ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি নির্ভরযোগ্য ডাটা : আমির খসরু


জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি নির্ভরযোগ্য ডাটা : আমির খসরু

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য ডাটা।

তিনি বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সক্ষমতা, পেশাদারিত্ব এবং তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা আরো জোরদার করতে হবে।

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: বাকৃবিতে উদ্বোধন হলো সার্জারি গ্যালারি

সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, বিবিএস’র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. মীর হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিবিএস কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগবিধি হালনাগাদের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি নীতি প্রণয়নে সরকারি পরিসংখ্যানের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী আগারগাঁওয়ে বিবিএস প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নতুন এ ল্যাবের মাধ্যমে গবেষক, শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে জাতীয় শুমারি ও জরিপের নাম-পরিচয়বিহীন মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন: মোংলা বন্দর ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরো বলেন, বিবিএস নিয়মিতভাবে বিপুল পরিমাণ মাইক্রোডাটা উৎপাদন করে। এ ল্যাবের মাধ্যমে সেই তথ্য আরো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও গবেষণাবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। গবেষণা, থিসিস, নীতি বিশ্লেষণ, কর্মসূচি মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে এ ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী বলেন, ‘ডাটা থেকে জ্ঞান, জ্ঞান থেকে উন্নয়ন’-এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিবিএসের মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব উপাত্তভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সরকারি তথ্য ব্যবহারের সুযোগ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করায় তিনি বিবিএস-কে ধন্যবাদ জানান।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, বিবিএসের মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এর মাধ্যমে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে জাতীয় তথ্যের ব্যবহার আরো কার্যকর হবে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, মাইক্রোডাটায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উত্তরদাতাদের গোপনীয়তা রক্ষা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিবিএসের এ ল্যাব নিরাপদ তথ্য ব্যবহার, দায়িত্বশীল গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ইরানে হামলার পরিকল্পনা আটকে দেন ট্রাম্প

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গড়াইয়ের বুকে কোটি টাকার সেতু, আলোর অভাবে ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


গড়াইয়ের বুকে কোটি টাকার সেতু, আলোর অভাবে ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা

সন্ধ্যার পর গড়াই নদীর স্নিগ্ধ হাওয়া খেতে একসময় মানুষের ঢল নামত কুষ্টিয়ার কুমারখালী-যদুবয়রা সেতুতে। দিনের ক্লান্তি শেষে একটু প্রশান্তির খোঁজে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর থাকত চারপাশ। কিন্তু সেই চিরচেনা রূপ এখন আর নেই।

৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬৫০ মিটার দীর্ঘ এই বিশাল সেতুটি এখন গিলে খাচ্ছে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বছর খানেক আগে চুরি হয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক ক্যাবল আর পুনস্থাপন না হওয়ায়, সেতুর ৩৬টি সড়কবাতি এখন শুধুই দাঁড়িয়ে থাকা শোভাবর্ধক পোল। বিশাল এই সেতুর বুকে মাত্র চারটি সোলার প্যানেলের নিভু নিভু আলো যেন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার প্রতীক হয়ে জ্বলছে।

সেতু এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা আলী হোসেনের কণ্ঠে এখন কেবলই হতাশা। একসময় এই সেতুটি ছিল তার উপার্জনের দারুণ এক জায়গা। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সেতুটি একটি শান্তির জায়গা। দোকানপাট বন্ধ করে রাত ৮টার পর মানুষ এখানে ঘুরতে আসত। সেতু চালুর সময় দিনের মতো লাইট জ্বলত, তখন হাজার-বারোশ টাকা বিক্রি হতো। এখন লাইট নেই বলে ৮টা বাজলেই মানুষ ভয়ে চলে যায়, বিক্রি অর্ধেকও হয় না।

আলী হোসেনের মতো ভ্যানচালক রেজাউল ইসলামও থাকেন আতঙ্কে। অন্ধকারে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, আর এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। রেজাউল বলেন, রাতে সেতুর ওপর ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে। এই সুযোগে প্রায়ই ভ্যান-রিকশা ছিনতাই হচ্ছে। সেতু চালুর প্রথম ছয়-সাত মাস আলো ছিল, মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত ঘুরত। এখন অন্ধকারে ভয়ে কেউ আসতেই চায় না।

কোটি টাকার সেতুতে এমন ভুতুড়ে পরিবেশ মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। জোতমোড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি আক্ষরিক অর্থেই 'প্রদীপের নিচে অন্ধকার'। রাত ১০টা বাজলেই এই অন্ধকারে বসে মাদকসেবীদের আসর। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলেন, কোটি টাকার সেতুতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার পরও চোরদের কেন ধরা গেল না? চোরেরা তো আর মঙ্গলগ্রহ থেকে আসেনি!

অথচ ২০২৩ সালে সেতুটি যখন উন্মুক্ত করা হয়, তখন প্রতিটি বাতি স্থাপনে খুঁটি, তার ও বাল্ব বাবদ খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এখন অযত্নে আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে এসব দামি যন্ত্রাংশ। শুধু আলো না থাকার কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকিও বাড়ছে।

২০২৩ সালের ২৮ জুন সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া স্বপ্নের এই সেতুটি নির্মাণ করেছিল নেশনটেক কমিউনিকেশন ও রানা বিল্ডার্স। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কাজ শেষে হস্তান্তরের পর তাদের এক বছরের মেরামতের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন এর পুরো দায়ভার এলজিইডির।

কুমারখালী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, বকেয়া বিলের কারণে কিছুদিন সংযোগ বন্ধ থাকায় অনেক বাতি নষ্ট হয়। পরে বকেয়া পরিশোধ করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৭টি বাতি মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বছর জুলাই মাসে চার লাখ টাকা মূল্যের ৬৫০ মিটার দামি ক্যাবল চুরি হয়ে যাওয়ায় আবারও পুরো সেতু অন্ধকারে তলিয়ে যায়। তিনি জানান, নতুন করে ক্যাবল কেনা ও বাতি জ্বালানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

আপাতত সাময়িক সমাধানের একটি চেষ্টা চোখে পড়ে। কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, জনস্বার্থে ইতিমধ্যে চারটি সোলার বাতি স্থাপন করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বরাদ্দ পেলে পুনরায় সব বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হবে।

তবে কবে সেই বরাদ্দ আসবে, আর কবে গড়াই নদীর বুকের এই সেতুটি আবারও আলোয় ঝলমল করে কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন কুমারখালীবাসী। হেডলাইটের আলোয় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা যানবাহন আর অন্ধকার হাতড়ে চলা পথচারীদের আপাতত এই ভুতুড়ে পরিবেশেই অভ্যস্ত হতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামিনের ৭ মাস পরও ঘরে ফেরা হয়নি আলাউদ্দিনদের, গ্রামে প্রবেশে বাধার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


জামিনের ৭ মাস পরও ঘরে ফেরা হয়নি আলাউদ্দিনদের, গ্রামে প্রবেশে বাধার অভিযোগ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে চলমান সংঘাত, লুটপাট ও ভাঙচুরের কারণে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাত মাস ধরে আলাউদ্দিন গংসহ প্রায় ২০০ পরিবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেনি। জামিন লাভের পরেও পুলিশ তাদের গ্রামে প্রবেশে বাধা প্রদান করেছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত ও পাঁচজন আটক হওয়ার দাবি করেছে ভুক্তভোগীরা।

তারা বলছেন, তারা বৈধভাবে জামিনে মুক্ত থাকা সত্ত্বেও গ্রামে ফিরতে গেলে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। একই মামলার অন্য একটি পক্ষের লোকজন গ্রামে অবস্থান করবে, কিন্তু তাদের থাকতে দেয়ার কথা হচ্ছে না।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম সাংবাদিকদের জানান, “আমরা জানতে পেরেছি এখানে তিনজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে এসেছি। অন্য কোনো সমস্যা নেই।” তবে ভুক্তভোগীদের দাবির সঙ্গে তার বক্তব্য মেলে না। তাদের অভিযোগ, পুলিশ বলেছে, “আপনারা এখানে থাকতে পারবেন না। থাকতে হলে এমপি সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে ২০০টিরও বেশি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু ঘরের আসবাবপত্র নয়, প্রায় ৩০টিরও বেশি বাড়ির গ্রিল, দরজা, জানালা ও গেট কেটে নেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মামুন, জিয়া, জীবন, ওবায়েদুল হক, কামাল, শেখ ফরিদ, সজিব, মুন্না, রিংকা, ইউসুফ, ফখরুলসহ ৭০-৮০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের দাবি, এর পেছনে একটি প্রভাবশালী পক্ষের ছত্রছায়া কাজ করছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা চললেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেই, যার কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে, ফলে গ্রামটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেছেন, “বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো প্রতিকার পাইনি। নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।” এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

অন্যদিকে, নাঙ্গলকোট থানার ওসি শাহীনুর আলম জানান, এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭০-৮০ জনের নাম রয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। পুলিশ কর্তৃক ৪ জন আহতের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। এটি মিথ্যা। আলিয়ারা গ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, যারা প্রবেশ করেছেন তারা চলে গেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউএনকপস সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন আইজিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


ইউএনকপস সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন আইজিপি

জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর পুলিশ প্রধানদের ৫ম সম্মেলন, ইউএনকপস-২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য শনিবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

পুলিশ সদর দফতর থেকে আজ পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইউএনকপস-২০২৬ সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন। প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যগণের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন প্রমুখ।

সম্মেলনের মূল অধিবেশনে বাংলাদেশ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বক্তব্য রাখবেন। তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জাতিসংঘ পুলিশ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার, বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত সক্ষমতা, শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান এবং আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জাতিসংঘ পুলিশ ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। এসব বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ, উচ্চপর্যায়ে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্ব, পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ পুলিশের ভূমিকা ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

দুই দিনব্যাপী ইউএনকপস সম্মেলন আগামী ৭-৮ জুলাই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী হিসেবে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত সক্ষমতা, নেতৃত্ব এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানকে আরও সুদৃঢ় ও দৃশ্যমান করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোসেনপুর–পাকুন্দিয়া সড়কের দ্বীপেশ্বর অংশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতায় ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


হোসেনপুর–পাকুন্দিয়া সড়কের দ্বীপেশ্বর অংশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতায় ভোগান্তি

কোনো কোনো সময় একটি ছোট অবকাঠামোগত ত্রুটিই একটি বৃহৎ প্রশাসনিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর-বাসকান্দা-পাকুন্দিয়া-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের পৌর এলাকার দ্বীপেশ্বর অংশে প্রায় ৩০ ফুটজুড়ে সৃষ্ট গর্ত তেমনই এক উদাহরণ। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের অংশটি চলাচলকারীরা দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। স্থানীয়দের দাবি, একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কের একটি অংশ বর্তমানে জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের কারণে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্ষার পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকার কারণে সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ড্রেন নির্মাণের কাজ চললেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে।

সরেজমিনে যখন দেখা যায়, দ্বীপেশ্বর এলাকায় সড়কের একটি অংশে বড় গর্তের কারণে যানবাহনকে গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে গেলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থার কারণে যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বাসকান্দা, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষ জেলা সদর এবং রাজধানীগামী যানবাহনে যাতায়াত করেন। বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক যোগাযোগপথ।

রোববার (৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, পাকুন্দিয়ার তারাকান্দি বাজার থেকে সবজি কিনে নান্দাইল উপজেলার বাসকান্দা ফিরছিলেন সবজি ব্যবসায়ী আমিন মিয়া। দ্বীপেশ্বর এলাকায় পৌঁছালে গর্তে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এতে চালক মোখলেছুর রহমান গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা এর আগেও ঘটেছে।

এলাকার ব্যবসায়ী মো. সাহাব উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, মফিজ উদ্দিন, মো. সুবল মিয়া ও সৃজন মিয়া বলেছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে গর্তটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন হলেও পৌর এলাকার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে সংস্কারকাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “গর্তটি দীর্ঘদিনের। উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অল্প পরিসরের এই অংশ দ্রুত মেরামতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পৌর প্রকৌশলীকে তাৎক্ষণিকভাবে গর্ত ভরাট করে জনদুর্ভোগ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি দ্রুত টেকসই সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%