বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪১ পি.এম
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস এবং প্রাইভেট কারের মধ্যে সংঘর্ষে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা প্রাইভেট কারের যাত্রী ছিলেন।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শিবগাতি স্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্র এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানিয়েছেন, ঢাকাগামী দোলা পরিবহনের একটি বাসের সাথে গোপালগঞ্জগামী একটি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ফলে প্রাইভেট কারটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি খাদে পড়ে যায়। এই ঘটনায় প্রাইভেট কারের দুজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। বাস ও প্রাইভেট কারের ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন।
আহতদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোপালগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লঞ্চের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে প্রথম ১০০ কিলোমিটারের জন্য। এছাড়া, ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের জন্য ভাড়া ২০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লঞ্চ মালিকরা নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যেখানে তারা যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছিলেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বিদ্যমান ভাড়া দুই টাকা ৯৫ পয়সার পরিবর্তে চার টাকা ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য দুই টাকা ৫২ পয়সার পরিবর্তে চার টাকা দুই পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বাস-মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনিতে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি।
বুধবার দুপুরে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেন, ভয় দেখিয়ে ও অরাজকতা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না।
তিনি বলেন, সারা দেশে আবারও হুমকি-ধামকি, প্রশাসনের ওপর হামলা, বোমার শব্দ ও গাড়ি পোড়ানোর মতো ঘটনা শুরু হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে খোকন তালুকদার বলেন, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, কারাবরণ করেছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিএনপি সরকার গঠনের ছয় মাস না পেরোতেই রাজপথে হুমকি-ধামকি শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে যেভাবে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করছে। জাতীয়তাবাদী শক্তি মাঠে আছে বলেই অন্যরা বড় বড় কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে ডেঙ্গু মশক নিধন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সি, যুবদল নেতা মামুন শিকদার ও শামিম মোল্লা, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নান্না শিকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাজমুল হাসানসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ পরিবারের ৮টি বসতঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ৫ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এখন খোলা আকাশের নীচে । এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পঞ্চাশ থেকে ষাট লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড মাছুয়াখাল এলাকার জমাদার বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বুধবার সকাল সারে ৮টার দিকে বৈদ্যুতিক সটসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে । মুহূর্তের মধ্যে তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
মতলব দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিযন্ত্রণে আনে। বাড়ির কিছু ঘর আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হলেও ওই বাড়ির মানিক জমাদার, শিপন,শাহজালাল,সুফিয়ান,সেলিম জমাদারে ৪টি বসত ঘর ও ৪টি রান্নার ঘর আগুনে পুড়ে যায়। আগুন নিভানোর সময় ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজীসহ আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে । তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় ।
পরিবারের সদস্যরা এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় বিশ থেকে পচিশ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানাগেছে ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন হাওলাদার , স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজ, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জোহরা আক্কাস ইউনিয়ন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহাদত মিয়াজীর বড় ভাই জসিম মিয়াজী, আরেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাজী সুলতানা আহমেদ । তারা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সহায়তার জন্য আশ্বস্ত্য করেন ।
ইউপি সদস্য শহীদ মেয়াদী বলেন আগুন লাগার খবর পেয়ে সাথে সাথে আমি এসে এলাকাবাসীর সহ আগুন নিভানোর চেষ্টা করি । এ সময় আমি সহ আরো বেশ কয়েকজন ।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন হাওলাদার বলেন এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে পাঁচটি পরিবারের সদস্যরা সবকিছু হারিয়েছে । তাদের সহযোগিতার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব ।
ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি । বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইসমাম বলেন অগ্নিকান্ডের খবর আমি পেয়েছি । ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আমি যাব ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তিস্তা নদী থেকে একটি অত্যন্ত ক্লান্ত হাতিশাবক উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বিরল মানবিকতার উদাহরণ স্থাপন করেছে স্থানীয় সাহসী মৎস্যজীবীদের একটি দল। পরে শাবকটি সুস্থভাবে তার মায়ের সঙ্গে গভীর জঙ্গলে ফিরে গেছে।
এই ঘটনা ঘটে ২১ সেপ্টেম্বর সকালে জলপাইগুড়ি জেলার বৈকুণ্ঠপুর বনবিভাগের গাজলডোবা এলাকায়। খবরটি গাল্ফ নিউজের মাধ্যমে জানা যায়।
উত্তরবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের কয়েকজন সদস্য তিস্তা ব্যারাজের কাছে নদীতে শাবকটিকে প্রথমে ভাসতে দেখেন। এরপর মৎস্যজীবী মিথু দাস, রাজেশ দাস, বিশ্বনাথ দাস, গোপাল দাস এবং বাবলু দাস নৌকা নিয়ে দ্রুত মাঝনদীতে চলে যান। তারা সবাই মিলে সাবধানে হাতিশাবকটিকে তাদের নৌকায় তুলে নিরাপদে নদীর তীরে নিয়ে আসেন।
তীরে নিয়ে আসার পর শাবকটিকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নদীতে ভেসে থাকার কারণে শাবকটি বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়লেও শারীরিকভাবে সুস্থ ছিল।
এদিকে কিছুক্ষণের মধ্যেই শাবকের খোঁজে তার মা নদীর তীরে চলে আসে। অবশেষে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মা ও শাবকের একটি আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটে এবং তারা নিরাপদে বনের ভেতরে চলে যায়।
উল্লেখ্য, জলপাইগুড়ি জেলার গাজলডোবা এলাকায় প্রায়ই বন্য হাতির দল যাতায়াত করে। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের হাতিশাবকের প্রতি এমন মানবিক উদ্যোগ বন্যপ্রাণী রক্ষায় একটি দারুণ উদাহরণ স্থাপন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ