বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৮ পি.এম
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায় এবং রেঞ্জ ও ডিআইজি পদে ব্যাপক রদবদল ঘটানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১১ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া ছয় কর্মকর্তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) মো. সায়েদুর রহমানকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ অধিদপ্তরে নিয়োগ করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের বর্তমান দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসানকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ), সারদা, রাজশাহীর প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেনকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ অধিদপ্তরে নিয়োগ করা হয়েছে।
পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. কামরুল আহসানকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসবির অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিনকে পুলিশ অধিদপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমানকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অপর একটি প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি পর্যায়ের পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিটের (মেট্রোরেল) ডিআইজি সিদ্দিকী তানজিলুর রহমানকে এসবির ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনে ৬০ কার্যদিবসে অধিবেশন পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০৩ কোটি টাকা। প্রতি মিনিট অধিবেশন চললে সরকারের ব্যয় গড়ে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা। এই হিসেবে প্রতি সেকেন্ডে খরচ প্রায় পাঁচ হাজার ৯৪৭ টাকা।
অথচ সংসদের মূল কাজ আইন প্রণয়নে সময় ব্যয়ের চিত্র ভিন্ন। প্রথম তিন অধিবেশনে বিভিন্ন বিল পাস, প্রশ্নোত্তর ও অন্যান্য কার্যক্রম চললেও আইন প্রণয়নের কাজে তুলনামূলক কম সময় ব্যয় হয়েছে। এর বিপরীতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা, বাজেটের সাধারণ আলোচনা এবং নানা বিতর্কে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে প্রতিদিনের বাংলাদেশ প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ গবেষণায় একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ২২টি অধিবেশনের হিসাবে প্রতি মিনিটে গড় পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছিল দুই লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির প্রভাব সমন্বয় করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা। সে হিসাবে বর্তমানে সংসদে প্রতি সেকেন্ডে ব্যয় হয় ৫ হাজার ৯৪৭ টাকা।
৬০ দিনে ৭০৩ কোটি টাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ এবং শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। এতে ২৫ কার্যদিবস সংসদ বসে। দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন চলে ৭ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ২৬ কার্যদিবস। তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে শেষ হয় ১০ সেপ্টেম্বর; এতে কার্যদিবস ছিল নয়টি। সব মিলিয়ে প্রথম তিন অধিবেশনে সংসদ বসেছে ৬০ কার্যদিবস।
সংদর সচিবালয়ে অধিবেশন কত ঘণ্টা চলেছে তার সম্মিলিত হিসাব না থাকলেও অধিবেশন শুরু ও শেষের তথ্য এবং বিভিন্ন বিরতির সময় বিবেচনায় গড় মেয়াদ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট। সে হিসাবে প্রথম তিন অধিবেশনে মোট ৩২৮ ঘণ্টা ২০ মিনিট বা ১৯ হাজার ৭০০ মিনিট অধিবেশন চলেছে। প্রতি মিনিটে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা হিসাবে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে খরচ ৮৬ কোটি
চলতি বছরের ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বর্ষ শুরুর ভাষণের ওপর আলোচনা হয়েছে ৪০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট। এতে অংশ নেন ২৮০ জন সংসদ সদস্য। প্রতি মিনিটের ব্যয়ের হিসাবে শুধু এই আলোচনাতেই সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা সংসদে বিক্ষোভ করে ভাষণ বর্জন করেন। পরে তার ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দের প্রস্তাবও তাদের পক্ষ থেকে আসে।
বাজেট আলোচনায় শতকোটি
দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট। এতে অংশ নেন ৩১৬ জন সংসদ সদস্য। মোট দুই হাজার ৯৩১ মিনিটের এ আলোচনায় সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। তবে সংসদের সব ব্যয়কে অপ্রয়োজনীয় বলা যায় না। প্রশ্নোত্তর, আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কাজ, নোটিশের নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংসদ রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখে। কিন্তু একই সঙ্গে দীর্ঘ বিতর্ক, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণ, অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যসহ বিভিন্ন কার্যক্রমেও সময় ব্যয় হয়।
আইন প্রণয়নে সময় কম
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রীকে করা ৯৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৩৫টির উত্তর দেওয়া হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য পাওয়া দুই হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে এক হাজার ৭৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়।
বাজেট অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়। তৃতীয় অধিবেশনের নয় কার্যদিবসে পাস হয়েছে ছয়টি বিল। একই অধিবেশনে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়। তবে তৃতীয় অধিবেশনে মাত্র ৯ কার্যদিবসে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাসের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও বিল দ্রুত সংসদে পাঠানোর বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংসদ সদস্যদের বিল ভালোভাবে পড়ার সুযোগ দিতে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।
ব্যয় বাড়ছে
সময়ের সঙ্গে সংসদ পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। টিআইবির বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, অষ্টম জাতীয় সংসদে প্রতি মিনিটে ব্যয় ছিল প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। নবম সংসদের আটটি অধিবেশনে তা বেড়ে হয় প্রায় ৭৮ হাজার টাকা। দশম সংসদের ১৪তম থেকে ১৮তম অধিবেশনে প্রতি মিনিটে গড় ব্যয় দাঁড়ায় এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৬ টাকা। একাদশ সংসদের প্রথম ২২ অধিবেশনে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণেও বড় ব্যয়
বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণেও প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। বিশেষ প্রকল্পসহ কোনো কোনো বছর ভবনের ভৌত ও ইলেকট্রোমেকানিক্যাল রক্ষণাবেক্ষণে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। এর সঙ্গে নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, অগ্নিনিরাপত্তা, সম্প্রচার, গণপূর্তের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব ও ওভারটাইমসহ নানা ব্যয় যুক্ত হয়।
সংসদ বিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, আইন প্রণয়নে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। বিলের প্রতিটি ধারা ভালোভাবে পর্যালোচনা এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকলে আরো কার্যকর ও টেকসই আইন প্রণয়ন সম্ভব।
জাতীয় সংসদের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, সংসদের বার্ষিক বাজেটকে শুধু অধিবেশনভিত্তিক ব্যয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্প্রচার, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। তবে কোন দপ্তরে কত টাকা এবং কোন অধিবেশনে কত ব্যয় হচ্ছে, তার সমন্বিত হিসাব এখনো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের বড় বাজারে ভারতীয় ইলিশ মাছকে দেশীয় বলে উচ্চমূল্যে বিক্রি করার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক এক আড়তদারকে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়বাজারের মাছ বাজারে অভিযান পরিচালনা করে কর্ণফুলী ফিস নামক ওই আড়তকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এই অভিযানটি যশোরের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় আড়তদার ভারতীয় ইলিশের নির্ধারিত মূল্য এবং ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এ সময় মাছ বাজারের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি দোকান মনিটরিং করা হয়। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা ভারতীয় ইলিশ বিক্রি করবেন নির্ধারিত মূল্যে এবং আমদানি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করবেন।
অভিযানকালে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ১৯টি আমদানিকারকের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এই আমদানিকৃত ইলিশ দেশের বাজারে ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতারা চড়া দামে তা কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি ‘ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার’ অনুরোধ করবেন।
এই বামপন্থী নেতা মঙ্গলবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বার্ষিক বিশ্বনেতাদের সম্মেলনে ভাষণ দেবেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রাজিলের নির্বাচনে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে।
ব্রাসিলিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ব্রাসিলিয়ার শ্রমজীবী অধ্যুষিত সিলান্দিয়ায় এক নির্বাচনী প্রচারে লুলা বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের বৈঠকে যাচ্ছি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে এবং তাকে বলতে—ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবেন না।’
ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কার্লোস বিকালহো কোজেনদেই বুধবার জানান, লুলা ও ট্রাম্পের মধ্যে ‘নির্দিষ্ট কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের’ পরিকল্পনা নেই। তবে গত বছরের মতো এবারও তারা ‘অধিবেশনে সম্ভবত মুখোমুখি হবেন।’
জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের পণ্যের ওপর নতুন করে দুই দফা শুল্ক আরোপ করে। লুলা এটিকে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে নিন্দা করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনা শুরু হয় ২০২৫ সালে। ওই সময় ওয়াশিংটন ব্রাজিলের ওপর প্রথম দফা শুল্ক আরোপ করে। সাবেক উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট এবং ট্রাম্পের মিত্র জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফ্লাভিও বলসোনারো জইর বলসোনারোর ছেলে। অভ্যুত্থানের চেষ্টা করার দায়ে জইর বলসোনারোকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের প্যারিসে ২০১৬ সালে বন্দুকধারীদের দ্বারা ডাকাতির শিকার হন আমেরিকার বিখ্যাত তারকা কিম কার্দাশিয়ান। প্যারিসের একটি আদালত সেই মামলার রায়ে তাকে প্রতীকীভাবে মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।
এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিম নিজে যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন, আদালত তাকে ঠিক ততটুকুই প্রদান করেছে।
গত বছর আদালত এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। সেসময় কিম এই ঘটনার অভিজ্ঞতাকে জীবনের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। রায় ঘোষণার পর কিম কার্দাশিয়ান এবং ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা স্টাইলিস্ট সিমোন হারুচে ফরাসি বিচারব্যবস্থার প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই ঘটনার ট্রমা আজও আমাদের মনে রয়ে গেছে। আজকের এই রায় টাকার অঙ্কের জন্য নয়, বরং এটি অপরাধের স্বীকৃতি এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়। আদালত এবং যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা এখন এই খারাপ সময় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
যে হোটেলে (হোটেল ডি পুরতালেস) এই ঘটনা ঘটেছিল, সেখানকার একজন সাবেক রিসেপশনিস্টকে আদালত ১,০৯,৫১৬ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৬ সালের ফ্যাশন উইকের সময় কিমের ৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের গয়না চুরির ঘটনায় তিনি মারাত্মকভাবে ভয় পেয়েছিলেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। কিমের আইনজীবী এই রায়কে একটি বড় জয় হিসেবে দেখছেন।
এ ছাড়া, স্টাইলিস্ট সিমোন হারুচে তার চাওয়া অনুযায়ী ১ ইউরো এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ ৫০,০০০ ইউরো ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে।
যা ঘটেছিল সেদিন
২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে পুলিশের রূপ ধরে দুই ডাকাত কিম কার্দাশিয়ানের রুমে ঢুকে পড়ে। এরপর তাকে টেপ ও জিপ টাই দিয়ে বেঁধে তারা প্রায় ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের গহনা ও হীরা লুট করে নিয়ে যায়।
এই ডাকাত দল ফ্রান্সে ‘লে পাপিস ব্রাক্যুর’ বা ‘দাদাদের ডাকাতি দল’ নামে পরিচিতি পায়। কারণ, বিচারের আওতায় আসা ছয়জনের বয়সই ছিল ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তবে আগে থেকেই হাজতবাস করায় দোষীদের কাউকেই আর নতুন করে জেলে যেতে হয়নি এবং তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ