শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫০ পি.এম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতিমের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে আইন অনুযায়ী শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ‘আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব দে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’—এ ধরনের স্লোগান দেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
কুবি শিক্ষার্থীরা চারটি আল্টিমেটাম প্রদান করেন। প্রথমত, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে উপস্থাপন করতে হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করতে হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। চতুর্থত, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। এই ১২ ঘণ্টার মধ্যে এসপিকে আমাদের কাছে এসে জানাতে হবে, তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করব। এটা শুধু একটি ঘটনার বিষয় নয়; সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা দেখব, প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়। এরপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অবাক করার বিষয় হলো, ঘটনার পর সিসিটিভির ফুটেজ বের করা এবং একজনকে আটক করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই ভূমিকা রাখতে হয়েছে। ফরেনসিক টিমও দীর্ঘ সময় পর ঘটনাস্থলে এসেছে। সকালে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরও যদি গাড়ির অভাবে ফরেনসিক টিম আসতে না পারে, তাহলে প্রশাসনের দায়িত্ব কী—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখন আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না প্রশাসন। আমি তো এটাই বুঝতে পারছি না। অপ্রতিম আমাদের ছোট ভাই। ওকে আমি নিজের চোখে দেখেছি—রাস্তার মধ্যে খেলতে দেখেছি, ওর মায়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখেছি। আজ অপ্রতিম নেই, এটা আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না।
‘ওর মা আমাদের মাতৃতুল্য। তিনি আমাদের যেভাবে আদর করেন, তার নিজের সন্তানকে তিনি কতটা আদর করতেন, সেটা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। এরকম লাখো লাখো মা প্রতিদিন নিজের সন্তানকে হারাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের অথর্ব প্রশাসন কী করছে? বসে বসে আঙুল চুষছে তারা। এদের ধিক্কার। ধিক্কার, ধিক্কার।’
উল্লেখ্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতিমের লাশ সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের একটি টিলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরে তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হয়। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে তাকে খুঁজতে বের হলে স্থানীয় এক ব্যক্তি পাহাড়ের পাশে একটি শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য দেন। পরে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অপ্রতিমের লাশ শনাক্ত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করছে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বরফ ধস এবং ভয়াবহ বন্যা শুধুমাত্র একটি স্থানীয় দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি পুরো পরিবেশ ব্যবস্থার ওপর একটি মারাত্মক বিপর্যয়ের চিহ্ন।
বাংলাদেশসহ আটটি দেশের জন্য এই ঘটনা একটি গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ হিমালয় পর্বতমালার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীলতা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলতে শুরু করেছে, যা এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিকে ক্রমশ জটিল করে তুলছে।
যখন পাহাড়ের চূড়ায় বরফ ধস বা পাহাড়ি ঢল শুরু হয়, তখন নদীর পানি মুহূর্তের মধ্যে সমতলের দিকে নেমে আসে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনা অববাহিকার শেষ প্রান্তে অবস্থান করার কারণে যেকোনো উজান ঢলের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশে এসে পড়ে। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে আগামী দিনে আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন এবং অসময়ে পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন কেবল নিজেদের দেশের সীমানায় বসে বিপর্যয় মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন এবং পাকিস্তানসহ এই অঞ্চলের আটটি দেশকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। পাহাড়ি আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং নদীগুলোর গতিপ্রকৃতি নজরদারিতে যৌথ ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। সঠিক সময়ে দুর্যোগের পূর্বাভাস পৌঁছাতে পারলে হাজার হাজার মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন জিনেদিন জিদান। দেশটির জাতীয় ফুটবল প্রশিক্ষণকেন্দ্র ক্লেয়ারফঁতেনেতে খেলোয়াড়দের আগমনের সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি আর অনুমোদিত হবে না। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্লেয়ারফঁতেনেতে ফ্রান্স দলের খেলোয়াড়দের আগমন নিয়ে একটি বিশেষ উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছিল। খেলোয়াড়দের পোশাক, সাজসজ্জা এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠত। এবার সেই দৃশ্য কিছুটা পরিবর্তন করতে চান জিদান।
তবে খেলোয়াড়দের পোশাকের উপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে না। গতকাল শুক্রবার, নিজের প্রথম দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে জিদান স্পষ্ট করে বলেছেন, খেলোয়াড়েরা নিজেদের ইচ্ছামতো ক্লেয়ারফঁতেনেতে আসতে পারবেন। পরিবর্তনটি ঘটবে খেলোয়াড়েরা সেখানে পৌঁছানোর পর।
জিদানের বক্তব্য অনুযায়ী, “আমি কাউকে সাদাসিধে পোশাক পরার নির্দেশ দিইনি। প্রত্যেকে নিজেদের মতো করে আসবে। তবে ক্লেয়ারফঁতেনেতে পৌঁছানোর পর আমরা নিজেদের মধ্যে থাকব। সেখানে বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই।”
আরএমসি স্পোর্টস জানাচ্ছে, খেলোয়াড়দের আগমনের ছবি এবার শুধুমাত্র ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) নিজস্ব ফটোগ্রাফার, ক্যামেরাম্যান এবং ভিডিওগ্রাফারদের দ্বারা ধারণ করা হবে। পরে সেই ছবি ও ভিডিও সংবাদমাধ্যমকে সরবরাহ করা হবে। অর্থাৎ, ছবি প্রকাশ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না, তবে বাইরের মিডিয়ার উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।
জিদানের এই সিদ্ধান্তকে ক্লেয়ারফঁতেনের পরিবেশকে আরো নিয়ন্ত্রিত রাখা এবং দলের মনোযোগ ফুটবলকেন্দ্রিক করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে কিংবদন্তি জিদানের কোচিংয়ে ফ্রান্স প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিহতের সংখ্যা পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় বেশি।
শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ৫ জন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, চলমান সংঘাতে অন্তত ২২ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। পেন্টাগনের প্রকাশ্য ডাটাবেসে থাকা হিসাবের তুলনায় এ সংখ্যা চারজন বেশি।
তবে আরেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট উল্লেখ করেছে যে, গোপন রাখা নিহতদের মধ্যে সবাই সরাসরি ইরান সংঘাতের কারণে মারা যাননি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক সদস্য ছিলেন।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রতিবেদনটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গবেষকরা বাংলাদেশসহ আটটি দেশকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার। গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বতে হিমবাহ ধসের পর এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানায়।
আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের ঘটনা শুধু পাহাড়ি দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পশ্চিমে আফগানিস্তান থেকে পূর্বে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার জুড়ে এর প্রভাব বিস্তার করে।
গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের (ডব্লিউডব্লিউএ) প্রতিবেদন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং আইসিআইএমওডির ২০২৩ সালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা পারমাফ্রস্টও নরম হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ভূমিধস, হঠাৎ হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার এবং হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর পানি বেড়ে গিয়ে জনপদ ভাসিয়ে নেওয়ার মতো ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা ঘিরে থাকা দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষের জন্য একের পর এক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই অঞ্চল থেকেই এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে। নদীগুলো হলো—আমু দরিয়া, সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী, সালউইন, মেকং, ইয়াংসি, হলুদ নদী ও তারিম।
এসব নদী অববাহিকা ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষকে সুপেয় পানি সরবরাহের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনীতি চালু রাখতে বড় অবদান রাখছে। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থা হিন্দুকুশ-হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গঙ্গা নদী ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর পদ্মা নামে পরিচিতি পায়। অন্যদিকে, তিব্বতে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদ চীন ও ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যেখানে এর প্রধান ধারা যমুনা নামে পরিচিত।
গবেষকরা উদ্বিগ্ন যে, জলবায়ুর সঙ্গে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ ভাটি অঞ্চলের প্রায় দুই শ কোটি মানুষ বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।
সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের অংশে প্রায় দুইশটি হিমবাহ হ্রদ যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সিস্টেমিকের সিনিয়র ডিরেক্টর ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক অরুশি চোপড়া বলেন, “প্রশ্ন এখন এটা নয় যে, এমন ঘটনা আরও ঘটবে কি না? বরং কখন ঘটবে সেটাই দেখার বিষয়।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্বত ও নদীগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে, দেশগুলোকে তথ্য বিনিময় করতে হবে, আগাম সতর্কবার্তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কেবলমাত্র এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই বন্যা-ভূমিধসের মতো ঘটনায় প্রাণহানি কিছুটা কমানো সম্ভব।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ৪০ হাজারের বেশি হিমবাহের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব কি না? নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্বতবিদ ওয়াল্টার ইমারজিল বলেন, “হিমালয়ের প্রতিটি হিমবাহ ও প্রতিটি পাথুরে ঢাল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি চালানো সম্ভব।”
তার মতে, হিমবাহের নিচে জলবিদ্যুৎ বাঁধ, বড় শহর কিংবা জনবসতি থাকলে, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ পাহাড়ে সামান্য অস্থিতিশীলতা এসব এলাকায় ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেন ইমারজিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ