প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থার (এনসিএ) ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তি জব্দ করার পর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য লন্ডনের হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। আদালতে দাখিল করা নথির বরাতে জানা যায়, ঢাকাভিত্তিক সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক পিএলসি এই আবেদনটি করেছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকে দাখিল করা নথিতে সাইফুজ্জামানকে দেউলিয়া ঘোষণার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অর্থপাচার ও দুর্নীতির তদন্ত চলছে, এবং যুক্তরাজ্যেও তাঁর সম্পদ নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে এনসিএ লন্ডন হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে সাইফুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৪২টি সম্পত্তি জব্দ করে। এসব সম্পত্তির সম্মিলিত ক্রয়মূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বলে জানা গেছে। এনসিএ জানিয়েছে, চলমান দেওয়ানি তদন্তের অংশ হিসেবে এই সম্পত্তিগুলো হস্তান্তর বা বিক্রি ঠেকাতে ফ্রিজিং আদেশ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামানের বিশাল সম্পত্তি কেনাবেচায় অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান মার্কেট ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস (এমএফএস) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় চলে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সাইফুজ্জামানের প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের সম্পত্তি পোর্টফোলিওতে অর্থায়ন করেছিল। আদালতের নথিতে এমএফএসের ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম ও জামানতের ঘাটতির অভিযোগও উঠে এসেছে।
এমএফএসের অর্থায়নের সঙ্গে সাইফুজ্জামানের ১৭৫টির বেশি রিয়েল এস্টেট চুক্তির সম্পর্ক রয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সম্পত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রধান হোল্ডিং কোম্পানি জেডটিএস প্রোপার্টিজ যুক্তরাজ্যে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কোম্পানির নথিতে সাইফুজ্জামানকে ৭৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ও ভোটাধিকারধারী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বাংলাদেশেও তাঁর বিদেশি সম্পদ নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার একটি আদালত যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামানের মালিকানাধীন ৫১৮টি সম্পত্তি জব্দের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নথিতে এসব সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে নয় সদস্যের একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুরেও সাইফুজ্জামান ও তাঁর সহযোগীদের সম্পদের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালত তাঁর ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সিঙ্গাপুরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তে সিঙ্গাপুরে তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আটটি ব্যাংক হিসাব, একটি কোম্পানির পরিচালকের পদ এবং উচ্চমূল্যের সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বিদেশে বিপুল সম্পদ নিয়ে ২০২৩ সাল থেকেই বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে আসছে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁর বিদেশি সম্পদ ও অর্থের উৎস নিয়ে বাংলাদেশে তদন্ত জোরদার হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন