বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৩২ পি.এম
বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সদর রোডে অবস্থিত আবাসিক হোটেল ‘হোটেল এরিনা’ (Hotel Arena)-এর মদের বারটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অনিয়ম ও সরকারি আইন লঙ্ঘনের এক ভয়ংকর সিন্ডিকেট। প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সরকারি নীতিমালার বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে এই বারে অবাধে চলছে নানামুখী বেআইনি কার্যক্রম। অননুমোদিত পার্সেল বাণিজ্য, লাইসেন্সহীনদের মদ্যপানের সুযোগ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণদের অবাধ প্রবেশের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন নগরীর সামাজিক অবক্ষয় ও জননিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হোটেল এরিনা বারটির অনুকূলে কেবল "অন-শপ" (On-Shop) লাইসেন্স রয়েছে। আইন অনুযায়ী এই লাইসেন্সের অধীনে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিরাই নির্দিষ্ট সময়ে বারের ভেতরে বসে মদ পান করতে পারবেন। কিন্তু হোটেল এরিনা কর্তৃপক্ষ আইনি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সকাল ১০টা থেকেই বারের নিচের ফ্লোর ও কাউন্টার থেকে অবাধে টেক-অ্যাওয়ে বা পার্সেল হিসেবে মদ বিক্রি শুরু করে, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এসব বোতলজাত ও পার্সেল মদের প্রধান ক্রেতা মূলত বিভিন্ন স্কুল-কলেজগামী ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ ও উঠতি বয়সী যুবসমাজ।
উল্লেখ্য, প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ এবং যুবকরা সরাসরি বারে প্রবেশ করে মদ্যপান করছে এবং কাউন্টার থেকে পার্সেল নিয়ে যাচ্ছে—এমন একাধিক চাঞ্চল্যকর ছবি ও এক্সক্লুসিভ ভিডিও ফুটেজ 'তালাশ বিডি'র হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
বারে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন এক বৈধ পারমিটধারী ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাঁর অভিযোগ, বারে আসা মদ্যপায়ীদের প্রায় ৮০ শতাংশেরই কোনো বৈধ পারমিট বা মদের লাইসেন্স নেই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পারমিটহীন তরুণকে বারে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, বারে ও কাউন্টারে মদ্যপান শেষে এসব অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণ মাতাল অবস্থায় বরিশাল নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়। এর ফলে সদর রোডসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং পথচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আইনি বিধি অনুযায়ী, মুসলমানদের বিশেষ ধর্মীয় দিবস এবং প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার মদের বার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু হোটেল এরিনা কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় বিশেষ দিনগুলোতে মূল বারের দরজা লোকদেখানো বন্ধ রাখলেও আড়ালে কাউন্টার থেকে ঠিকই পার্সেল বিক্রি চালিয়ে যায়। এমনকি প্রতি শুক্রবারেও প্রকাশ্যে বার খোলা রেখে তরুণদের হাতে মদ তুলে দেওয়া হচ্ছে।
এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে দিনের পর দিন এই অনিয়ম ও আইনি লঙ্ঘন চলছে? শুক্রবারে বার বন্ধ রাখার স্পষ্ট নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করার পেছনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সাথে হোটেল এরিনা কর্তৃপক্ষের কোনো আর্থিক লেনদেন বা গোপন রফাদফা রয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী ও সচেতন মহল নিশ্চিত করেছেন যে, হোটেল এরিনা বারের এই প্রকাশ্য বেআইনি কর্মকাণ্ড ও নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC) বরিশালের উপ-পরিচালক মো. তানভীর হোসেন খানকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে অনুরোধ এবং অভিযোগ জানানো হয়েছে। তবে অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে, বারবার অভিযোগ জানানোর পরও অধিদপ্তর তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী বারে কোনোপ্রকার কার্যকর তদারকি বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেনি। কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াতে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন—অভিযোগ পাওয়ার পরও কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে হোটেল এরিনা বার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকছে অধিদপ্তর?
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সাধারণ পরিচালন নীতিমালা অনুসারে, বার বা রেস্তোরাঁয় মদ বিক্রির জন্য অধিদপ্তরের বৈধ লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক হলেও হোটেল এরিনা সব নিয়মই বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে। বিধিমালার স্পষ্ট নির্দেশ যে, নির্দিষ্ট বয়সসীমার নিচে কাউকে বারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না এবং ক্রেতার নিজস্ব পারমিট ছাড়া মদ বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া অন-শপ লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে বসে সেবনের বিধান থাকলেও সিলগালাকৃত বোতল বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি মদের সাথে খাবার পরিবেশন ও নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও এরিনা বার কর্তৃপক্ষ এগুলোর কোনোটিই মানছে না।
আলেম-ওলামা ও ইসলামী আন্দোলনের ক্ষোভ ও কঠোর হুঁশিয়ারি
বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্রে পবিত্র জুম্মার দিনেও বার খোলা রাখা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণদের মাঝে অবাধে মদ বিক্রির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ (চরমোনাই অনুসারী) এবং সচেতন আলেম-ওলামারা বলেন, “বরিশালের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় সম্প্রীতির নগরীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের মদ ও মাদক ব্যবসা চলতে পারে না। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার ও পবিত্র ধর্মীয় দিনগুলোতে প্রকাশ্যে পার্সেল ও কাউন্টার বাণিজ্যের মাধ্যমে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একটি মুসলিমপ্রধান দেশে আলেম-ওলামারা এসব সামাজিক অবক্ষয় মেনে নেবে না। স্থানীয় প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যদি অবিলম্বে হোটেল এরিনা বারের বেআইনি কার্যক্রম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয় এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করে, তবে বরিশালের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা ও আলেম-ওলামাদের নিয়ে কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
বরিশাল গোটা বিভাগে বিকল্প কোনো অনুমোদিত বার না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হোটেল এরিনা কর্তৃপক্ষ গড়ে তুলেছে একচ্ছত্র সিন্ডিকেট। বরিশালসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঢাকার অনুমোদিত বারগুলোর তুলনায় বরিশাল এরিনা বারে প্রতি বোতল কিংবা পেগ মদে অন্তত ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি হাঁকানো হচ্ছে। কেবল মদই নয়, বারের ভেতরের সাধারণ খাবারের দামও রাখা হচ্ছে আকাশচুম্বী, যা এক ধরনের প্রকাশ্য জিম্মিদশা ছাড়া কিছুই নয়।
এসব গুরুতর অনিয়ম ও প্রকাশ্য আইনি লঙ্ঘনের বিষয়ে কথা বলতে হোটেল এরিনার ম্যানেজার মি. মিলনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বারবার অভিযোগের পরও কেন কোনো তদারকি বা অভিযান চালানো হয়নি এবং কোনো অসাধু আর্থিক যোগসাজশ রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (DNC), বরিশালের উপ-পরিচালক মো. তানভীর হোসেন খানের হোয়াটসঅ্যাপে ‘তালাশ বিডি’র পক্ষ থেকে লিখিত বার্তা পাঠিয়ে ১ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশ করা পর্যন্ত তিনিও কোনো বক্তব্য দেননি। পরবর্তীতে উপ-পরিচালক কোনো বক্তব্য প্রদান করলে তা সংবাদের দ্বিতীয় পর্বে গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করা হবে।
নগরীর অভিভাবক ও সচেতন মহল অবিলম্বে কোমলমতি তরুণদের পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে, মাদকের অবাধ বিস্তার ঠেকাতে এবং সড়কের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হোটেল এরিনা বারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
(হোটেল এরিনা বারের নানামুখী অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভয়াবহ বাস্তব চিত্র নিয়ে ‘তালাশ বিডি’র বিশেষ অনুসন্ধানী ৩ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশিত হলো ১ম পর্ব। আগামী ২য় ও ৩য় পর্বে থাকবে আরও আকর্ষণীয় চাঞ্চল্যকর নিউজ, যার মধ্যে একটি পর্বে বারের ভেতরের অন্যায্য অনিয়ম ও বাস্তবরূপের এক্সক্লুসিভ ভিডিও চিত্র সহকারে সংবাদ প্রকাশ করা হবে। তালাশ বিডির সাথেই থাকুন।)
তালাশ বিডির ৩ পর্বের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ১ম পর্ব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাতের তথ্য সংগ্রহের সময় সময় সংবাদের প্রতিনিধিদের ওপর মবের চেষ্টা চালানোর কারণে জেলা প্রশাসন এক ইউপি সচিবকে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উঠা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অভিযুক্ত মনির হোসেন বরিশালের হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বুধবার (২৮ অক্টোবর) তাকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী ও জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধানে সময় সংবাদের বরিশাল ব্যুরো অফিসের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেদী হাসান বাপ্পী এবং ভিডিও জার্নালিস্ট সুজয় দাস যান। এ সময় সচিব মনির হোসেন ও তার লোকজন সংবাদকর্মীদের ওপর অতর্কিত মবের চেষ্টা করেন।
গত ১৯ অক্টোবর জেলেদের চাল আত্মসাতের বিষয় নিয়ে সময় টেলিভিশনে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচিব মনিরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার জানান, ‘সময় সংবাদে প্রতিবেদন প্রচারের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত সচিবকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় এক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মোবারক হোসেন মোহন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অর্থদণ্ডের অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী ফোরকান মিয়া বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মোবারক হোসেন মোহন ভুক্তভোগীর চাচাতো ননদের জামাই। তারা ওয়ারীর ভজহরি সাহা স্ট্রিট এলাকায় একই বাসার বিভিন্ন রুমে বসবাস করতেন। মোবারক হোসেন বিভিন্ন সময় ওই নারীকে খারাপ প্রস্তাবসহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করতেন। তিনি বিষয়টি তার স্বামীকে জানান। তবে লোকলজ্জার ভয়ে তার স্বামী বিষয়টি কারও কাছে প্রকাশ করতে পারেননি।
২০১৭ সালের ২০ আগস্ট রাত পৌনে ৯টার দিকে বাসার রান্নাঘরের পাশে পেছন থেকে জাপটে ধরে ওই নারীকে যৌন হয়রানি করেন মোবারক। এ ঘটনায় ওই নারী একই দিন ওয়ারী থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মোবারক হোসেন মোহনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
২০১৯ সালের ১ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের টঙ্গীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মাদ্রাসাছাত্রের আহত হওয়ার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এ সময় তারা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে দাবি জানান, যাতে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা যায়। অবরোধের ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যা যাত্রী ও চালকদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গীর গাজীপুরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
আহত জাবের হোসেন ওই মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে সড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি বাস জাবেরকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয় এবং তারা দলে দলে সড়কে নেমে আসেন।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টে নিরাপদে পারাপারের কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী ও শিক্ষার্থীরা। তারা বারবার দাবি জানালেও এখানে কোনো ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি। স্থায়ী সমাধানের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না বলে জানান।
অবরোধের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবি ও ক্ষোভের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ