ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু: র‌্যাব মহাপরিচালক


অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু: র‌্যাব মহাপরিচালক

র‌্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই অভিযানে র‌্যাবের নেতৃত্বে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে অভিযানের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

তিনি গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। তথ্য দাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করবে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় র‌্যাব-৬ খুলনার সদর দপ্তরে সুন্দরবনের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও অস্ত্র উদ্ধার উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার সুন্দরবনের পাঁচটি জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন এবং ৬৯টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৬।

আরও পড়ুন: কসবায় ৯ রাউন্ড চাইনিজ গুলিসহ যুবক মো. শামিম আটক

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, এ পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩১৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন আবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরে গেছে। আত্মসমর্পণকারীদের একটি অংশ পুনর্বাসনের সুযোগ পাওয়ার পরও কেন তারা আবার অপরাধে ফিরে যাচ্ছে, সেটি এখন নতুন করে ভাবনার বিষয়।

তিনি বলেন, সামাজিক চাপ, রাজনৈতিক কারণ, সচেতনতার অভাব, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনীহা এবং হয়রানির ভয়-এসব কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে, ৩১৮ জনের মধ্যে ৩০ জনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরে যাওয়ার হারকে খুব বেশি মনে করছেন না র‌্যাব মহাপরিচালক।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১শ’ শতাংশ তো আর স্বাভাবিক জীবনে আনতে পারব না। যেহেতু আমরা তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে পারি না। আর কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতাও থাকে।’ আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে নজরদারি নেই-এমনটি নয় বলেও জানান তিনি। র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। আত্মসমর্পণের পর কেউ আবার অপরাধে জড়াচ্ছে কি-না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, সুন্দরবনে এখনো চার থেকে পাঁচটি জলদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। আত্মসমর্পণকারীদের জন্য নেয়া পুনর্বাসন প্যাকেজ দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হবে বলে আশা করছেন তিনি। তবে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবার পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সৌদি রুটে ১৪৪ ফ্লাইট স্থগিত, ২২ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

তিনি বলেন, আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আগের চেয়ে ভালো পুনর্বাসন ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে আত্মসমর্পণকারীদের অহেতুক মামলা ও হয়রানির বিষয়টিও সামনে এসেছে।

র‌্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক কিংবা মামলা দেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আত্মসমর্পণকারীরা যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদারে সেখানে একটি র‌্যাব ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় কোস্ট গার্ডের একটি ক্যাম্প রয়েছে। সুন্দরবনবাসী চাইলে সেখানে র‌্যাবের একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, বন্য প্রাণীর প্রজনন, বিচরণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন আবার পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।

সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব মহাপরিচালক। একই সঙ্গে উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা, বনজীবীদের জীবন-জীবিকা এবং দেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ঢাকা-কুমিল্লা ৯০ কিমি. রেলপথ নির্মাণে ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়

উল্লেখ্য, এবার আত্মসমর্পণকারী ৫৯ জনের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন রয়েছেন।

তাদের আত্মসমর্পণের সঙ্গে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করেছে র‌্যাব। উদ্ধার করা হয়েছে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও ৭টি ওয়াকিটকি।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি শটগান, ৪৭টি ওয়ান শুটার গান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান এবং একটি পয়েন্ট ২২ বোর রাইফেল।

র‌্যাব বলছে, সুন্দরবনের জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে। গত ২ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে র‌্যাব ফোর্সেস।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ঠেকাতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছেন হাজার হাজার ইসরাইলি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে ক্লিনিকে অনিয়ম, ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০০ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে ক্লিনিকে অনিয়ম, ৮০ হাজার টাকা জরিমানা

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার এআর ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কর্তৃপক্ষকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার, বেলা ১১টার দিকে অভিযোগের ভিত্তিতে ক্লিনিকটিতে অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, ফার্মেসির অনুমোদন না থাকা এবং অনুমোদিত শয্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রাখার বিষয়গুলো ধরা পড়ে। এছাড়া, এক্স-রে টেকনোলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবলও সেখানে উপস্থিত ছিল না।

ক্লিনিকটিতে অনুমোদিত শয্যার সংখ্যা ১০টি, কিন্তু সেখানে ১৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এসব অনিয়মের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুটি ধারায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম এবং সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানা আক্তার। অভিযানের সময় পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করেছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন, অনুমোদনের শর্ত ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ক্লিনিক পরিচালনা এবং রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলার মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে ৪ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে ৪ লক্ষাধিক টাকা জরিমানা

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্ব) গভীর রাতে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে দুই ব্যাবসায়ীকে এইজরিমানা করা হয়। 

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেব নাথ। তাঁর সাথে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম তারেক এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার। এ সময় ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, উপজেলার পাইকের ছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা কুড়ারপাড় এলাকায় মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খোকনের মালিকানাধীন মেসার্স খোকন ব্রিক্স-এর দুটি ঘরে অভিযান চালিয়ে ১৬ বস্তা ইউরিয়া ও ৭ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়। অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে একই ইউনিয়নের কুড়ারপাড় বাজারের সার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের মেসার্স রফিক ট্রেডার্স-এর দোকানে অভিযান চালিয়ে ৯ বস্তা এমওপি সার পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জানা গেছে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃষকদের কাছে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করে আসছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কৃষি মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমৃত দেব নাথ বলেন, ‘অবৈধভাবে সার মজুদ করা হয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। কৃত্রিম সঙ্কট ও কালোবাজারি বন্ধে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দকৃত সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেকর্ড ২৫০ দিন সমুদ্রে থাকার পর থাইল্যান্ডে নোঙর করল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


রেকর্ড ২৫০ দিন সমুদ্রে থাকার পর থাইল্যান্ডে নোঙর করল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

টানা ২৫০ দিন সমুদ্রে থাকার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পাতায়ার কাছে নোঙর করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরীটির প্রায় ৫ হাজার নাবিকের জন্য বিশ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রণতরীটির ক্লান্ত নাবিকেরা যখন শহরের বার ও রেস্তোরাঁয় যাবেন, তখন তারা অনেকটা সেই মার্কিন সেনাদের পথই অনুসরণ করবেন, যারা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় পাতায়ায় আসতেন।

মার্কিন সেনাদের নিয়মিত যাতায়াতের ফলে পাতায়া একটি ছোট জেলেপাড়া থেকে বিশ্বের পরিচিত পার্টি শহরগুলোর মধ্যে পরিণত হয়। তবে বর্তমানে শহরের সমুদ্রসৈকতের দিকে যাওয়া গলিগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত।

বিখ্যাত ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’-এর বারগুলোতে গ্রাহক আকর্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রচারণামূলক ভিডিও চালানো হলেও আগের মতো ভিড় দেখা যায় না। বর্তমানে পাতায়ায় আসা পর্যটকদের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে পরিবার নিয়ে আসা মানুষ। তারা সাধারণত গো-গো বারের চেয়ে তুর্কি আইসক্রিম বিক্রেতাদের মতো পারিবারিক বিনোদনের প্রতি বেশি আগ্রহী।

ইরান যুদ্ধের কারণে পর্যটন ও মানুষের খরচ কমে যাওয়ায় পাতায়ার ব্যবসাগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার পর প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নাবিকের আগমন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সমুদ্রে থাকার সময় নাবিকদের প্রায় নয় মাসের বেতন খরচ করার সুযোগ হয়নি, তাই তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিক্রির আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

মার্কিন বিমানবাহী রণতরীটি গত নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে প্রশান্ত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরে ছয় মাসের নির্ধারিত দায়িত্বে যাত্রা করেছিল। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে রণতরীটিকে পারস্য উপসাগরে পাঠানো হয়।

দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার কারণে নাবিকদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য নাবিকদের খাবারের সংকট, নষ্ট শৌচাগার ও মানসিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন নৌবাহিনীও স্বীকার করেছে যে নাবিকদের কাজের পরিবেশ কঠিন ছিল, তবে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

রণতরীটি পাতায়ায় নোঙর করার বিষয়ে বিবিসির প্রশ্নের জবাব দিতে মার্কিন নৌবাহিনী রাজি হয়নি, তারা অভিযানসংক্রান্ত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েছে। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও থাইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তিভিত্তিক মিত্র। তাই মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজের থাইল্যান্ডের বন্দরে আসা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ১৯৭৫ সালে সাইগনের পতনের পর সম্ভবত এই প্রথম এত বিপুলসংখ্যক মার্কিন সামরিক সদস্য সরাসরি কোনো যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বিশ্রামের জন্য পাতায়ায় এসেছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই সফর থেকে লাভের আশা করছেন। পাতায়ার ওয়াকিং স্ট্রিটের কাছে রত্নের দোকান চালান আনন সাইতির। মার্কিন নাবিক ও মেরিনদের স্বাগত জানিয়ে তার দোকানের সামনে বড় একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

আনন সাইতির বলেন, ‘আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমরা শুধু আশা করছি, তারা এখানে এসে কিছু অর্থ খরচ করবেন।’ তবে মার্কিন ও থাই কর্মকর্তারা চাইছেন, পাতায়া যে ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্য পরিচিত, সেগুলোর কোনোটি যেন এবার না ঘটে।

থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাতায়ায় এমন কয়েকটি এলাকা রয়েছে যেখানে মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এর মধ্যে একটি হলো সোই ৬। মূল সৈকতের দিকে যাওয়া এই সড়কটি অসংখ্য গো-গো বারের জন্য পরিচিত।

থাই পুলিশ মার্কিন সেনাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ। তবে বাস্তবে পাতায়ায় প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার যৌনকর্মী রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের অনেকেই সোই ৬-এ কাজ করেন। সেখানে তারা বারগুলোর বাইরে দাঁড়িয়ে পুরুষদের ভেতরে আসার জন্য ডাকেন।

পাতায়ার অনেক গাঁজার দোকানেও মার্কিন সেনাসদস্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি প্যারাগ্লাইডিং ও জেট-স্কির মতো কিছু সামুদ্রিক খেলাধুলাও তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগাম্পিচেস বিবিসিকে বলেন, ‘এটা তাদের সিদ্ধান্ত। মার্কিন সামরিক বাহিনী বিষয়টি নিয়ে আগেই ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে।’

মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাটাশে ক্রিস্টোফার রবিনসন সেনাসদস্যদের জন্য নিষিদ্ধ কার্যকলাপ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, মার্কিন সেনারা মার্কিন আইন, মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ম এবং থাইল্যান্ডের আইন মেনে চলবেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা নাবিকদের যতটা সম্ভব বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ রণতরীটি থাইল্যান্ডে অবস্থান করার সময় মার্কিন নৌবাহিনী প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বন্দর থেকে পাতায়া পর্যন্ত শাটল বাস চালু করেছে। যেসব মার্কিন নাবিক তীরে রাত কাটাতে চান, তাদের জন্য দুটি বিলাসবহুল হোটেল নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

শহরের বিনোদন এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়াতে থাই কর্তৃপক্ষ শত শত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আমেরিকান অতিথিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

মেয়র পোরামাসে বলেন, ‘৫০-৬০ বছর আগে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের সফরের কারণে পাতায়া বিশ্বের কাছে পরিচিত হয়েছিল এবং ধীরে ধীরে এটি একটি পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই খোলাখুলি স্বীকার করতে হবে, বার ও যৌনকর্মীদের জন্য পাতায়ার একটি দুর্নাম রয়েছে। আমরা এই প্রচলিত ধারণাগুলো সম্পর্কে জানি। এটি পুরোপুরি বন্ধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে আমরা যা করতে পারি, তা হলো মানুষকে দেখানো যে পাতায়া বদলে গেছে। এখন এখানে খেলাধুলা, সেমিনার, সুস্থতা এবং পরিবারবান্ধব নানা ধরনের কার্যক্রম রয়েছে। অর্থাৎ, পাতায়ায় এখন সবকিছুরই একটি মিশ্রণ রয়েছে।’

উভয় দেশই আশা করছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে দীর্ঘ যাত্রায় দেশে ফেরার পথে রওনা হলে এর নাবিকরা সতেজ ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে ফিরতে পারবেন।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেলেন ৩ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেলেন ৩ কর্মকর্তা

সরকার তিনজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি প্রদান করেছে। পদোন্নতির পর তাদেরকে দুইটি মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

জনপ্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম বজলুর রশীদকে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%