ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাউখালীতে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ২ বেকারিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা


কাউখালীতে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ২ বেকারিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

পিরোজপুরের কাউখালীতে স্বাস্থ্যহানিকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে দুটি বেকারিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আস্পদ্দি এলাকায় পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায়ের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, আস্পদ্দি এলাকার বিসমিল্লাহ বেকারি ও নিপা বেকারিতে নোংরা পরিবেশ, খাদ্যে ক্ষতিকারক রাসায়নিক রং ব্যবহার এবং পণ্যের মোড়কে মেয়াদ না থাকাসহ নানা অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৭ ও ৪৩ ধারায় বিসমিল্লাহ বেকারিকে ৫ হাজার টাকা এবং একই ধারায় নিপা বেকারিকে ১০ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা করা হয়।
অভিধানে কাউখালী উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোঃ নুরুল আলম বখতিয়ার এবং কাউখালী থানা পুলিশের একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায় বলেন, আমরা নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে কাউখালীর বেকারিগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। বেকারির খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকারক রং মেশানো হচ্ছে এবং প্যাকেটজাত পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদের কোনো তারিখ দেওয়া হচ্ছে না। এটি ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৭ পি.এম


টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ০৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উক্ত সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরীফা হক এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন ডাঃ ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুমাইয়া মমিন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: সেলিম মিঞা, টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমানসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ।

সভায় বক্তাগণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

উপসাগরীয় অঞ্চল এবং আশপাশের যেসব নেতৃবৃন্দ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছিলেন তাদের সেই চেষ্টা গুড়ে বালি। কেননা তারা আজ সকালে উঠেও হামলা ও পাল্টা হামলার মতো সেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।

ফলে বলা যায় গত ২৪ ঘণ্টায় যা ঘটেছে তা নিশ্চিতভাবেই একটি বড় ধরনের সহিংস উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ।

ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক হামলার জবাবে তারা জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর একটি ‘বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালিয়েছে।

তাদের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এফ-৩৫, এফ-১৬ এবং এফ-১৫ ফাইটার জেটের রক্ষণাবেক্ষণ ও মোতায়েন কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছে।

তবে আইআরজিসির দাবির সাথে জর্ডানের সামরিক বাহিনীর বক্তব্যের মধ্যে বড় ধরনের অমিল রয়েছে। জর্ডান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যার মধ্যে ১৮টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ২টি ফাঁকা জায়গায় গিয়ে পড়েছে। ফলে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পৃথকভাবে আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর দু’টি ডেস্ট্রয়ার, আরও দু’টি মার্কিন জাহাজ এবং আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।

ফলে এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের যে সমস্ত আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ উভয় পক্ষকে সংঘাত থেকে দূরে রাখতে এবং টেবিলে আলোচনায় বসাতে দৌড়ঝাঁপ করছিলেন, তাদের শান্তি প্রচেষ্টা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। দুই পক্ষ থেকে আসা পাল্টাপাল্টি দাবি ও সামরিক তৎপরতার ধরন ইঙ্গিত দিচ্ছে-আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে এই সংঘাত প্রশমিত হওয়ার বদলে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে স্ত্রীর আহাজারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে স্ত্রীর আহাজারি

আমার একটাই ছেলে। ছয় মাস আগে বিদেশে গেছে।

 

তার মৃত বাবার মুখটাও দেখতে পারেনি। আমারে যারা বিধবা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।’ফরিদপুর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে স্বামী হত্যার বিচার ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ডালিয়া বেগম। তার আহাজারিতে আদালত চত্বর ভারি হয়ে ওঠে।

 

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কৃষক ইউসুফ আলী শেখ (৫৫) হত্যায় জড়িতদের ফাঁসি এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফরিদপুর জজকোর্ট চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ এতে অংশ নেন, হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে।

মানববন্ধনে গ্রেপ্তার আসামিদের জামিন না দেওয়া এবং দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানানো হয়।

মৃত ইউসুফ আলী শেখ ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

 

তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় ইউসুফ আলীকে ডেকে নিয়ে দুর্গম চর এলাকায় নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বিষ খাওয়ানো হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৩ আগস্ট ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার প্রায় এক মাস আগে মামলার আসামি শামীমের মা আসমা বেগম নিখোঁজ হন।

 

এই ঘটনায় ইউসুফসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইউসুফকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন ও বিষ খাওয়ানো হয়।

মৃত্যুর আগে ইউসুফ একটি ভিডিও বক্তব্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে গেছেন বলে জানান স্বজনরা। পরে নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম সাতজনের নাম উল্লেখ করে চরভদ্রাসন থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন, শামীম হোসেন (২৫), তার বোন ইয়াছমিন আক্তার (৩৪), আক্কাস মোল্যা (৬০) ও তার ছেলে জুলহাস মোল্যা (৩৫)। তবে মামলার বাকি তিন আসামি এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্বজন ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মানববন্ধনে ডালিয়া বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এখনো তিন আসামিকে ধরতে পারেনি। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই। যারা আমার স্বামীকে তিলে তিলে মেরেছে, তাদের ফাঁসি চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি, গ্রেপ্তার আসামিরা যেন জামিন না পায় এবং দ্রুত বিচার শেষে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পলাতক তিন আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।’

চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমরা।’

এদিকে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের হাতে গ্রেপ্তার আসামিদের জামিন না দিয়ে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করেন নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার চাপে কি ভেঙে পড়ছে ইউক্রেনের ‘ফোর্ট্রেস বেল্ট’?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


রাশিয়ার চাপে কি ভেঙে পড়ছে ইউক্রেনের ‘ফোর্ট্রেস বেল্ট’?

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা ধীরগতির হলেও দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘দুর্গবেষ্টনী’ বা ‘ফোর্ট্রেস বেল্ট’ ক্রমাগত চাপের মুখে রয়েছে। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক আশাবাদ কিছুটা ম্লান হয়ে আসছে। ক্রামাতোরস্ক, যা ডনবাস অঞ্চলে ইউক্রেনের অন্যতম শেষ শক্ত ঘাঁটি, সেই শহরের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে রুশ বাহিনী। শহরটির প্রায় সব সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রতিদিন সেখানে গাইডেড বোমা ও ড্রোন হামলা চলছে।

ইউক্রেনের ৯৩তম মেকানাইজড ব্রিগেডের প্রেস কর্মকর্তা ইরিনা রিবাকোভা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহের পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ’। তিনি উল্লেখ করেন, দিনে কয়েক ডজন হামলা হচ্ছে, যার ফলে গাড়ি, বিদ্যুৎ ও সেবা-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, আবাসিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও গ্যারেজে আগুন ধরছে।

তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ও সকালে শহরের রাস্তায় প্রায় কাউকেই দেখা যায় না। দিনের বেলাতেও মানুষ চলাচলের সময় অস্ত্র সঙ্গে রাখছেন, কারণ সর্বত্র ড্রোনের উপস্থিতি এবং যেকোনো মুহূর্তে হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনারের কিয়েভ সফর কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে ইউক্রেনকে কিছুটা পিছিয়ে পড়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। বসন্তে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন, তখন ইউক্রেন রাশিয়ার দখলের চেয়ে বেশি ভূখণ্ড পুনর্দখল করছিল।

ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডব্লিউ) রাশিয়া-বিষয়ক বিশ্লেষক জেনি ওলমস্টেড বলেন, দ্রুত কোনো বড় ধরনের অগ্রগতি রাশিয়ার জন্য এখনো কঠিন। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি মস্কোর অনুকূলে কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, রুশ বাহিনী ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ভেদ করে ছোট ছোট দলে অনুপ্রবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ধীরে ধীরে স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের দিকে এগোচ্ছে এবং কোস্তিয়ান্তিনিভকাতেও অগ্রসর হচ্ছে। তবে এই অগ্রযাত্রার গতি খুবই ধীর।

আইএসডব্লিউর হিসাব অনুযায়ী, আগস্টে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ১২৪ বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ডে অগ্রসর বা অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে। গত বছরের একই মাসে দখল করা ভূখণ্ডের তুলনায় এটি প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

তবে এই অগ্রযাত্রার জন্য মস্কোকে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাবে, রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার সেনা হারাচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড দখলে তাদের প্রায় ৩৪০ জন করে হতাহত হচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ

রাশিয়ার ধীরগতির অগ্রযাত্রা সত্ত্বেও ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো পূর্বাঞ্চলের চারটি শিল্পনগরী নিয়ে গড়ে ওঠা ‘ফোর্ট্রেস বেল্ট’। স্লোভিয়ানস্ক, ক্রামাতোরস্ক, দ্রুজকিভকা ও কোস্তিয়ান্তিনিভকা—এই চার শহর ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

ডনবাসের অবশিষ্ট অংশ রক্ষার পাশাপাশি ইউক্রেনের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও এই প্রতিরক্ষা বেষ্টনী গুরুত্বপূর্ণ। শহরগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান, জনবসতি এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ মিলে পশ্চিমের অপেক্ষাকৃত সমতল ও কম জনবসতিপূর্ণ এলাকার আগে একটি প্রাকৃতিক প্রতিরোধক তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাশিয়া যদি এই প্রতিরক্ষা বেষ্টনী ভেঙে ফেলতে পারে, তাহলে এরপর ইউক্রেনের আরও গভীরে তুলনামূলক দ্রুত অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এ কারণেই গত সাড়ে চার বছরে ইউক্রেন এসব শহরকে ঘিরে বিপুল সম্পদ ব্যয় করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ‘দুর্গবেষ্টনী’ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বেষ্টনীর দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ান্তিনিভকা কার্যত ইউক্রেনের একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে হারিয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসার পর রুশ বাহিনী সেখানে প্রবেশ করেছে। শহরের উত্তরে এখনো ইউক্রেনীয় প্রতিরোধের কিছু অংশ থাকলেও সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে শহরটির গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে শহর

পূর্বাঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার কৌশলও একই ধরনের। দ্রুত কোনো শহর দখল করে অবকাঠামো অক্ষত রাখার পরিবর্তে রুশ বাহিনী ধীরগতির ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে শহরগুলো ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

বাখমুত দখলে রুশ বাহিনীর প্রায় নয় মাস সময় লেগেছিল। আর গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র পোকরভস্ক দখল করতে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। শেষ পর্যন্ত শহর দুটির বেশিরভাগ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায় এবং ইউক্রেনের জন্য এগুলোর কৌশলগত গুরুত্বও হারিয়ে যায়। তবে রাশিয়ার প্রতিটি ছোট অগ্রগতিও প্রচারণার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা তৈরি করছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধের লক্ষ্য থেকে তিনি সরে আসবেন না। এসব লক্ষ্যের মধ্যে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক—দুই অঞ্চল পুরোপুরি দখলের বিষয়টিও রয়েছে।

বর্তমানে রাশিয়া দোনেৎস্কের প্রায় ৮১ শতাংশ এবং লুহানস্কের প্রায় পুরো অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। মস্কো এপ্রিলে লুহানস্ক পুরোপুরি দখলের দাবি করলেও কিয়েভ বলেছে, ওই অঞ্চলের কিছু এলাকায় এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

ক্রেমলিনের সহকারী ও আলোচক ইউরি উশাকভের দাবি, উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেছেন, রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ‘দৃশ্যমান অগ্রগতি’ অর্জন করছে এবং শিগগিরই তাদের লক্ষ্য পূরণ হবে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সিএনএন।

পুতিন এর আগে ১৪ বার ইউক্রেনের দুই অঞ্চল পুরোপুরি দখলের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন বলে আইএসডব্লিউ জানিয়েছে। সেসব সময়সীমা পার হয়ে গেলেও লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এবার বছরের শেষ নাগাদ বাকি ভূখণ্ড দখলের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

হামলার আশঙ্কায় বাড়ছে বেসামরিকদের দুর্ভোগ।

ইউক্রেন-নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ সেখানে বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৮০০-এর বেশি শিশু। তবে দিন দিন তাদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে। ফ্রন্টলাইন এলাকার গ্রামগুলো থেকে বেসামরিকদের সরিয়ে নেয়ার কাজে নিয়োজিত ‘হোয়াইট অ্যাঞ্জেলস’ পুলিশের কর্মকর্তা হেন্নাদি ইউদিন বলেন, দোব্রোপিলিয়া ও আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন গাড়ি নিয়ে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।

তাঁর ভাষ্য, সেনারা পায়ে হেঁটে মানুষকে সরিয়ে আনছেন। এরপর পুলিশের সদস্যরা দোব্রোপিলিয়া থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে তাদের নিয়ে আসছেন। পুরো এলাকাটি মাইন পাতা এবং সেখানে ড্রোনের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। ক্রামাতোরস্কেও এখনো অনেক বেসামরিক মানুষ বসবাস করছেন। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তাদের অনেকেই শহর ছাড়তে বাধ্য হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরটি দীর্ঘদিন ধরে পূর্বাঞ্চলীয় ফ্রন্টে থাকা ইউক্রেনীয় সেনাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পেছনের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ক্লান্ত সেনারা সেখানে ফিরে কয়েক দিনের বিশ্রাম নিয়ে আবার যুদ্ধে ফিরতেন। কিন্তু রুশ হামলা তীব্র হওয়ায় সেই সুযোগও এখন সীমিত হয়ে পড়েছে।

রিবাকোভা বলেন, ক্রামাতোরস্কে প্রতিদিন গোলাবর্ষণ হচ্ছে। গাইডেড বোমা ও বড় ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি যে বাড়িতে থাকতেন, সেটিও রুশ বোমা হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

বিশ্লেষক জেনি ওলমস্টেডের মতে, রুশ বাহিনী এখন মূলত ভবিষ্যৎ আক্রমণের জন্য যুদ্ধক্ষেত্র প্রস্তুত করছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা দুর্বল করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। একই সঙ্গে সামনের অবস্থানে এবং শহরগুলোতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাছে রসদ পৌঁছানো কঠিন করে তুলছে মস্কো। সূত্র: সিএনএন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%