বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৯ পি.এম
পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল ইংল্যান্ড সফরের সময় অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা শরণার্থী ভেবে দলের অবস্থান করা হোটেলের সামনে জড়ো হন। তবে, কিছু সময় পর তারা ভুল বুঝতে পেরে সেখান থেকে সরে যান।
এটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে ঘটে। পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল শহরের একটি ম্যারিয়ট হোটেলে অবস্থান করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোটেলটির সামনে একটি কোচ ও কয়েকজন এশীয় তরুণের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে শরণার্থীদের থাকার দাবি ওঠে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন মুখ ঢাকা অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা হোটেলের সামনে জড়ো হন।
হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলের রিফর্ম ইউকে কাউন্সিলর জর্জ ম্যাডগউইক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পাকিস্তান দলের কোচের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন যে, সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিরা শরণার্থী নন, বরং পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট সদস্য।
ম্যাডগউইক বিক্ষোভকারীদের জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ভুল বুঝেছেন, এটা ক্রিকেট দল।’ এরপর বিক্ষোভকারীরা ভুল বুঝতে পেরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেখান থেকে চলে যান।
পরে ম্যাডগউইক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে হোটেলে শরণার্থী থাকার খবরকে ভুল বলে নিশ্চিত করেন।
ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ভুল ধারণা পরিষ্কার করেন। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কোনো অপরাধ শনাক্ত হয়নি।
পোর্টসমাউথে সম্প্রতি অভিবাসন ইস্যুতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে আসা শরণার্থীদের নিয়ে কয়েক দিন আগে শহরটিতে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান দলের কোচের হোটেলে পৌঁছানোর ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ঘটনার পর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) পাকিস্তান যুব দলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজ নিয়েছে। সফরের বাকি অংশে দলটির নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও খাদ্যপণ্য সংরক্ষণের অভিযোগে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দুটি মিষ্টির দোকানকে মোট ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।
অভিযানের সময় সুইট হ্যাভেন ও মদিনা মিষ্টির দোকানের কারখানায় অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। একবার ব্যবহার করা তেল পুনরায় ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খালি গায়ে মিষ্টি তৈরি এবং খাদ্যপণ্য সংরক্ষণে অনিয়মের বিষয়গুলোও ধরা পড়ে।
অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, মিষ্টি তৈরির সরঞ্জামের সঙ্গে একই ফ্রিজে মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য রাখা হচ্ছিল, যা খাদ্যদূষণের ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া মিষ্টি তৈরির স্থানেও পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছিল না।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল বলেন, "খাদ্যপণ্য তৈরিতে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।" তিনি আরও জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, ব্যবহৃত তেল পুনরায় ব্যবহার এবং খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের কারণে সুইট হ্যাভেনকে ২০ হাজার ও মদিনা মিষ্টির দোকানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাদের ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযানে সংশ্লিষ্টদের খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থার (এনসিএ) ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তি জব্দ করার পর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য লন্ডনের হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথির বরাতে জানা যায়, ঢাকাভিত্তিক সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক পিএলসি এই আবেদনটি করেছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে দাখিল করা নথিতে সাইফুজ্জামানকে দেউলিয়া ঘোষণার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অর্থপাচার ও দুর্নীতির তদন্ত চলছে, এবং যুক্তরাজ্যেও তাঁর সম্পদ নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে এনসিএ লন্ডন হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে সাইফুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৪২টি সম্পত্তি জব্দ করে। এসব সম্পত্তির সম্মিলিত ক্রয়মূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বলে জানা গেছে। এনসিএ জানিয়েছে, চলমান দেওয়ানি তদন্তের অংশ হিসেবে এই সম্পত্তিগুলো হস্তান্তর বা বিক্রি ঠেকাতে ফ্রিজিং আদেশ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামানের বিশাল সম্পত্তি কেনাবেচায় অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান মার্কেট ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস (এমএফএস) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় চলে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সাইফুজ্জামানের প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের সম্পত্তি পোর্টফোলিওতে অর্থায়ন করেছিল। আদালতের নথিতে এমএফএসের ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম ও জামানতের ঘাটতির অভিযোগও উঠে এসেছে।
এমএফএসের অর্থায়নের সঙ্গে সাইফুজ্জামানের ১৭৫টির বেশি রিয়েল এস্টেট চুক্তির সম্পর্ক রয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সম্পত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রধান হোল্ডিং কোম্পানি জেডটিএস প্রোপার্টিজ যুক্তরাজ্যে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কোম্পানির নথিতে সাইফুজ্জামানকে ৭৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ও ভোটাধিকারধারী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বাংলাদেশেও তাঁর বিদেশি সম্পদ নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার একটি আদালত যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামানের মালিকানাধীন ৫১৮টি সম্পত্তি জব্দের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নথিতে এসব সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে নয় সদস্যের একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুরেও সাইফুজ্জামান ও তাঁর সহযোগীদের সম্পদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালত তাঁর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সিঙ্গাপুরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তে সিঙ্গাপুরে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটটি ব্যাংক হিসাব, একটি কোম্পানির পরিচালকের পদ এবং উচ্চমূল্যের সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বিদেশে বিপুল সম্পদ নিয়ে ২০২৩ সাল থেকেই বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে আসছে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁর বিদেশি সম্পদ ও অর্থের উৎস নিয়ে বাংলাদেশে তদন্ত জোরদার হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ফলের দোকানসহ পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, যা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গায় অবস্থিত।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুন সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালনা করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার জানান, দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গা দখল করে টংঘর নির্মাণ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছিলেন। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়কের সার্ভিস লেনে ও ফিডার রোডে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযান চালিয়ে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গায় গড়ে ওঠা পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের ইসলামপুরে একটি দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে কাঞ্চন মিয়া (৩৫) নামে এক ইজিবাইকচালকের।
কাঞ্চন মিয়া ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চার্জারের পিন খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়নের বলিয়াদহ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত কাঞ্চন মিয়া মৃত আবুল হোসেনের পুত্র এবং স্থানীয় একটি এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কাঞ্চন মিয়া তার বাড়িতে ইজিবাইকটি চার্জ দিচ্ছিলেন। সকালে চার্জারের পিন খুলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
এই বিষয়ে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ