০৪:৫৭ পি.এম
অনার্স পর্যন্ত নারীদের ফ্রিতে পড়াশোনা করার ব্যবস্থা করা হবে, এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবারের দিনে, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে তিনি বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। সেখানে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার সময় তিনি এই ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন।" তিনি জানান, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, যদি এই নারী সমাজকে পিছিয়ে রাখা হয়, তা হলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করা হবে এবং সব খরচ সরকার বহন করবে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার মূল দর্শন অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো: রাষ্ট্রপতি
তিনি জানান, "এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যাতে বড় হয়ে তোমরা এই দেশের হাল ধরতে পারো।" প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আরও বলেন যে, যেসব মেয়েরা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে।
গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গরিব পরিবারের শিশুদের প্রতি বছরের একবার স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে সরকার থেকে, এ কথাও জানান তিনি। "শুধু স্কুল ড্রেস নয়, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চাই।" তিনি বলেন, প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।
নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তারেক রহমান জানান যে, বাংলাদেশের নারী সমাজকে শিক্ষায় এগিয়ে নিতে এবং তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চান। তিনি নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, "বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যে নারী প্রধান, তিনি পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।" এবার কিশোরগঞ্জ জেলায় ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।
মাছের পোনা অবমুক্ত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আজ যে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হলো, তা যখন বড় হবে, ডিম দেবে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে, তখন এর উপকার আমরাই পাবো।" তিনি উল্লেখ করেন, "লন্ডনের মানুষ, নাকি জাপানের মানুষ, নয়, বাংলাদেশে এর উপকার হবে।"
আরও পড়ুন: ময়লার ভাগাড় থেকে বাগান: প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ডিসি ফরিদার উদ্যোগে
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমসহ মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন