বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫১ পি.এম
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৌলভি আমির খান মুত্তাকি বাংলাদেশের ধর্মীয় আলেম, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠককালে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকের সময় মুত্তাকি প্রতিনিধি দলকে আফগানিস্তানে বিদ্যমান বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগ সম্পর্কে আশ্বস্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা প্রসারে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বাংলাদেশী প্রতিনিধি দলটি আফগানিস্তান সফরে তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং দেশটির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগকে স্বাগত জানায়।
প্রতিনিধি দলটি উল্লেখ করে যে, দুই দেশের সরকার ও জনগণের মধ্যে গঠনমূলক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করে যে, অব্যাহত সফর ও পারস্পরিক বিনিময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে জোরদার করতে এবং আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে দু’টি প্যানেল। উভয় প্যানেলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রেস ক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’ এবং ‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’ তাদের প্যানেল ও ইশতেহার ঘোষণা করেন।
‘সম্মিলিত ক্লাব ঐক্য পরিষদ’-এর সংবাদ সম্মেলন সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পরিষদের নেতৃবৃন্দ তাদের ১৪ দফার নির্বাচনী ইশতেহার এবং পূর্ণাঙ্গ প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী মোল্লা খায়রুল ইসলাম উল্লেখ করেন, "দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ক্রীড়া সংগঠক এবং সাবেক ক্রীড়াবিদদের সমন্বয়ে এই প্যানেল গঠন করা হয়েছে।" খুলনাকে খেলাধুলার নগরী তথা ‘স্পোর্টস সিটি’ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত করার উদ্দেশ্যই তাদের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে- খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের পূর্ণাঙ্গ রূপদান এবং বন্ধ থাকা খেলাধুলা পুনরায় চালু করা, লীগের নামে সাময়িক টুর্নামেন্ট না করে পূর্ণাঙ্গ লীগ আয়োজন করা, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহায়তায় ও নিজস্ব অর্থায়নে তরুণ খেলোয়াড় তৈরির নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা।
এছাড়া জেলা স্টেডিয়ামে আধুনিক সুইমিংপুল নির্মাণ, স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্রীড়া সংস্থার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা, বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও নিয়মিত প্রমিলা ক্রিকেট লিগ চালু করা এবং জেলা স্টেডিয়ামকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ভেন্যু হিসেবে গড়ে তোলা ও সার্কিট হাউস মাঠসহ জেলার অন্যান্য মাঠকে খেলার উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ২২২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ২৬ জনের পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে ৪ জন সহসভাপতি, ১ জন সাধারণ সম্পাদক, ১ জন অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক, ২ জন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ১ জন কোষাধ্যক্ষ এবং ১৩ জন নির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ জন সংরক্ষিত সদস্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
প্যানেলের মূল প্রার্থী তালিকায় আছেন, সহসভাপতি- এস এম মোয়াজ্জেম রশীদী দোজা, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, মো. জুলফিকার আলী খান, শাহ আসিফ হোসেন (রিংকু), সাধারণ সম্পাদক- মোল্লা খায়রুল ইসলাম, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক- শেখ হেমায়েত উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- বেলাল হোসেন, কে. এম আশরাফুল আলম (নান্নু) এবং কোষাধ্যক্ষ হাসান জহীর মুকুল।
‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’ :
এদিকে বেলা সাড়ে ১২টায় ‘সম্মিলিত ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ’ মনোনীত ‘রেজভী-ফয়েজ-মামুন-জাহাঙ্গীর-পিলু-আবুল’ প্যানেলের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে সততা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থী ও খুলনা বিভাগীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক প্রধান কোচ ইমতিয়াজ হোসেন পিলু বলেন, "খুলনার ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার, মাঠের সংকট ও অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং সাধারণ ক্লাবগুলোর অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই ১২ জনের এই শক্তিশালী প্যানেল গঠিত হয়েছে।"
নির্বাচনে প্যানেলটির মূল প্রার্থীরা হলেন- সহসভাপতি (৪ জন)। মো. হাসান মেহেদী রেজভী, মজিবর রহমান ফয়েজ, শরীফ মো. বদরুজ্জামান (মামুন), ও শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন। সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ হোসেন পিলু, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল হোসেন আবুল, যুগ্ম-সম্পাদক মো. খাইরুল আহসান (মানিক), কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, নির্বাহী সদস্য মিলজার হোসেন, এস এম আজাদ হোসেন জুয়েল, মো. জোবায়ের ইসলাম এবং মনিরুজ্জামান মহাসীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করার লক্ষ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বস্তরের জনগণকে একত্রিত করে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার রাতে (৯ সেপ্টেম্বর) সৈয়দপুরের পুবালী স্কাউট বিজ্ঞান ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। সভাটি পুবালী স্কাউটের সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পুর আহ্বানে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এতে শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান বক্তব্য প্রদান করেন সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু, অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী, নজরুল ইসলাম, সেকেন্দার আলী, মনজুর আলম, শেখ কুতুব উদ্দিন নওশাদ আনসারী, সুলতান, সোহাগ প্রামাণিক, তারিকুল ইসলাম, জাস্টিস, কুতুব উদ্দিন আলো, রুহুল আমিন, অপু ইমরান এবং সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল খালেক সাবুসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে আইনগত ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে বয়কট, মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সোচ্চার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সীমান্তপথে মাদক প্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পুলিশ ও জনগণের একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া, মাদক কারবারিদের বাড়ি চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদক মামলায় দ্রæত জামিনের সুযোগ কমানোর জন্য কার্যকর আইনি উদ্যোগ গ্রহণ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের যারা রাজনৈতিক বা অন্য কোনোভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সৈয়দপুর পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতন সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি, মাদক কারবারিদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজ করবে।
সভায় প্রাথমিকভাবে একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হয়। এতে পুবালী স্কাউটের সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পুকে আহ্বায়ক, অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানীকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সেকেন্দার আলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটিতে আরও কয়েকজন সদস্য রাখা হয়েছে। দ্রæত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে শহরব্যাপী মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন সমাজের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করলে সৈয়দপুরকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "পুলিশ ও আপনারা সচেতন সমাজ এক হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লে ইনশাআল্লাহ আমরা মাদকমুক্ত সৈয়দপুর দেখতে পাব।"
ওসি আরও বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ইতোমধ্যে পুরো উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সভায় আহ্বায়ক এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, মাদক এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। তাই দল-মত ও পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একযোগে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই উদ্যোগ কোনো একক সংগঠনের নয়। সৈয়দপুরের সচেতন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাই।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংককে আধুনিক, দক্ষ, ডিজিটাল, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে ব্যাংকের শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি, ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে বুধবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটিতে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম, বর্তমান অবস্থা, সাম্প্রতিক অগ্রগতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় ব্যাংকের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। তিনি ব্যাংকের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভাবনাময় ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এর ফলে আনসার-ভিডিপি পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান এবং আর্থিক উন্নয়নের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্যাংকের সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আলোচনায় শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগ, অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার, পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান প্রবিধানমালা আধুনিকায়নের বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ব্যাংকের লোকসানের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযোজ্য সার্কুলার অনুসরণ করে কার্যকর ও প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যাংকের সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ২০২৯ সালের মধ্যে এইচআর অটোমেশন ও ইআরপি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মী-সংক্রান্ত সেবা দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও জানানো হয়। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের মাধ্যমে ব্যাংকটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় সভায় ব্যক্ত করা হয়।
সভায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ব্যাংকের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মোফাজ্জল হোসেনসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, এনডিসি; মো. সাঈদ কুতুব; আবু সালেহ মো. মহিউদ্দিন খাঁ, এনডিসি; যুগ্মসচিব ফরিদা ইয়াসমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বাসের চাপায় সালমান মোল্লা (১৮) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মাটিয়া ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী পরশ মোল্লা (১৬) আহত অবস্থায় রয়েছেন।
নিহত মোটরসাইকেল চালক লোহাইড় গ্রামের শহীদ মোল্লার পুত্র। আহত পরশকে উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সালমান ও পরশ মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় বরইতলা থেকে আসা একটি বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সালমান মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহত পরশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আরো পড়ুন
কুমিল্লা বোর্ড : এসএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন ১৯৪৪ জনের
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ