল হয়ে গেছে। সরবরাহকারী ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত মেশিনটি সচল করার চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিপাকে শ্রমজীবীরা

পাইকগাছায় টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ পি.এম


পাইকগাছায় টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

খুলনার পাইকগাছায় টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টির ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই বৃষ্টি উপকূলীয় নিম্নচাপের প্রভাবে গত ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে শুক্রবারও (১০ জুলাই) অব্যাহত রয়েছে। একটানা বর্ষনে ভ্যাপসা গরম কিছুটা কমেছে, তবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া, রাস্তাঘাটের জলমগ্ন অবস্থা এবং জনজীবনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিপাকে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও মৎস্যজীবীসহ দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর সদর, বাণিজ্যিক নগরী কপিলমুনি সহ বিভিন্ন বাজারের সড়কে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ব্যস্ত বাজার ও সড়কগুলোতে এক ধরনের নীরবতা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বাণিজ্যিক নগরী কপিলমুনি বাজারে বৃষ্টির পানিতে কংক্রিটের সাথে কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কৃষিকাজ, নির্মাণকাজ এবং খোলা আকাশের নিচে অধিকাংশ শ্রমনির্ভর কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শত শত শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সরল গ্রামের দিনমজুর কবিরুল বলেন, "টানা বৃষ্টিতে কোনো কাজ করতে পারিনি। সংসারের বাজার কীভাবে করব, সেটাই এখন বড় চিন্তা।" ভ্যানচালক সবির জানান, "যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে যাওয়ায় সারাদিন ভিজে থেকেও কাঙ্ক্ষিত আয় হচ্ছে না।" একই ধরনের সংকটের কথা জানান দৈনিক শ্রমিক রেজাউল। তিনি বলেন, "একদিন কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না। সেখানে এত দিনের বৃষ্টিতে কাজ নেই। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।" বৃষ্টিতে কাঁচা সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী স্বপ্না জানান, "স্কুল-কলেজে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।" বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী ও মৎস্যঘেরে স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলাম বলেন, "টানা বৃষ্টিতে বাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে। কেনাবেচা অনেক কমে গেছে।" তবে কৃষকদের একাংশের মন্তব্য, "আষাঢ়ের এই বৃষ্টি আমন চাষের জন্য উপকারী।" যদিও অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে আমনের বীজতলা ও কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, "অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কোথাও যাতে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।" সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেল ডাকাত দলের সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ পি.এম


মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেল ডাকাত দলের সদস্য

মায়ের মৃত্যুর কারণে সাময়িক প্যারোলে মুক্তি পেয়ে আবু হায়াত নামের এক হাজতি জানাজা ও দাফন শেষে পুনরায় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে ফিরে গেছেন। তিনি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, আবু হায়াত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের একজন সক্রিয় সদস্য।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আবু হায়াতের মা আতাহেরা বেগম (৬৫) নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। তিনি উপজেলার আলমপুর গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের স্ত্রী ছিলেন। মায়ের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর ১০ জুলাই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবু হায়াতকে সাময়িকভাবে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়, যাতে তিনি মায়ের শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারেন। জানাজা এবং দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়সীমা শেষে শুক্রবার তাকে পুনরায় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্যারোলে মুক্তি পাওয়া আবু হায়াত মূলত একটি আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রুজু আছে। সম্প্রতি একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি জেলা হাজতে অবস্থান করছিলেন। মায়ের মৃত্যুর কারণে মানবিক বিবেচনায় আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাকে সাময়িক প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। দাফন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পরই কড়া নিরাপত্তায় তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%