১১:৪৯ এম
ঢাকা, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ : আসন্ন ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই নীতিমালার অধীনে, প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন লটারির মাধ্যমে করা হবে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে ভর্তি হবে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা-২০২৭’ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন, ফি গ্রহণ এবং ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশ সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে হবে।
আরও পড়ুন: ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন
শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থী সংখ্যা ও বয়সসীমা
নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি শ্রেণির শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ জন হবে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর বয়স ৬+ বছর নির্ধারণ করা হলেও, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে আবেদন করার জন্য সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বাধিক ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হবে।
ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতি ও মানবণ্টন
নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে। একজন শিক্ষার্থী সর্বাধিক ৫টি বিদ্যালয়ে পছন্দক্রম দিতে পারবে। তবে, ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে ২টি বিদ্যালয় পছন্দক্রম হিসেবে গণ্য হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে লটারির আয়োজন করবে এবং লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: ক্যান্সারে আক্রান্ত রামেক ডেন্টাল শিক্ষার্থী নুর ফাতেমার চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী বাছাই করা হবে। লিখিত পরীক্ষার জন্য দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির পূর্ণমান ৫০ (বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০, সময় ১ ঘণ্টা) হবে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির জন্য পূর্ণমান ১০০ (বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০, সময় ২ ঘণ্টা) নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই থেকে তৈরি হবে এবং প্রশ্নপত্র মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী হতে হবে।
আবেদন ফি ও সেশন চার্জ
নীতিমালার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ফরমের জন্য সর্বাধিক ১১০ টাকা এবং দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে আবেদনের জন্য সর্বাধিক ২৫০ টাকা নেওয়া যাবে। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা
আরও পড়ুন: পদত্যাগের নির্দেশের খবর গুজব, দাবি ইশরাক হোসেনের
নীতিমালায় আসন সংরক্ষণ ও কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর সরকারি বিদ্যালয়ের আওতাধীন এলাকার (ক্যাচমেন্ট এরিয়া) শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র ও কন্যাদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অধীনস্থ দপ্তরের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, সহোদর বা সহোদরা শিক্ষার্থীদের জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
এছাড়া, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে সন্তানদের ভর্তির জন্য প্রতি শাখায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন সংরক্ষিত থাকবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করে ভর্তি প্রক্রিয়া তদারকি করা হবে।
আরও পড়ুন: ঢাকা রেসিডেনসিয়ালে ২৩ দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সফল ডিআরএমসি বিজনেস সামিট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন