ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরগুনায় নির্মাণের ২ মাসেই ধসে পড়ল দেড় কোটি টাকার বেড়িবাঁধ


বরগুনায় নির্মাণের ২ মাসেই ধসে পড়ল দেড় কোটি টাকার বেড়িবাঁধ

বরগুনায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অর্থায়নে নির্মিত এক কোটি ৪০ লাখ টাকার বেড়িবাঁধ দুই মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তদারকির অভাবের কারণে এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় অধিবাসী ও সংশ্লিষ্টরা বাস্তবায়ন সহযোগী বেসরকারি সংস্থা জাগো নারীকে দায়ী করছেন।

জাগো নারী অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঠিকাদারদের দাবি, নকশায় ত্রুটি থাকার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের খাকদোন নদী তীরবর্তী পোটকাখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে নির্মিত হয় এই রিং বেড়িবাঁধ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অর্থায়নে এ কাজে ব্যয় হয় এক কোটি ৪০ লাখ টাকা। স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা জাগো নারী এই কাজের বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ তদারকির অভাবে বেড়িবাঁধ ও গাইড ওয়াল ধসে পড়েছে।

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

এছাড়াও, বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ৪০ শতাংশ মাটি দূর থেকে আনার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। স্থানীয়রা জানান, বাঁধের পাশের খাল খনন করে বেড়িবাঁধে মাটি দেয়া হয়েছে, যার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধ ও গাইড ওয়াল খালে ধসে পড়েছে। ৬৫০ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও পরবর্তীতে ৬২৮ মিটার নির্মাণ করা হয়েছে। এর জন্য এলাকাবাসী জাগো নারীকে দুষছেন।

পোটকাখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, “গাইড ওয়াল পুরোটা যদি ভালোভাবে করত তাহলে ধসে পড়তো না। বেড়িবাঁধ খুব নরমালভাবে করা হয়েছে, তাই পুরোটাই ধসে গেছে। নরম মাটি বেড়িবাঁধে দেয়া হয়েছে। নরম মাটির পরিবর্তে যদি শক্ত মাটি দিতো তাহলে বেড়িবাঁধ টেকসই হতো।”

মো. নান্নু নামে আরেক বাসিন্দা মন্তব্য করেন, “বেড়িবাঁধের কাজে যদি কর্তৃপক্ষ শক্তভাবে চেক দিত তাহলে কাজ ভালো হতো। এ কাজ করিয়েছে জাগো নারী। কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারকে জাগো নারীর চেক দেয়ার কথা, কিন্তু তা দেয়নি। জাগো নারী চেক দেয়নি বলে বাঁধের কাজ খারাপ হয়েছে, তাই ভেঙে গেছে।”

মো. বাবুল খান নামে অপর আরেক বাসিন্দা বলেন, “বেড়িবাঁধের মাটি খাল থেকে ভেকু দিয়ে তোলা হয়েছে। খালে গর্ত করার কথা ছিল না। দূর থেকে মাটি এনে বেড়িবাঁধে দেয়ার কথা ছিল। খাল থেকে গর্ত করে মাটি উঠানোর কারণে সাপোর্ট না পেয়ে গাইড ওয়াল এবং বেড়িবাঁধ ভেঙে খালে পড়েছে।”

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা নাসিমা বলেন, “ভাটায় যখন খাল শুকিয়ে গেছে, তখন খালের মুখে বাঁধ দিয়ে খাল থেকে ভেকু দিয়ে মাটি তুলে বেড়িবাঁধে দেয়া হয়েছে। এভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে আমরা যারা বেড়িবাঁধের পাশে বসবাস করছি, তাদের ঘর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। পানি যাওয়ার এখন আর কোনো জায়গা নেই। দেড় কোটি টাকার কাজ হয়েছে। কিন্তু পানি নামার কোনো পথ রাখা হয়নি। এখানে ড্রেন নির্মাণ করার দরকার ছিল। ড্রেন করা হলে পানি ড্রেন দিয়ে নেমে যেত।”

ঢলুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মনিরুজ্জামান বাবুল মোল্লা বলেন, “বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিয়ে জাগো নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণে যে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তা দিয়ে ওইরকম বেড়িবাঁধ তিনটা করা যায়। মূলত সমস্ত টাকা ব্যয় না করে তিন ভাগের দুই ভাগ আত্মসাৎ করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে জাগো নারীর প্রধান নির্বাহী হোসেন-আরা হাসি বলেন, “বিশ্বাস খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) আমাদের মাধ্যমে অর্থ প্রাপ্তির চ্যানেল করে দিয়েছে। কাজটি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে হবে। টাকা সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে দেয়া হয়েছে। কাজটির জন্য একটি টিম করা ছিল। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই কমিটির সভাপতি ছিলেন। তার সঙ্গে এলজিইডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ছিল। কাজ তারা বাস্তবায়ন করেছে। তারা কাজের মান দেখে রিপোর্ট দিয়েছে তারপর ইউনিয়ন পরিষদ টাকা দিয়েছে।”

তবে কাজের মানের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমিতো ইঞ্জিনিয়ার না। এটা ইঞ্জিনিয়াররা চেক করবে। এগুলোর সব দায়িত্ব উপজেলা পরিষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারদের। তবে কাজের মান অবশ্যই ভালো ছিল।”

আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে ‘হাত ধোয়ার বীর হোন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন

কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার মোস্তফা জামান মিল্টন বলেন, “ডিজাইনে বেড়িবাঁধের শ্লোপ ১:৩ না দিয়ে ১:২ দেয়া হয়েছে। এজন্য বৃষ্টির পানি ফাঁকে ঢুকে কিছু অংশ খালে নেমে গেছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে ভাঙা অংশ মেরামত করে দেয়া হবে।”

বরগুনা সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “জাগো নারী আমাদের জানিয়েছে, এই কাজটি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে। আমি তাদের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছি। কিন্তু কাজের গুণগত মান কিংবা প্লান অনুযায়ী কাজ হয়েছে কিনা এ সম্পর্কে জানি না। সাইনবোর্ডে বাস্তবায়নে আমাদের দফতরের নাম ব্যবহার করা হলেও, এ সম্পর্কে আমি আদৌ জানি না।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পটি ভিজিট করার জন্য আমাকে কখনো নেয়া হয়নি। এ সম্পর্কে আমার আদৌ ধারণা ছিল না। আর যেহেতু জাগো নারী কাজটা করেছে, এর দায়ভার তাদের ওপর বর্তায়। এটা তো কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ না যে সরকার এটার দায়ভার নেবে।”

এ বিষয়ে এলজিইডির বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, “রিং বেড়িবাঁধের বিষয়টি আমার নলেজে এসেছে। শুধুমাত্র প্রাক্কলন তৈরির সঙ্গে সদর উপজেলা প্রকৌশলী এবং তার দফতরের লোকজন জড়িত। এ ছাড়া কাজ বাস্তবায়নের কোনো পর্যায়েই এলজিইডির কোনো কর্মকর্তা জড়িত ছিল না।”

আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এআই ক্যামেরা স্থাপন হচ্ছে

তিনি বলেন, “কাগজে-কলমে দফতরের নাম যে কেউ লিখতে পারেন। তবে কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের দফতরের কোনো লোকজন ডাকা হয়নি এবং আমাদের কাছ থেকে কোনো ক্লিয়ারেন্স নেয়া হয়নি। কোনো ধাপেই আমরা জড়িত ছিলাম না।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “পোটকাখালীতে আমাদের বেড়িবাঁধের বাইরে কিছু বসতি রয়েছে। সেখানকার মানুষদের সুরক্ষার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা কাজ করেছে বলে আমরা জেনেছি। আসলে আমাদের কাছে যদি কোন টেকনিক্যাল সাপোর্ট চাওয়া হতো, তা দিতাম এবং এখনও দিতে রাজি আছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে কোন সাপোর্ট কেউ ওইখানে নেয়নি। তাই এ বিষয়ে সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত বলতেও পারছি না।

ঢলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. জিয়া মোল্লা বলেন, “বেড়িবাঁধের সব জাগো নারী করছে। পরিষদ কিছু জানে না। টোটালি পরিষদ জানে না। কিন্তু পরিষদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছে। সব জানে জাগো নারী।”

ঢলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সার্বিক তত্ত্বাবধানে জাগো নারী ছিল। এখন জাগো নারী যদি বলে- তারা কিছুই জানে না, তা হবে না। জাগো নারী তত্ত্বাবধানে ছিল, জাগো নারী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ছিল। জাগো নারী বিল ছাড় করার সময় আসছে। জাগো নারী সবসময় ছিল। এখন যদি তারা বলে- কিছুই জানি না, এটা ঠিক হয় না। আমার কাছে সবসময় জাগো নারী এসেছে। ঠিকাদার কখনোই আসেনি। জাগো নারীর মাধ্যমে এখানে সব কাজ হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ শুধু বিল ছাড় করেছে।”

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে যাচ্ছে, সেটা অবশ্যই মেরামত যোগ্য। এটা মেরামত করবে বলেও আমরা জেনেছি। এর বাইরে কাজে অনিয়মের যে অভিযোগগুলো আপনার কাছে শুনলাম, এগুলো উপজেলা প্রশাসনের কাছে আসেনি।”

তিনি আরও বলেন, “বেড়িবাঁধ ভেঙেছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা এসে পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের কমিটি জানিয়েছে, ঠিকাদারের জামানতের মাধ্যমে এটা সংস্কার করা হবে। এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্রিষ্টাল মেথ আইস জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকার ক্রিষ্টাল মেথ আইস জব্দ

সাতক্ষীরা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ : মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সাতক্ষীরা সীমান্তে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৫০০ গ্রাম ভারতীয় ক্রিষ্টাল মেথ আইস জব্দ করেছে।

বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী আশিকুর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দাঁতভাঙ্গা শ্মশানঘাট এলাকা থেকে এই মাদক উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদকের একটি বড় চালান পাচার হচ্ছে- এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঘোনা বিওপির একটি দল মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার দাঁতভাঙ্গা শ্মশানঘাট নামক সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে গেলেও সেখান থেকে পলিথিনের প্যাকেটে রক্ষিত ৫০০ গ্রাম ওজনের ক্রিস্টাল মেথ আইস জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সিগঞ্জের সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


মুন্সিগঞ্জের সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই মারা গেছেন

মুন্সিগঞ্জের প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই মারা গেছেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

আব্দুল হাই মৃত্যুকালে তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুমের নামাজে জানাজা বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। এরপর মুন্সিগঞ্জে মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে আব্দুল হাই জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগদান করে ১৯৭৯ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক জীবনে আব্দুল হাই পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে কঁচা নদীতে মাঝরাতে বিকল ট্রলার: জেলা ইজতেমার ৫০-৬০ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করল নৌ পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


কাউখালীতে কঁচা নদীতে মাঝরাতে বিকল ট্রলার: জেলা ইজতেমার ৫০-৬০ জন যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করল নৌ পুলিশ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বেকুটিয়া সেতু সংলগ্ন কঁচা নদীতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝ নদীতে ভেসে যাওয়া জেলা ইজতেমাগামী ৫০-৬০ জন যাত্রীকে অক্ষত ও নিরাপদে উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।
গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটায় দিকে 'জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯'-এর মাধ্যমে খবর পাওয়া যায়, বেকুটিয়া সেতুর দক্ষিণে পাঙ্গাশিয়া এলাকায় ইজতেমাগামী ৫০-৬০ জন যাত্রী নিয়ে "অজ্ঞাত নামীয়" একটি ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে নদীতে বিপাকে পড়েছে।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত তৎপরতা শুরু করে নৌ পুলিশ। ট্রলারের চালক আব্দুল হকের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়া মাত্রই কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আরমান হোসেনের নেতৃত্বে নৌ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে "আল্লাহর দান" নামের একটি বিকল্প ট্রলারের ব্যবস্থা করে সকল যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে রাত ১২টা ৩০ মিনিটে তাদের নিরাপদে বেকুটিয়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে নির্ধারিত কঁচা নদীর তীরে ইজতেমা ময়দানে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এই আকস্মিক ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যাত্রীরা নিরাপদে ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসি মোঃ আরমান হোসেন জানান,
"জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। মাঝনদীতে কুয়াশা ও অন্ধকারের মধ্যে যাত্রীদের আকস্মিক এই বিপদে পড়াটা সত্যিই আতঙ্কজনক ছিল। আমরা দ্রুত ট্রলারচালক আব্দুল হকের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করি এবং আমাদের একটি দল দ্রুত সেখানে গিয়ে পৌঁছায়। পরে বিকল্প আরেকটি ট্রলারের মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সের ৫০-৬০ জন ইজতেমাযাত্রীকে সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১২টার মধ্যে ইজতেমা ময়দানে পৌঁছে দিতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ৯৯৯-এ কল করার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে আট দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ, যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে আট দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ, যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে টানা আট দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। তবে এই সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। ফলে ১৭ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা আট দিন দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে।’

পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, ‘দুর্গাপূজার ছুটিতে পেট্রাপোল বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানো হলে বিশেষ ব্যবস্থায় তা খালাস করা হবে।’

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, ‘ছুটির মধ্যে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকবে। আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো, খালাস ও শুল্কায়নের কাজ চলবে। পণ্য খালাসের পর ভারতীয় ট্রাকগুলো দেশে ফিরে যেতে পারবে।’

এ বিষয়ে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি সাইফুর রহমান জানান, ‘পূজার ছুটিতে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে। এ সময় যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে বলে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশনে পুলিশের জনবল বাড়ানো হয়েছে।’

বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রফতানি হয়। এ পথে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করে থাকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%