প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করার লক্ষ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বস্তরের জনগণকে একত্রিত করে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার রাতে (৯ সেপ্টেম্বর) সৈয়দপুরের পুবালী স্কাউট বিজ্ঞান ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। সভাটি পুবালী স্কাউটের সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পুর আহ্বানে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এতে শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান বক্তব্য প্রদান করেন সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক এম আর আলম ঝন্টু, অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী, নজরুল ইসলাম, সেকেন্দার আলী, মনজুর আলম, শেখ কুতুব উদ্দিন নওশাদ আনসারী, সুলতান, সোহাগ প্রামাণিক, তারিকুল ইসলাম, জাস্টিস, কুতুব উদ্দিন আলো, রুহুল আমিন, অপু ইমরান এবং সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল খালেক সাবুসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে আইনগত ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে বয়কট, মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সোচ্চার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সীমান্তপথে মাদক প্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পুলিশ ও জনগণের একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া, মাদক কারবারিদের বাড়ি চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদক মামলায় দ্রæত জামিনের সুযোগ কমানোর জন্য কার্যকর আইনি উদ্যোগ গ্রহণ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের যারা রাজনৈতিক বা অন্য কোনোভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সৈয়দপুর পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে সচেতন সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি, মাদক কারবারিদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজ করবে।
সভায় প্রাথমিকভাবে একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হয়। এতে পুবালী স্কাউটের সভাপতি এরশাদ হোসেন পাপ্পুকে আহ্বায়ক, অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানীকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সেকেন্দার আলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটিতে আরও কয়েকজন সদস্য রাখা হয়েছে। দ্রæত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে শহরব্যাপী মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন সমাজের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করলে সৈয়দপুরকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "পুলিশ ও আপনারা সচেতন সমাজ এক হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লে ইনশাআল্লাহ আমরা মাদকমুক্ত সৈয়দপুর দেখতে পাব।"
ওসি আরও বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ইতোমধ্যে পুরো উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সভায় আহ্বায়ক এরশাদ হোসেন পাপ্পু বলেন, মাদক এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। তাই দল-মত ও পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একযোগে মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই উদ্যোগ কোনো একক সংগঠনের নয়। সৈয়দপুরের সচেতন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাই।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন