প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আলোচিত ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতার মোহে ও পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি করার উদ্দেশ্যে ইসলামপন্থীরা নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে নীতিহীন প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
ফেসবুক পোস্টে রফিকুল উল্লেখ করেন, "ভাবছিলাম ডাকসু ও সাদিক কায়েম বিষয়ে আর কিছু লিখব না। কারণ আমরা যতই বলি, এরা দুঃখ প্রকাশ পর্যন্ত করবে না। কারণটাও স্পষ্ট- এরা এখন প্ল্যানিং করে আমেরিকা ও তাদের পশ্চিমা আব্বুদের খুশি করছে।"
তিনি আরও লেখেন, "এখন দেখছি, এমন ঘৃণ্য বিষয়ের পরও একদল ছাপড়ি ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর লাগিয়ে দিয়েছে সাদিক কায়িমের বক্তব্যের পক্ষে বয়ান তৈরি করার জন্য।"
রফিকুল বলেন, "এরা বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি মাদ্রাসা? এখানে কি সব মেয়েদের পর্দা করতে হবে? এই মোল্লারা কি বুঝে? আরও যত থার্ডক্লাস মার্কা ফালতু যুক্তি!"
তিনি উল্লেখ করেন যে, বিরোধিতা করার সময় কেউ বলেনি মেয়েরা কেন খেলল বা কেন পর্দা করে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন খেলাধুলা হয় এবং মেয়েরাও খেলায় অংশগ্রহণ করে-এটি সকলের জানা। তিনি বলেন, "এটা এখনই বললেই বন্ধ হয়ে যাবে না।"
পোস্টে তিনি আরো লেখেন, "কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাদিক কায়িমের মতো ইসলামি নামধারী সংগঠনের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে, সেই খেলা প্রথম আয়োজন করেছে মর্মে, স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরা মেয়েদের সামনে তাদের খুশি করতে একেবারে গদগদ হয়ে বক্তব্য দেওয়া এবং আয়োজনে ভূমিকা রাখা আরেকজনের প্রশংসায় হাততালি দিতে বলা-এটা কেমন বিষয়।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আল্লাহর সুস্পষ্ট হারামকে প্রকাশ্যে আয়োজন, স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন, তারপর উৎসাহ দেওয়া-সেটার আয়োজকের জন্য হাততালি! এই লোকের বিধান কী? দেশের অথবা তাদের পছন্দমতো বাইরের শীর্ষস্থানীয় ফতোয়া বোর্ডে এটার ফতোয়া চাওয়া হলে কী ফতোয়া আসবে-ভাবতেই গা শিউরে ওঠে!"
মাদানী বলেন, "আসলে আমার মনে হয়, এগুলো তারাও বুঝে। কিন্তু এখন মৌসুম হলো-আমেরিকা ও পশ্চিমকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য খুশি করার। যেটা আওয়ামী লীগ-বিএনপিও করে!"
তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, "যেমন শামা ওবায়েদ জাতিসংঘে গিয়ে বলছে, আমরা পিংক বাসে মহিলা চালক দিয়েছি! মানে এটার হাজিরাও সেখানে দিতে হবে! আমার ধারণা, সাদিক কায়িম একা না-এরা সবাই আগামী ১-২ বছর পশ্চিমের কাছে নিজেদের মডারেট ও প্রগতিশীল বোঝাতে, ক্ষমতা পাওয়ার নেশায় আরও অনেক নিচে নামবে। ক্ষমা তো চাইবেই না!"
রফিকুল ইসলাম মাদানী আরো লেখেন, "বাকি একটা পরামর্শ-ক্ষমতার জন্য প্রকাশ্যে নিচে নামলেও, গোপনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েন। তবে সেটাও আল্লাহ গ্রহণ করবেন কি না, উনার বিষয়। কারণ তিনি তো মনের খবর জানেন!
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন