ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান বিরোধী যুদ্ধে অংশ নিলেই পরাজয় নিশ্চিত! পতন হতে পারে শাসকদেরও?


ইরান বিরোধী যুদ্ধে অংশ নিলেই পরাজয় নিশ্চিত! পতন হতে পারে শাসকদেরও?

ধর্মগ্রন্থ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রন্থ অনুযায়ী পৃথিবী তার শেষ সময়ের প্রহরগুলো গুনছে। আর পৃথিবীর মহাপ্রলয়ের সতর্কবার্তা হিসেবে কতগুলো লক্ষণের কথা ইসলাম ধর্মের শেষ নবী ও রাসূল (সাঃ) তার সাহাবীদের বলে গিয়েছেন। যার অধিকাংশই পূর্ণতা লাভ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিপীড়িত নির্যাতিত এক শ্রেণীর দরিদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠী মুসলিম ধর্মের প্রকৃত ঐতিহ্য ধরে রেখে এখনো লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে ফিলিস্তিন অন্যতম।

একসময়ে জার্মানির হিটলার কর্তৃক ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যার পর অবশিষ্ট রেখে যাওয়া আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সবচেয়ে নিন্দিত ও ঘৃণিত উদ্বাস্তু ইহুদি জাতিকে ফিলিস্তিনি মুসলিম সম্প্রদায় দয়া মায়া করে তাদের নিজদেশে আশ্রয় দিয়ে আজ তারা নিজেরাই আশ্রয়হীন অবস্থায় পড়ে গণহত্যার শিকার হচ্ছে। নিজেরাই এখন তাদের নিজ দেশে পরবাসী হয়ে স্বাধীনতা খুঁজছে। আর সেই লড়াই সংগ্রাম কয়েক দশক ধরে চলছে। যেখানে তারা ইসলামের সুমহান আদর্শকে ধারণ না করলে, ইহুদীবাদী পশ্চিমা শাসকদের অনুসরণ করলে সৌদি, কুয়েত, কাতার, আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান, ওমান এইসব দেশের মতো আরাম-আয়েশে রাজকীয় হালে থাকতে পারতো। কিন্তু তারা বীরের জাতি মুসলিম হয়ে অমুসলিমদের দাস হতে চায়নি। ওরাই প্রকৃত মুসলিম যারা কোরআন ও হাদিসের বাণী, আল্লাহ ও রাসূলের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে গিয়ে যুগের পর যুগ লড়াই সংগ্রাম করে নিজেদের জীবন ও সম্পদ বিলিয়ে দিয়ে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত মাতৃভূমির জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। গত প্রায় দুই বছরের ৭০ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষকে জায়নবাদী ইজরাইল ও পশ্চিমা শক্তি হত্যা করেছে আর তা চেয়ে চেয়ে দেখেছে মধ্যপ্রাচ্যে মক্কা মদিনার খাদেম নামধারী আরব রাষ্ট্রগুলো। শুধু দেখেইনি নিজ ধর্মের মুসলিম ভাই-বোনদের হত্যা ও ধ্বংস করতে জায়নবাদী ইহুদি ও পশ্চিমা মুসলিমবিদ্বেষী পরাশক্তিদের পদলেহন করে শুধুমাত্র দুনিয়ার সুখ শান্তি লাভের আশায় তারা ইহুদীবাদী শক্তির গোলামী করে নিজ দেশে তাদেরকে ঘাঁটি করে দিয়েছে, যাতে করে তারা মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, লেবানন এদিকে আফগানিস্তান এমনকি ফিলিস্তিনের মত মুসলিম গণহত্যায় পরোক্ষভাবে ইন্ধন যুগিয়েছে এই মুসলিম নামধারী আরব রাষ্ট্রগুলো।

কিন্তু সেই ঈমানী দায়িত্ব ভুলে যায়নি মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ খ্যাত ইরান। যাদেরকে এই আরব রাষ্ট্রগুলোই মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে শিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে । সেই মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ খ্যাত ইরান সেই ১৯৭৯ সাল থেকে ইসলামিক শাসনব্যবস্থা পরিচালনা শুরু করলে তখন থেকেই ইসলামবিরোধী শক্তি ইহুদিবাদী ইসরাইল ও পশ্চিমাদের তথা তাগুতি শক্তির গোলামী না করে এক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের গোলামী করার জন্য যুগের পর যুগ পৃথিবীর কর্তৃতবাদী শাসন ব্যবস্থার মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ তাদের মিত্রদের চক্ষুশূল হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক, সামরিক সহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত হয়েও, হাজারো কষ্ট দুঃখ সহ্য করেও তারা তাদের ঈমানকে হারিয়ে ফেলেনি কিংবা বিক্রি করেনি মধ্যপ্রাচ্যের নামধারী আরব রাষ্ট্র গুলোর মত। দশকের পর দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা পিড়িত ইরান হিজবুল্লাহ, হামাস, হুতি ইরাকের ইসলামিক রেজিস্টেন্স সহ এমন অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠী বানিয়েছে যারা একমাত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা করার জন্য, কারো গোলামী না করার জন্য লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আর আল্লাহ তো তাদেরকেই সাহায্য করবেন বলে ওয়াদা দিয়েছেন- যারা তার পথে অটল থাকে, লড়াই করে অর্থ সম্পদ ও জীবন দিয়ে তার গোলামী করে, অন্য কারো নয়।

ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রটিকে ধ্বংস করতে ইহুদীবাদী ইজরাইল-আমেরিকা সহ মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আরব রাষ্ট্রগুলোও চেষ্টার কমতি করেনি। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ১২ দিনের যুদ্ধে অংশ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বুঝতে পেরেছিলেন অথবা পারেননি যে, কেন ইরান কে মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ বলা হয়। তাই ওই ১২ দিনের যুদ্ধের পরাজয়ের সম্মান বাঁচাতে ২০২৬ সালে আবারো ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে ইহুদীবাদী ইজরাইলের সাথে এক হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলোতে নিজেদের তৈরি করা ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ হামলা শুরু করে। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এত ভয়াবহ পাল্টা আঘাত বিশ্ব পরাশক্তি কখনোই প্রত্যাশা করেনি যা ইরান দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম নামক বেইমানদের রাষ্ট্রগুলোতে থাকা ইহুদিবাদীদের ঘাঁটিগুলো যখন ইরান তছনছ করে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, বিশ্বে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পেরেছে এবং ইসরাইলের আগামী নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকেও প্রভাবিত করতে চলেছে, তখন ইহুদীবাদী পরাজিত শক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ক্রীড়ণক হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো সহ কয়েকটি শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রও এখন পশ্চিমাদের গোলামী করতে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উপর আক্রমণের পরিকল্পনা করছে।

যেই ইরানের সাথে যুদ্ধ করতে এসে, ইরানকে ধ্বংস করতে এসে, ইরানের পারমাণবিক শক্তি গুড়িয়ে দিতে এসে, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সমূলে নিশ্চিহ্ন করতে এসে, এমনকি ইরানের সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে এসে ইজরাইল-আমেরিকা তাদের নিজেদের দেশের নিজেদের ক্ষমতাসীন সরকার ব্যবস্থারই পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এমনকি সামরিক শক্তির দিক থেকেও তারা এতটাই পরাজিত যে, লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে সেখানে এই দীর্ঘকাল ধরে নিষেধাজ্ঞা পিরিত নিপীড়িত নির্ধারিত মুসলিম দুর্বল জনগোষ্ঠীর উপর অপর শক্তিশালী মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলোই সেই পশ্চিমা শক্তির গোলামী করতে নতুন করে জোট বাঁধতে যাচ্ছে।

এখান থেকেই হয়তো সৃষ্টিকর্তা পরীক্ষা করে নিবেন কারা মুসলিম এবং কারা ইহুদিদের গোলাম। ইরান এবং তার সমর্থিত জোটের ধর্মপ্রিয়তা, ধর্মের জন্য নিজেদের আত্মাহুতি এবং দুনিয়াবী কোন শক্তির গোলামী না করার জন্য নিজেরা জীবন দিয়ে প্রমাণ করছে তারাই প্রকৃত মুসলিম হিসেবে আল্লাহর কাছে নাম লিখিয়েছে। আর নিষেধাজ্ঞা পীড়িত ইরান যেভাবে বিশ্ব পরাশক্তির সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে সেখান থেকে অপর মুসলিমদের বুঝে নেওয়া উচিত এখানে শুধু ইরান যুদ্ধ করেনি ইরানের সাথে আল্লার পক্ষ থেকে ফেরেশতারাও যুদ্ধ করেছে-তা না হলে বিশ্ব পরা শক্তির সাথে বিশ্বের ওপর পরা শক্তি যারা কেউ কথা কিংবা একটি শব্দ উচ্চারণ করতে পারেনি একটা ক্ষেপণাস্ত্র মারা তো দূরের কথা, সেখানে ইরান কিভাবে বিশ্ব পরাশক্তিকে নাকানি চুবানি খাইয়ে তাদেরকে বিতাড়িত করছে। সুতরাং এই ইরানকে পরাজিত করতে যদি নতুন করে কোন পাখা গজানো মুসলিম রাষ্ট্র ইরান বিরোধী শক্তির সাথে লড়াই করতে নামে তাহলে তারা নিজেরাই শুধু ধ্বংস হবে না, তাদের নিজের দেশের শাসন ক্ষমতাও পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে অর্থাৎ শাসক হিসেবে থেকে যারা যুদ্ধ করতে যাচ্ছে তারা তাদের গদি হারাতে পারে এমন কথা আজকের দিনে বলা মনে হয় অমূলক হবে না।

বিশেষ করে মক্কাজোট যদি ইহুদীবাদী ইজরাইল এবং আমেরিকার হয়ে ইরান, হুতি, হিজবুল্লাহ, হামাস, ইসলামিক রেজিস্টেন্স সহ ইরানপন্থী জোটের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধে নামে, সেই সাথে পাকিস্তান কিংবা ভারত কিংবা অন্য কোন রাষ্ট্র এতে যোগ দেয় তাতেও তাদের পরাজয় নিশ্চিত। কথায় বলে, "হাতি ঘোড়া গেল তল, ভেড়া বলে কত জল" - সে অবস্থাই হবে এদের। যেখানে বিশ্ব পরাশক্তি আমেরিকা-ইসরাইল জোট ইরানের সাথে যুদ্ধ করতে এসে নাকানি চুবানি খেয়ে পালিয়ে বাঁচতে চাচ্ছে, সেখানে মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো পশ্চিমাদের গোলামী করতে মুসলিম নামধারী সৌদি আরব কর্তৃক দীর্ঘকাল ধরে নিষেধাজ্ঞা পীড়িত, অর্থনৈতিক দুর্দশাগ্রস্থ, না খেতে পারা, না পড়তে পারা ইয়েমেনের অপর মুসলিম ভাই হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে চায়?

মুসলিমরা হয়তো ভুলে গিয়েছে যে ইয়েমেনের সাথে সৌদি আরবের কোত্থেকে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে?
এক দশক পূর্বে আরব বসন্তের সময় ইয়েমেনে আরব বসন্ত শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকে তাদের মধ্যে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে দুটি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব শুরু হয় সরকারপন্থী এবং সরকার বিরোধী। এটা তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু মুসলিম ভাই হিসেবে কিংবা প্রতিবেশী হিসেবে সৌদি আরবের উচিত ছিল তাদের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দেওয়া। তা না করে পশ্চিমাদের গোলামী করতে গিয়ে সৌদি আরব ইয়েমেনের অভ্যন্তরে নাক গলায় এবং হুতি বিরোধী পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। এটিই কি মুসলমানের পরিচয়? তারপর থেকে ইয়েমেনের উপর সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাতে তারা না খেয়ে মারা যায় অথচ তারা সকলেই মুসলিম। সেই অবস্থাতেও হুতি বিদ্রোহীরা তার সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করে এখনো টিকে আছে যাদের বিরুদ্ধে আমেরিকায় ইসরাইল সহ পশ্চিমা শক্তিও যুদ্ধ করেছিল, না পেরে ব্যর্থ হয়েছে। এই সৌদি আরবকে রক্ষার নামে মুসলিম রাষ্ট্র সে যেই রাষ্ট্রই হোক না কেন, তারা যদি ইরান বিরোধী কিংবা ইরান সমর্থিত সত্যিকারের ঈমানী পরীক্ষায় পরীক্ষিত মুসলিম জনগোষ্ঠী ইয়েমেনের হুতি, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইরাকের ইসলামিক রেজিস্টেন্স এইসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইজরায়েল ও মার্কিনীদের ইন্ধনে মক্কা-মদিনা রক্ষার নাম করে যুদ্ধ করতে যায় তাহলে তারাও সমূলে ধ্বংস হবে। শুধু ধ্বংসই হবে না নিজ দেশে তাদের সরকারেরও পতন ঘটবে এমন কথা আজকে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।

এদিক থেকে বাংলাদেশ সরকারের উচিত বাংলাদেশের জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে কোন জোটে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া। মক্কা মদিনার নামে কোন জোটে অংশ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে সে মুসলিম হয়ে যাবে, বরং মক্কা মদিনাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার। বাংলাদেশ সরকারের উচিত নিজ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কিভাবে বজায় রাখা যায় সেই চেষ্টা করা। বাংলাদেশ এমন অবস্থায় পৌঁছেনি যে, সে নিজেদের সামলিয়ে অন্য দেশের হয়ে যুদ্ধ করতে যাবে। সরকারকে সেটা ভাবতে হবে। সরকার নিজেদের দেশের অভ্যন্তরে নানা সমস্যায় জর্জরিত সে দিক লক্ষ রাখা জরুরী। অন্যদিকে ইরান বিরোধী যুদ্ধে যদি পাকিস্তান অংশগ্রহণ করে তাহলে চারিদিকে শত্রু বেষ্টিত পাকিস্তান সরকারেরও পতন ঘটবে, ভারত যদি ইরানবিরোধী যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইন্ধন যোগায় তাহলে ভারত সরকারেরও পতন ঘটা এখন সময়ের ব্যাপার। শুধু তাই নয়, এইসব রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করলেও ইরানি গোষ্ঠী বা ইরান সমর্থিত প্রকৃত মুসলিম জনগোষ্ঠীগুলোর সাথে যুদ্ধে পরাজিত হবে এমন কথা সেই ধর্মীয় ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী আজকের দিনে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।

লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলায় দলিল লেখক সমিতির কমিটি গঠন: সভাপতি আলাল, সম্পাদক হাসমত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৬ পি.এম


নকলায় দলিল লেখক সমিতির কমিটি গঠন: সভাপতি আলাল, সম্পাদক হাসমত

শেরপুরের নকলায় বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি নকলা উপজেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নকলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে অধিক গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ এই কমিটি গঠন করা হয়।

“দলিল লেখক জনতা, গড়ে তুলো একতা” এই শ্লোগানকে ধারন করে নকলা সাব-রেজিস্ট্রার কর্যালয়ের দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি পদে মো. আলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হাসমত আলী-কে লাইসেন্সধারী দলিল লেখকগনের সর্বসম্মতিক্রমে মনোনিত করা হয়েছে।

১৬ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জহুরুল হক ও সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম; সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এবং ৬ জন সদস্য মোজাফ্ফর আলী, মো. মফিজুল ইসলাম, জয়েন উদ্দিন, মোকলেছুর রহমান, ফজাউল হোসেন সাবু ও মো. ফারুক হোসেন।

নতুন এই কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও অধিক কার্যকরভাবে পরিচালনার মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকান্ড ও দলিল লেখকদের সার্বিক মানোন্নয়নে পরামর্শ সহায়তাসহ কমিটির সকল প্রকার কাজের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সিনিয়র দুই জনকে উপদেষ্টা হিসেবে মনোনিত করা হয়। উপদেষ্টা মন্ডলীর দুইজন হলেন- মো. ইদ্রিস আলী ও মো. মাহবুবুল আলম। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হাসমত আলী গণমাধ্যম কর্মীদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আলাল উদ্দিন মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় পূর্বক এ দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদানের জন্য শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মুহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী’ঁর প্রতি ক...তজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি সকল দলিল লেখকদের প্রতি ক...তজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাকে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মনোনিত করায় আজ থেকে দায়িত্ব বেড়ে গেলো। সদস্যগন আমাদের প্রতি যে আ¯’া ও বিশ্বাস রেখেছেন, তা আমাদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি গুরু দায়িত্বও বটে।’

সাধারণ সম্পাদক মো. হাসমত আলী বলেন ‘আমি বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য, সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের এই সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করা সম্ভব। দায়িত্ব পালনে আমরা সকলের মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমিতির সার্বিক উন্নয়ন, সদস্যদের ন্যায্য স্বার্থ সংরক্ষণ ও পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করাই আমাদের অঙ্গীকার।’

বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি নকলা উপজেলা শাখা কমিটিকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দলিল লেখকদের ন্যায্য দাবী আদায়ে সবার দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন নবনির্বাচিত কমিটির নেত...বৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান, ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আবিদ ইসলাম আশিক বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৭ পি.এম


বাকেরগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান, ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ

মা ইলিশ সংরক্ষণে বরিশালের বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আনুমানিক ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও সুতার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধলমৌ, কবাই ও কলসকাঠি সংলগ্ন কারখানা নদী, পাণ্ডব নদী ও পায়রা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাকেরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল। এ সময় নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও অবৈধ জালের ব্যবহার প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও সুতার জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল জানান, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ঢাকা-রিয়াদ রুটের ৮ ফ্লাইটে বিঘ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৯ পি.এম


রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ঢাকা-রিয়াদ রুটের ৮ ফ্লাইটে বিঘ্ন

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ঢাকা থেকে আসা-যাওয়ার ৮টি ফ্লাইটের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এতে ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের মধ্যে কেউ বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, আবার কেউ সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

তারা আরও জানিয়েছেন, বিঘ্নিত ৮টি ফ্লাইটের মধ্যে ২টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের, ১টি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের, ৩টি সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের এবং ২টি রিয়াদ এয়ারওয়েজের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এর আগে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাদের নির্ধারিত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। একইসাথে যাত্রীদের বিমানবন্দরে না গিয়ে সহায়তার জন্য কল সেন্টার অথবা নিকটস্থ সেলস অফিসে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আজ সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো থেকে দূরে থাকার জন্য এয়ারলাইন্স, যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের সতর্ক করেছে। এর আগের দিন রিয়াদের বিমান স্থাপনায় হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

সৌদি আরব ওই হামলাকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে সর্বশেষ হামলার দায় এখনও হুতিরা স্বীকার করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় বাছাই কঠিন: পিটার বাটলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪০ পি.এম


তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় বাছাই কঠিন: পিটার বাটলার

বাফুফের নারী ফুটবলের প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির সিলেট পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দিনব্যাপী চলা এই প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চকর ফাইনালে ভৈরবগঞ্জ এফএকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে রাজীব রাবেয়া বানু ফুটবল একাডেমি। তবে আয়োজকদের মতে, টুর্নামেন্টের মূল সাফল্য শিরোপা জয়ে নয়, বরং দেশজুড়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় নারী ফুটবলারদের খুঁজে বের করায়।

সিলেটের তীব্র গরমে প্রতিভা অন্বেষণের কাজটি সম্পন্ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও স্থানীয়দের উষ্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘তীব্র গরমে কাজটা বেশ কঠিন ছিল। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় বাছাই করা তো আর অ্যামাজন বা আইকিয়া থেকে অনলাইনে পছন্দমতো কেনাকাটা করার মতো সহজ নয়! কাজটা সত্যিই কঠিন, তবে আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।’

নতুনদের পারফরম্যান্সের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করতে গিয়ে বাফুফে কোচ জানান, ‘কয়েকজন ফুটবলার বেশ ভালো পারফর্ম করেছে, আবার অনেকের মান ছিল গড়পড়তা। তবে এই পর্যায়ে এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। সব মিলিয়ে প্রক্রিয়াটি আমার প্রত্যাশা অনুযায়ীই হয়েছে—ফুটবলের ভাষায় যাকে বলা যায় হিট অ্যান্ড মিস।’

নারী ফুটবলের ভিত মজবুত রাখতে এ ধরনের ট্যালেন্ট আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রাম নিয়মিত আয়োজনের ওপর জোর দিয়েছেন বাটলার। পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি পরামর্শ দেন, কোন বয়সভিত্তিক দলের জন্য ফুটবলার প্রয়োজন তা মাথায় রেখে প্রতি ছয় মাস পরপর এমন আঞ্চলিক প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্প আয়োজন করা উচিত। এতে করে তৃণমূল থেকে নতুন নতুন প্রতিভা নিয়মিত জাতীয় দলের পাইপলাইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

আটটি আঞ্চলিক একাডেমির অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট থেকে একাধিক নজরকাড়া ফুটবলারকে স্কাউট করা হয়েছে। মূলত অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। বাছাই করা এই উদীয়মান খেলোয়াড়রা আগামী ১৩ থেকে ১৯ অক্টোবর ঢাকার বাফুফে ভবনে আয়োজিত একটি নিবিড় আবাসিক ক্যাম্পে অংশ নেবেন। পুরো ক্যাম্পটি পরিচালিত হবে জাতীয় নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলারের অধীনে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%