ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রাথমিকের শিক্ষক প্রশিক্ষণ আড়াই থেকে তিন বছর করার উদ্যোগ


প্রাথমিকের শিক্ষক প্রশিক্ষণ আড়াই থেকে তিন বছর করার উদ্যোগ

॥ নাজিউর রহমান সোহেল ॥

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা আড়াই থেকে তিন বছর হবে। এ ছাড়া, প্রতিটি প্রাইমারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের (পিটিআই) সক্ষমতা বর্তমানের চেয়ে ৬ গুণ বৃদ্ধি করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে প্রদত্ত এক সাক্ষাৎকারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: শাবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, তদন্ত কমিটি গঠন

সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি, ক্লাসরুমে প্রযুক্তির ব্যবহার, ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচির রূপরেখা এবং বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর জন্য সরকারের তদারকি নীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

শিক্ষক প্রশিক্ষণের নতুন ফ্রেমওয়ার্ক ও পিটিআই সক্ষমতা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অপ্রশিক্ষিত অবস্থায় দীর্ঘ সময় ক্লাসরুমে দায়িত্ব পালনের বর্তমান ধারাকে একটি নীতিগত পরিবর্তনের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের আধুনিক শিখনপদ্ধতিতে পারদর্শী করতে নতুন প্রশিক্ষণের ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাস ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ক্লাসে ফিরে যাবেন। এরপর নির্ধারিত সিলেবাস বা মডিউল অনুযায়ী বাকি সময়ের মধ্যে (আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে) তাদের প্রশিক্ষণ মডিউল ও পরীক্ষাগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এক বছর নির্ধারণ করে একটি নতুন প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। সম্প্রতি নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ব্যাচগুলো এই মডিউল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ পাবে। প্রথমে শিক্ষকরা পিটিআইতে দুই মাস ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ শেষ করে ক্লাসরুমে পাঠদানে চলে যাবেন। আর বাকি ১০ মাস অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে।

আরও পড়ুন: পুলিশের ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে

ববি হাজ্জাজ আরও জানান, বর্তমানে পিটিআইগুলোর বার্ষিক প্রশিক্ষণের সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজারের মতো রয়েছে। এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪২ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য পিটিআই ছাড়াও, প্রয়োজনে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এডুকেশন ডিপার্টমেন্টকে যুক্ত করে শিক্ষকদের আধুনিক শিখনপদ্ধতিতে পারদর্শী করে তোলা হবে। একই সাথে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি — কোনো শিক্ষক উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না নিয়ে ক্লাসরুমে স্থায়ীভাবে পাঠদানে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।’

আগামী বছর থেকে সারাদেশে ‘মিড-ডে মিল’

শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি ধরে রাখা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি ‘মিড-ডে মিল’ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় মিড-ডে মিল চালু রয়েছে। বাকি উপজেলায় এই কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে। আশা করছি— আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও প্রযুক্তির ইকোসিস্টেম

শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এটি কেবল একটি ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার প্রকল্প নয়। তিনি বলেন, ‘গুগলসহ বৈশ্বিক বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আমরা ক্লাসরুমের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি করছি। এর মূল কানেক্টর হিসেবে শিক্ষকদের হাতে ট্যাব পৌঁছানো হবে।’

এছাড়া যেসকল দুর্গম অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেগুলোতে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে যৌথ সমঝোতার ভিত্তিতে সোলার প্যানেল স্থাপন ও ব্যান্ডউইথ নিশ্চিতের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ

আরও পড়ুন: ‘গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত ও সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে’

সারাদেশে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা প্রসঙ্গে আদালতের রায়ের বিষয়টি তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রমের আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল রায়ের চূড়ান্ত সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার অপেক্ষা। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাথে এ বিষয়ে আগেই আলোচনা শুরু হয়েছে। রায়ের চূড়ান্ত কপি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। এটি সম্পন্ন হলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে। তখন বিপুল পরিমাণ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে।’

শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা কমিয়ে আনন্দদায়ক শিক্ষা, গল্প বলার মাধ্যমে শেখানো এবং গণিত-বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্ট নিরসনে প্রয়োজনে রেসিডেন্সিয়াল বা আবাসিক স্কুলের ব্যবস্থা করা যায় কি-না, তাও সরকারের নীতিগত ভাবনায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আরও পড়ুন: আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ রাখার জায়গা থাকবে না : চিফ হুইপ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে ৮০ কোটি তরুণ বঞ্চিত হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে ৮০ কোটি তরুণ বঞ্চিত হবে

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সতর্ক করেছে যে, আগামী ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে যাওয়া প্রায় ১২০ কোটি তরুণের মধ্যে ৮০ কোটির কর্মসংস্থান হবে না। সংস্থাটির প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রু উল্লেখ করেছেন, কার্যকর নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে বিপুলসংখ্যক তরুণ কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

মঙ্গলবার ব্যাংকক থেকে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন। বর্তমানে ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভায় অংশ নিতে তিনি অবস্থান করছেন।

ডি ক্রু বলেন, আগামী ১৫ বছরে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন, কিন্তু বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাদের মধ্যে মাত্র ৪০ কোটি মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বাকি ৮০ কোটি তরুণের জন্য পর্যাপ্ত চাকরি থাকবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক উন্নয়নশীল দেশে জনসংখ্যার মধ্যম বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে রয়েছে। এই কারণে, এসব দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রযুক্তিগত পরিস্থিতির ভিত্তিতে এই পূর্বাভাস দেওয়া হলেও, যথাযথ নীতি ও শ্রমবাজারকেন্দ্রিক উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব।

তিনি বলেন, এই সংকট স্বাভাবিকভাবে দূর হবে না; এর পেছনে নীতিগত সিদ্ধান্তের ভূমিকা রয়েছে।

তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউএনডিপি দুটি নতুন উদ্যোগ চালু করেছে। এর মধ্যে ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকসেলারেটর’ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারগুলোকে বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও আইনি কাঠামো উন্নত করতে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি, বিনিয়োগের উপযোগী প্রকল্প চিহ্নিত করে সেগুলোকে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অন্য উদ্যোগ ‘জবস ফর প্রসপারিটি ফ্যাসিলিটি’ লক্ষ্য রাখবে, যেসব খাতে বেশি কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করা। একই সঙ্গে নিয়োগদাতাদের চাহিদার সঙ্গে তরুণদের দক্ষতার সামঞ্জস্য তৈরি এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ ও কর্মী নিয়োগের বাধা দূর করতে দেশগুলোকে সহায়তা করা হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে কতটা প্রভাব ফেলবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডি ক্রু বলেন, সক্রিয় শ্রমনীতি গ্রহণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের পূর্বাভাস পরিবর্তন করা সম্ভব। তার মতে, এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও পরিচর্যা, কৃষি ও পর্যটনের মতো খাতে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, মানুষের দারিদ্র্য থেকে টেকসইভাবে বের করে আনার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

এই দুই উদ্যোগে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নেপাল, ইয়েমেন, হাইতি, লেবানন ও ঘানায় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলো ‘তিনমুখী সংকটে’

কর্মসংস্থানের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এসেছে, যখন অনেক উন্নয়নশীল দেশ একসঙ্গে তিনটি বড় চাপের মুখে রয়েছে। ডি ক্রু পরিস্থিতিটিকে ‘তিনমুখী ধাক্কা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানির উচ্চমূল্য, ১৯৫০ সালের পর অন্যতম তীব্র এল নিনো পরিস্থিতি এবং ঋণ গ্রহণের অত্যন্ত উচ্চ ব্যয়।

ইউএনডিপির নতুন প্রতিবেদন ‘নো টাইম টু রিকভার’ অনুযায়ী, বর্তমানে একটি উন্নয়নশীল দেশের সরকারকে গড়ে মোট সরকারি আয়ের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ শুধু ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে। ২০১০ সালের পর এই প্রথম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এ ধরনের দারিদ্র্য নির্ধারণে শুধু আয় নয়, বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকারের বিষয়ও বিবেচনা করা হয়।

ডি ক্রু বলেন, এসব পরিসংখ্যান সবার জন্য সতর্কসংকেত হওয়া উচিত। বিশ্ব অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি স্থিতিশীলতা দেখালেও সব দেশ সমানভাবে সেই সুবিধা পাচ্ছে না। কিছু দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী হলেও অন্য দেশগুলোর পক্ষে নতুন ধাক্কা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইউএনডিপির সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানমুখী নীতি এবং বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়া ব্লুমস ও ইউএনডিপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইরানে নতুন একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত কিছু সূত্রের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রকাশ্যে দেওয়া এমন বক্তব্যের আগে ইরানে হামলা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, যেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের মাধ্যমে এমন তথ্য জানান যে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়, ইরান কি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনাটি ব্যবহার করছে কিনা, সে বিষয়টিও উঠে আসে।

তবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, দুই নেতার মধ্যে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার খবরটি ‘মিথ্যা’। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থেকে ট্রাম্প সরে এসেছেন।

সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ট্রাম্প যদি অবস্থান পরিবর্তন করেন, তাহলে দ্রুত অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতিও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি, তবে নেতানিয়াহুকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানে নতুন হামলা চালানোর পক্ষে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের নেতৃত্ব। অন্যদিকে, ট্রাম্পের অধিকাংশ উপদেষ্টা নতুন হামলার পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে।

এদিকে, ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির মার্কিন জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে জানিয়েছেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢালাও ভর্তুকি কমিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার আহ্বান আইএমএফের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


ঢালাও ভর্তুকি কমিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার আহ্বান আইএমএফের

বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা ও ঋণের চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর ব্যবস্থার সংস্কার, অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানো এবং ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলো রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য করের আওতা বাড়ানো, অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমানো এবং সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। একই সঙ্গে, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে নির্বিচারে ভর্তুকি না দিয়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে, কর সংস্কার ও ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে দরিদ্র জনগণের ওপর বাড়তি চাপ এড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের তৃতীয় দিনে অনুষ্ঠিত ‘ফিসক্যাল মনিটর’ বিষয়ক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।

আইএমএফের ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক রদ্রিগো ভালদেস, উপপরিচালক এরা দাবলা-নরিস এবং বিভাগের ডিভিশন চিফ ডেভিডে ফুরচেরি বক্তব্য দেন। ব্রিফিংয়ে যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পাভিস দেবাহাসাদিন।

আইএমএফের মতে, ঢালাও ভর্তুকি সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে এর সুফল দরিদ্র জনগণের পরিবর্তে বেশি ভোগক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের কাছে বেশি পৌঁছায়। এই কারণে, জ্বালানির দাম বাড়লে সমানভাবে ভর্তুকি দেওয়ার পরিবর্তে নিম্ন আয়ের মানুষ, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার ও গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য সুনির্দিষ্ট সহায়তা কার্যকর হতে পারে।

সংস্থাটির বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিগত সুপারিশসংক্রান্ত বিশ্লেষণে কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। কিছু দেশে কর প্রশাসনের উন্নয়নের মাধ্যমে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের সমপরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় করের আওতা সম্প্রসারণ ও অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি প্রত্যাহারকে আইএমএফ গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কর প্রশাসন সহজ ও কার্যকর করা গেলে করদাতাদের ব্যয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর পরিপালন সহজ হলে ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

মিসরের ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কার ও কর অব্যাহতি কমানোর উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার, জ্বালানি কর ব্যবস্থার স্বাভাবিকীকরণ এবং ভর্তুকি পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়াকে রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব ঘাটতি বেশি থাকা দেশগুলোর জন্য কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ, করের আওতা বাড়ানো এবং অকার্যকর কর সুবিধা পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সময় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় ঢালাও ভর্তুকির পরিবর্তে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইএমএফের বিশ্লেষণে মরক্কোর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, দেশটি সর্বজনীন ভর্তুকি ব্যবস্থা থেকে সরে এসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য সরাসরি সামাজিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে ভর্তুকি প্রত্যাহার সব ক্ষেত্রে সহজ সমাধান নয়। নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের পর সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে, তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ঋণ পরিশোধের বড় ব্যয় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। দেশটির রাজস্বের প্রায় ৪২ শতাংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হওয়ার বিষয়টিও আর্থিক ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইথিওপিয়াও আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় কর বৃদ্ধি ও ভর্তুকি সংস্কারের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। তবে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই ভর্তুকি কমানোর পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের জন্য কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় আগাম আর্থিক প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সম্ভাব্য দুর্যোগের ক্ষতি সামাল দিতে আর্থিক সুরক্ষাব্যবস্থা ও জরুরি তহবিল গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের পরও জ্যামাইকার আগাম অর্থনৈতিক প্রস্তুতির বিষয়টি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ইউরোপে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপের কারণে সরকারি বাজেট ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ সীমিত থাকলে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের অর্থ জোগাতে অন্যান্য খাতে ব্যয় কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। এতে সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং জনসেবার মতো খাতের বরাদ্দ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জনসংখ্যার বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে। আইএমএফের বিশ্লেষণে ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আনুষ্ঠানিক কর ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষম জনগণের অনুপাত কমে গেলে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়তে পারে, অথচ করদাতার সংখ্যা প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরো কঠিন হয়ে উঠবে। এ পরিস্থিতিতে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি।

ঋণ সংকটে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তারল্য সহায়তা, ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানো এবং ঋণ পুনর্গঠনও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতা হিসেবে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ সামলানোর পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা। এ জন্য রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ব্যয়ের দক্ষতা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি স্কুলে ভর্তি: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


সরকারি স্কুলে ভর্তি: প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ : আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালার অধীনে, প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন লটারির মাধ্যমে করা হবে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে ভর্তি হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭’ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, ফি গ্রহণ এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশ সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে হবে।

শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থী সংখ্যা ও বয়সসীমা

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি শ্রেণির শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ জন হবে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স ৬+ বছর নির্ধারণ করা হলেও, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে আবেদন করার জন্য সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বাধিক ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হবে।

ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও মানবণ্টন

নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বাধিক ৫টি বিদ্যালয়ে পছন্দক্রম দিতে পারবে। তবে, ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে ২টি বিদ্যালয় পছন্দক্রম হিসেবে গণ্য হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির আয়োজন করবে এবং লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। লিখিত পরীক্ষার জন্য দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পূর্ণমান ৫০ (বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০, সময় ১ ঘণ্টা) হবে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য পূর্ণমান ১০০ (বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০, সময় ২ ঘণ্টা) নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই থেকে তৈরি হবে এবং প্রশ্নপত্র মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী হতে হবে।

আবেদন ফি ও সেশন চার্জ

নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ফরমের জন্য সর্বাধিক ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে আবেদনের জন্য সর্বাধিক ২৫০ টাকা নেওয়া যাবে। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা

নীতিমালায় আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়ের আওতাধীন এলাকার (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র ও কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অধীনস্থ দপ্তরের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, সহোদর বা সহোদরা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

এছাড়া, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতি শাখায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করে ভর্তি প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%