ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আইফোনের মাধ্যমে ছবি তোলা এবং টিকটক ভিডিও তৈরি করে গড়ে ওঠে সম্পর্ক। এরপর ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় ৭ দিন আগে। ঘটনার দিন, ছবি তোলার কথা বলে ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইফোন কেড়ে নেওয়ার পর তা ফেরত চাওয়ার ঘটনায় কোদালের হাতল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। তিন আসামির স্বীকারোক্তিতে এই পূর্বপরিকল্পিত হত্যার তথ্য উঠে এসেছে।

কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যা মামলায় তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ ধরনের বর্ণনা উঠে এসেছে। পরিকল্পনা, অপ্রতিমকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া, আইফোন নেওয়া এবং তাকে আঘাত করার বিষয়ে তিনজনের বক্তব্যে অনেক জায়গায় মিল রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সময়ের বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে।

কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে দোকানে ঢুকে জামায়াত কর্মীকে গুলি করলো মুখোশধারীরা

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিন জবানবন্দির মধ্যে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন তুহিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ-ছয় মাস ধরে অপ্রতিমের সঙ্গে পরিচয় ছিল। তার বন্ধু সিয়ামের মোটরসাইকেলে করে ছবি তোলা ও টিকটক করার জন্য অপ্রতিম তাদের সঙ্গে বের হতো।

তুহিন জবানবন্দিতে বলেছেন, অপ্রতিমের আইফোনের ওপর তাদের দুজনের লোভ ছিল। ‘দুজন’ বলতে তিনি নিজে ও অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটির কথা বলেছেন।

তুহিনের দাবি, ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কিছুটা সামনে দুজনের দেখা হয়। সেখানেই আইফোন নেওয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা হয়।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬০০ পিস ইয়াবাসহ বিজিবি সদস্য আটক

অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরের জবানবন্দিতেও আগের শুক্রবারের ওই বৈঠকের কথা এসেছে। তবে ওই কিশোর পরিকল্পনার দায় মূলত তুহিনের ওপর দিয়েছে। তার বক্তব্য, ‘তুহিন আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে মারার প্ল্যান করে।’

তৃতীয় জবানবন্দিতে অপর কিশোর বলেছে, ঘটনার দিন বিকেলে তার বন্ধুই তাকে পরিকল্পনার কথা জানায় যে তুহিনের সঙ্গে মিলে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে।

অর্থাৎ, তিন জবানবন্দির একটি জায়গায় বড় মিল—হত্যার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক ছিল না। আইফোনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পরিকল্পনা হয়েছিল বলে তিনজনের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

তুহিনের জবানবন্দিতে এসেছে, হত্যার আগের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ময়নামতির একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তার দেখা হয়। অপ্রতিম তাকে নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টের ঠিকানা দেয়। ওই রাতেই টিকটকে অপ্রতিমকে মেসেজ করেন তুহিন। পরে অপ্রতিম একটি মুঠোফোন নম্বর দিলে সেই নম্বরে কথা হয়। পরদিন জুমার নামাজের পর দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।

আরও পড়ুন: আদালতের নির্দেশের পরও সিলেটের বিরোধপূর্ণ বাড়িতে দখল অব্যাহত

অপ্রতিম তার বাবার দোকানে কর্মরত ওই কিশোরকেও একই সময় আসতে বলেছিল বলে তুহিনের বর্ণনায় এসেছে। কথা ছিল, তারা ছবি তুলবে। এই ‘ছবি তোলা’র সম্পর্কটিই শেষ পর্যন্ত অপ্রতিমকে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে—এমন বর্ণনাই পাওয়া যায় তিনজনের জবানবন্দি থেকে।

১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তার চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের বড় যুবকদের সঙ্গে মেলামেশা ও সম্পর্ককে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘অসম বন্ধুত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে দেখা হয় বলে তুহিন জানিয়েছেন। এরপর অপ্রতিমকে ‘বুদ্ধি দিয়ে’ সানন্দা পশ্চিমপাড়ার দিকে নিয়ে যান। জায়গাটি নির্জন, এটি তার চাচা শাহ আলমের পাহাড় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তুহিন।

অন্যদিকে অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি জানিয়েছে, বেলা দুইটার পর কোটবাড়ির বোর্ড মার্কেট এলাকায় তার সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। পরে সন্ধ্যার আগমুহূর্তে সে তার আরেক কিশোর বন্ধুকে নিয়ে পাহাড়ে যায়। যাওয়ার আগেই ওই বন্ধুকে পরিকল্পনার কথা খুলে বলে।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, ১০ যাত্রী আহত

তৃতীয় কিশোরের বর্ণনাও কাছাকাছি। সে জানিয়েছে, বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি স্কুলের সামনে তার সঙ্গে ওই কিশোরের দেখা হয়। সেখানেই হত্যার পরিকল্পনার কথা শোনে। এরপর বিকেল চারটার পর তারা পাহাড়ে যায় এবং সেখানে অপ্রতিম ও তুহিনকে বসে থাকতে দেখে।

চারজন একত্র হওয়ার পর কিছু সময় গল্প ও আড্ডা হয়—এ বিষয়টিতেও তিন জবানবন্দির বর্ণনা কাছাকাছি।

দোকানে কর্মরত কিশোরটি জবানবন্দিতে বলেছে, সে অপ্রতিমের কাছে ফোন চাইলে অপ্রতিম সেটি তাকে দেয়। কিছুক্ষণ ব্যবহারের পর সে ফোনটি তুহিনের হাতে দেয়।

তুহিনের জবানবন্দিতেও একই ধরনের বর্ণনা রয়েছে। ওই কিশোর অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোন নিয়ে অনেকক্ষণ ব্যবহারের পর সেটি আর অপ্রতিমকে ফেরত না দিয়ে তুহিনের হাতে দেয়। এরপর ফোন নিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পুলিশও আগে জানিয়েছিল, অপ্রতিম আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করলে তুহিন বাধা দেন এবং এরপর মারধরের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: রাবিতে ডেঙ্গু সচেতনতায় হাল্ট প্রাইজের নতুন কর্মসূচি

এরপরের ঘটনাক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তিনজনের বক্তব্য মিলে যায়—অপ্রতিমকে প্রথম আঘাত করেন তুহিন। প্রথমে অপ্রতিমকে একটি থাপ্পড় মারেন তুহিন। এরপর পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল নিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। তারপর অন্য দুজনকে মারতে বলেন।

দোকানে কর্মরত কিশোরটির বক্তব্যেও এসেছে, তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের ঝগড়া হওয়ার পর তুহিন পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে প্রথমে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। তৃতীয় কিশোরও বলেছে, তুহিনই প্রথম ওই হাতল দিয়ে অপ্রতিমকে আঘাত করেন।

তিন জবানবন্দির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মিল পাওয়া যায় হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে। তুহিন বলেছেন, অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তাদের লোভ হয়েছিল।

দ্বিতীয় কিশোর তার জবানবন্দিতে আরও স্পষ্ট করে বলেছে, ‘আমাদের প্ল্যান ছিল, তুহিন ওই মোবাইল বিক্রি করে আমাকে টাকার ভাগ দিবে। এই জন্যই এই কাজ করা।’ তৃতীয় কিশোরও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে। তার ভাষ্য, তাকে বলা হয়েছিল আইফোনটি বিক্রি করে টাকার ভাগ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে সাজসজ্জায় দেবালয়ের পরেই কৈলাশ পূজামণ্ডপ

অপ্রতিমের মৃত্যুর পর কে কোথায় ছিলেন, সেই বর্ণনাতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তুহিন বলেছেন, অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর অন্য দুজন একদিকে চলে যায় এবং তিনি অন্যদিকে চলে গিয়ে বাসায় ফেরেন। দ্বিতীয় জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর দুই কিশোর একসঙ্গে ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। তখন তুহিন সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। তৃতীয় কিশোরও বলেছে, সে ও তার বন্ধু একসঙ্গে চলে আসে; তুহিন অন্যদিকে যান। তবে অপ্রতিমের আইফোন শেষ পর্যন্ত তুহিনের কাছেই ছিল—তিনজনের বয়ানেই এমন কথা উঠে আসে।

তুহিনের জবানবন্দিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে তার বন্ধু মো. সিয়ামকে (১৯) নিয়ে।

তুহিনের ভাষ্য, হত্যার পর বাসায় ফিরে তিনি সিয়ামকে ফোন করে ডেকে আনেন এবং ‘সব কথা খুলে বলেন’। সিয়াম অপ্রতিম হত্যার প্ল্যানের কথা আগে থেকেই জানতেন বলেও জবানবন্দিতে উঠে আসে।

অন্য দুই আসামির জবানবন্দিতে অবশ্য হত্যার আগের পরিকল্পনার সঙ্গে সিয়ামের কোনো সম্পৃক্ততার কথা নেই। পুলিশ সিয়ামকে পরে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

পুলিশের ভাষ্য ছিল, তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি; তবে ঘটনার কথা জানার পর তা গোপন করেছিলেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছিল, হত্যার দিন রাতেই তুহিন তার সঙ্গে দেখা করে হত্যার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।

জবানবন্দিগুলোয় ঘটনার পরের দিনের আচরণের বর্ণনাও রয়েছে। তুহিন বলেছেন, হত্যার পরদিন সকালে অপ্রতিমের মামা তাঁকে ফোন করে অপ্রতিমের খোঁজ করেন। এরপর তিনি সিয়ামকে নিয়ে কোটবাড়িতে অপ্রতিমের খোঁজ করতে যান। অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি বলেছে, পরদিন সে অপ্রতিমের বাবার একজন সহকারীর সঙ্গে অপ্রতিমকে খুঁজেছে। পরে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে সেও ঘটনাস্থলে যায়।

অন্য কিশোর জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর সে এবং তার বন্ধু সন্ধ্যায় ফেসবুকে অপ্রতিমের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেয়। আর এর মধ্যেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তুহিনকে শনাক্ত করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের বক্তব্য অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে যাচাই করা হবে। হত্যাকাণ্ডে আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এই তিনটি জবানবন্দি পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয়, আইফোনের প্রতি লোভ, পূর্বপরিকল্পনা, নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া, ফোন হাতে নেওয়া এবং এরপর হামলার মূল ঘটনাক্রমে মিল রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে কার ভূমিকা কতটা ছিল—সেসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায়।

এখন সেই বিচারের অপেক্ষায় অপ্রতিমের পরিবার, সহপাঠী এবং কুমিল্লার মানুষ। যে বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম, সেই বিকেলের ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—এটাই এখন স্বজনদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্র আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


ছাত্র আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ভুচিচ

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ ছাত্রদের গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন। তবে, এটি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়, বরং ২৫ অক্টোবরের আগাম সংসদীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল হিসেবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বজায় রাখা ভুচিচের শাসনের বিরুদ্ধে এটি বর্তমানে সবচেয়ে বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নভেম্বর ২০২৪ সালে নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুর পর থেকে সার্বিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও অস্বচ্ছতার অভিযোগে ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিক্ষোভ ও জনদাবির মুখে ভুচিচকে আগাম নির্বাচন দিতে বাধ্য হতে হয়েছে। এই নির্বাচনে ভুচিচের ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে ছাত্র ও বিভিন্ন বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘ছাত্রদের জয়’ জোট।

তবে, এই রাজনৈতিক অস্থিরতা সার্বিয়ার ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই; গোটা পশ্চিম বলকান অঞ্চলে এর প্রভাব পড়ছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো আশা করছে, সার্বিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলে পুরো অঞ্চলের কূটনৈতিক উত্তেজনা কমবে। অন্যদিকে, চীনা বিনিয়োগ ও রাশিয়ার জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর তুলনায় সার্বিয়ার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান পিছিয়ে রয়েছে, যা নির্বাচনে ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভুচিচ হেরে গেলেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সার্বিয়ায় নতুন সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২২ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেনে সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


২২ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেনে সতর্কতা

বাংলাদেশ ব্যাংক ২২টি অনলাইন পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটরকে শনাক্ত করেছে, যেগুলো লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের ওয়েবসাইট এবং গুগল প্লে স্টোরের অ্যাপ সরিয়ে নেওয়া এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক বিটিআরসিকে চিঠি প্রেরণ করেছে। একইসাথে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকেও (বিএফআইইউ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগ এই প্রতিষ্ঠানগুলো শনাক্ত করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পেমেন্ট সেবা প্রদান করা ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’ অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বাংলাদেশ ব্যাংক শনাক্ত করা লাইসেন্সবিহীন ২২টি অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মধ্যে রয়েছে—BohudurPay, ZiniPay, PayTiller, BengaliPay, Payora BD, SohojPay BD, EasyPayWay, AK Pay, BD PAY, ShajgarPay, AsthaPay/CPay, UddoktaPay, Walletmix, BttPay, Easy Pay Automation, UniquePay BD, BD AUTO PAY, RH Pay BD, EzePay, AutoPay Ltd, Biswasto এবং PipraPay।

বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, এসব প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্ল্যাটফর্মগুলোতে লেনদেন করলে গ্রাহকরা আর্থিক ও আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য আইনি ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক লাইসেন্সবিহীন এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোনো ধরনের লেনদেন না করার জন্য সর্বসাধারণকে বিশেষভাবে পরামর্শ দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাদিক কায়েমকে নিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিস্ফোরক মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


সাদিক কায়েমকে নিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানীর বিস্ফোরক মন্তব্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতার মোহে ও পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি করার উদ্দেশ্যে ইসলামপন্থীরা নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে নীতিহীন প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

ফেসবুক পোস্টে রফিকুল উল্লেখ করেন, "ভাবছিলাম ডাকসু ও সাদিক কায়েম বিষয়ে আর কিছু লিখব না। কারণ আমরা যতই বলি, এরা দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করবে না। কারণটাও স্পষ্ট- এরা এখন প্ল্যানিং করে আমেরিকা ও তাদের পশ্চিমা আব্বুদের খুশি করছে।"

তিনি আরও লেখেন, "এখন দেখছি, এমন ঘৃণ্য বিষয়ের পরও একদল ছাপড়ি ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর লাগিয়ে দিয়েছে সাদিক কায়িমের বক্তব্যের পক্ষে বয়ান তৈরি করার জন্য।"

রফিকুল বলেন, "এরা বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি মাদ্রাসা? এখানে কি সব মেয়েদের পর্দা করতে হবে? এই মোল্লারা কি বুঝে? আরও যত থার্ডক্লাস মার্কা ফালতু যুক্তি!"

তিনি উল্লেখ করেন যে, বিরোধিতা করার সময় কেউ বলেনি মেয়েরা কেন খেলল বা কেন পর্দা করে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন খেলাধুলা হয় এবং মেয়েরাও খেলায় অংশগ্রহণ করে-এটি সকলের জানা। তিনি বলেন, "এটা এখনই বললেই বন্ধ হয়ে যাবে না।"

পোস্টে তিনি আরো লেখেন, "কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাদিক কায়িমের মতো ইসলামি নামধারী সংগঠনের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে, সেই খেলা প্রথম আয়োজন করেছে মর্মে, স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরা মেয়েদের সামনে তাদের খুশি করতে একেবারে গদগদ হয়ে বক্তব্য দেওয়া এবং আয়োজনে ভূমিকা রাখা আরেকজনের প্রশংসায় হাততালি দিতে বলা-এটা কেমন বিষয়।"

তিনি উল্লেখ করেন, "আল্লাহর সুস্পষ্ট হারামকে প্রকাশ্যে আয়োজন, স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, তারপর উৎসাহ দেওয়া-সেটার আয়োজকের জন্য হাততালি! এই লোকের বিধান কী? দেশের অথবা তাদের পছন্দমতো বাইরের শীর্ষস্থানীয় ফতোয়া বোর্ডে এটার ফতোয়া চাওয়া হলে কী ফতোয়া আসবে-ভাবতেই গা শিউরে ওঠে!"

মাদানী বলেন, "আসলে আমার মনে হয়, এগুলো তারাও বুঝে। কিন্তু এখন মৌসুম হলো-আমেরিকা ও পশ্চিমকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য খুশি করার। যেটা আওয়ামী লীগ-বিএনপিও করে!"

তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, "যেমন শামা ওবায়েদ জাতিসংঘে গিয়ে বলছে, আমরা পিংক বাসে মহিলা চালক দিয়েছি! মানে এটার হাজিরাও সেখানে দিতে হবে! আমার ধারণা, সাদিক কায়িম একা না-এরা সবাই আগামী ১-২ বছর পশ্চিমের কাছে নিজেদের মডারেট ও প্রগতিশীল বোঝাতে, ক্ষমতা পাওয়ার নেশায় আরও অনেক নিচে নামবে। ক্ষমা তো চাইবেই না!"

রফিকুল ইসলাম মাদানী আরো লেখেন, "বাকি একটা পরামর্শ-ক্ষমতার জন্য প্রকাশ্যে নিচে নামলেও, গোপনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েন। তবে সেটাও আল্লাহ গ্রহণ করবেন কি না, উনার বিষয়। কারণ তিনি তো মনের খবর জানেন!

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী পুলিশের অভিযানে ১৪৩ জন মাদকসহ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


রাজশাহী পুলিশের অভিযানে ১৪৩ জন মাদকসহ গ্রেপ্তার

রাজশাহী, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ১৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে।

আজ সোমবার রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজশাহী রেঞ্জ এলাকায় ১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে এবং ৩টি চুরির মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ৬২টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ১১টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এই সময়ে ডাকাতি, দস্যুতা, যৌতুকের জন্য হত্যা, সাইবার সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন, নারী ও শিশু নির্যাতন কিংবা দ্রুত বিচার আইনে কোনো মামলা বা অন্য কোনো ঘটনা ঘটেনি।

অপরাধ দমনে পরিচালিত অভিযানে মোট ১৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরোয়ানাভুক্ত ৩৯ জন, সাজাপ্রাপ্ত ৮ জন, তদন্তাধীন মামলার ৮৯ জন এবং প্রতিরোধমূলক অন্যান্য ৭ জন আসামি। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও সেবী হিসেবে আলাদাভাবে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানকালে পুলিশ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ইউএসএ-তে তৈরি ১টি পিস্তল (নম্বর-১১ লেখা), ২ রাউন্ড গুলির খোসা এবং ১টি বার্মিজ চাকু। মাদকদ্রব্যের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ২,১৯৯ পিস ইয়াবা, ৫ গ্রাম হিরোইন, ২৬.৫ লিটার চোলাইমদ, ৩ কেজি ৯০ গ্রাম গাঁজা, ৩,৩৮০ পিস টাপেন্টাডল, ৪৮ বোতল ফেন্সিডিল এবং ৩৪ বোতল উইনসিরাক্স। অপরাধ দমন ও আসামি ধরতে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৪৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৫৭ জন এবং চলতি মাসে মোট ২৫ হাজার ২৭১ জন নাগরিক পুলিশি সেবা গ্রহণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%