০৭:৪২ পি.এম
সোমবার যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রিন্স হ্যারির। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ায় তার স্ত্রী ও সন্তানরা সফরের অধিকাংশ সময় তার সঙ্গে থাকছেন না।
হ্যারির এ সফর শুরু হওয়ার আগেই একাধিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনার পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে এবং বাকিংহাম প্রাসাদে থাকার ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড পত্রিকার বিরুদ্ধে করা তার সর্বশেষ মামলার রায়ও আসন্ন রয়েছে।
লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, আগামী বছরের ইনভিকটাস গেমস শুরুর এক বছর বাকি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে হ্যারির এ সফর হওয়ার কথা। ২০২২ সালের পর এটিই পরিবারসহ তার প্রথম যুক্তরাজ্য সফর হতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: আজ যা কিছু সুন্দর ও সফল, সবকিছুর পেছনে জিয়াউর রহমানের অবদান
তবে সাসেক্সের ডিউকের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র মুক্ত সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, পরিবারের জন্য পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করায় হ্যারির স্ত্রী মেঘান, ছেলে আর্চি এবং মেয়ে লিলিবেট লন্ডন পর্বে তার সঙ্গে থাকবেন না।
সূত্রটি জানায়, সফরের বাকি অংশের পরিকল্পনা এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে। ফলে পুরো পরিবার যুক্তরাজ্যে যাবে কি না, কিংবা গেলেও লন্ডনের বাইরে অবস্থান করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
লন্ডনে অবস্থানকালে বাকিংহাম প্রাসাদে বিদ্যালয়ে থাকার পরিকল্পনা নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সোমবার হ্যারির আগমনের ঠিক আগে বাকিংহাম প্রাসাদ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবাসনের প্রস্তাব গ্রহণ না করায় তিনি সেখানে থাকছেন না। এতে সাসেক্সের ডিউকের দপ্তরের আগের বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: ববি হাজ্জাজ
হ্যারির মুখপাত্র এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তার বাবা কিং চার্লস তৃতীয়ের আতিথ্য গ্রহণের যে প্রস্তাব ছিল, তা ‘শেষ মুহূর্তে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে’, যা ‘হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেন।
এ সপ্তাহে হ্যারির সঙ্গে তার বাবার সাক্ষাৎ হবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ক্যানসারের এক অপ্রকাশিত ধরনের চিকিৎসাধীন রাজা চার্লসের লন্ডনের বাসভবন ক্ল্যারেন্স হাউসে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে জানা যায়।
২০২০ সালে হ্যারি ও মেঘান রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে উত্তর আমেরিকায় চলে যান। এরপর থেকেই রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ তীব্র হতে থাকে। হ্যারির আত্মজীবনী **‘স্পেয়ার’** প্রকাশ এবং যুক্তরাজ্যে একাধিক আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ার পর সেই দূরত্ব আরও বেড়ে যায়।
পরবর্তীতে হ্যারি প্রকাশ্যে তার বাবার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, এ সফরের প্রাক্কালে দুই পক্ষের সম্পর্ক এখনো শীতল বলে মনে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাশেদ খান: ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার প্রতিরোধই আসল বিপ্লব
হ্যারির এ সফরের সময়ই অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারসের বিরুদ্ধে তার করা মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। ডেইলি মেইলের মালিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়েছিল। মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।
চলতি বছরের শুরুতে হাই কোর্টে অনুষ্ঠিত শুনানিতে হ্যারি আবেগঘন সাক্ষ্য দেন। তার সঙ্গে ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এলটন জন, অভিনেত্রী এলিজাবেথ হার্লিসহ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ট্যাবলয়েড প্রকাশকটি তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে এটি হ্যারির তৃতীয় এবং সম্ভবত শেষ মামলা। এসব আইনি বিরোধ রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কেও আরও টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে তার পুলিশি নিরাপত্তা নিয়েও হ্যারি পৃথক আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবে করবেন
গত বছর যুক্তরাজ্য সফরের সময় সরকারি নিরাপত্তা পুনর্বহালের আবেদন আদালত খারিজ করার পর হ্যারি বলেছিলেন, তিনি আর নিরাপদে তার পরিবারকে যুক্তরাজ্যে আনতে পারছেন না।
তিনি তখন বলেছিলেন, ‘আমার পরিবারের জন্য নিরাপদভাবে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা এখন আমার পক্ষে অসম্ভব।’
হ্যারির মুখপাত্রের ভাষ্যে, সরকারি নিরাপত্তা না পাওয়ায় সফরের জন্য বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হয়েছে। এ কারণেই বাকিংহাম প্রাসাদের আবাসনের প্রস্তাব গ্রহণে বিলম্ব হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আবাসনের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার পরও শেষ মুহূর্তে কেন তা প্রত্যাহার করা হলো, তা স্পষ্ট নয়।’
আরও পড়ুন: গাজায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় ভবন ধসে, আহত ২
এদিকে পিএ নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রত্যাশিত আদালতের রায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ, এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে তা রাজা চার্লসের সাংবিধানিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে বলে রাজপ্রাসাদের আশঙ্কা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন