প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আমার একটাই ছেলে। ছয় মাস আগে বিদেশে গেছে।
তার মৃত বাবার মুখটাও দেখতে পারেনি। আমারে যারা বিধবা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।’ফরিদপুর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে স্বামী হত্যার বিচার ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন ডালিয়া বেগম। তার আহাজারিতে আদালত চত্বর ভারি হয়ে ওঠে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কৃষক ইউসুফ আলী শেখ (৫৫) হত্যায় জড়িতদের ফাঁসি এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফরিদপুর জজকোর্ট চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ এতে অংশ নেন, হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে।
মানববন্ধনে গ্রেপ্তার আসামিদের জামিন না দেওয়া এবং দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানানো হয়।
মৃত ইউসুফ আলী শেখ ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের চরঅমরাপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় ইউসুফ আলীকে ডেকে নিয়ে দুর্গম চর এলাকায় নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বিষ খাওয়ানো হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৩ আগস্ট ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার প্রায় এক মাস আগে মামলার আসামি শামীমের মা আসমা বেগম নিখোঁজ হন।
এই ঘটনায় ইউসুফসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইউসুফকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন ও বিষ খাওয়ানো হয়।
মৃত্যুর আগে ইউসুফ একটি ভিডিও বক্তব্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে গেছেন বলে জানান স্বজনরা। পরে নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম সাতজনের নাম উল্লেখ করে চরভদ্রাসন থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন, শামীম হোসেন (২৫), তার বোন ইয়াছমিন আক্তার (৩৪), আক্কাস মোল্যা (৬০) ও তার ছেলে জুলহাস মোল্যা (৩৫)। তবে মামলার বাকি তিন আসামি এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্বজন ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মানববন্ধনে ডালিয়া বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এখনো তিন আসামিকে ধরতে পারেনি। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই। যারা আমার স্বামীকে তিলে তিলে মেরেছে, তাদের ফাঁসি চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি, গ্রেপ্তার আসামিরা যেন জামিন না পায় এবং দ্রুত বিচার শেষে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পলাতক তিন আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।’
চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমরা।’
এদিকে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের হাতে গ্রেপ্তার আসামিদের জামিন না দিয়ে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করেন নিহতের স্ত্রী ডালিয়া বেগম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন