১১:০৯ পি.এম
ধর্মগ্রন্থ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রন্থ অনুযায়ী পৃথিবী তার শেষ সময়ের প্রহরগুলো গুনছে। আর পৃথিবীর মহাপ্রলয়ের সতর্কবার্তা হিসেবে কতগুলো লক্ষণের কথা ইসলাম ধর্মের শেষ নবী ও রাসূল (সাঃ) তার সাহাবীদের বলে গিয়েছেন। যার অধিকাংশই পূর্ণতা লাভ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিপীড়িত নির্যাতিত এক শ্রেণীর দরিদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠী মুসলিম ধর্মের প্রকৃত ঐতিহ্য ধরে রেখে এখনো লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে ফিলিস্তিন অন্যতম।
একসময়ে জার্মানির হিটলার কর্তৃক ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যার পর অবশিষ্ট রেখে যাওয়া আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সবচেয়ে নিন্দিত ও ঘৃণিত উদ্বাস্তু ইহুদি জাতিকে ফিলিস্তিনি মুসলিম সম্প্রদায় দয়া মায়া করে তাদের নিজদেশে আশ্রয় দিয়ে আজ তারা নিজেরাই আশ্রয়হীন অবস্থায় পড়ে গণহত্যার শিকার হচ্ছে। নিজেরাই এখন তাদের নিজ দেশে পরবাসী হয়ে স্বাধীনতা খুঁজছে। আর সেই লড়াই সংগ্রাম কয়েক দশক ধরে চলছে। যেখানে তারা ইসলামের সুমহান আদর্শকে ধারণ না করলে, ইহুদীবাদী পশ্চিমা শাসকদের অনুসরণ করলে সৌদি, কুয়েত, কাতার, আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান, ওমান এইসব দেশের মতো আরাম-আয়েশে রাজকীয় হালে থাকতে পারতো। কিন্তু তারা বীরের জাতি মুসলিম হয়ে অমুসলিমদের দাস হতে চায়নি। ওরাই প্রকৃত মুসলিম যারা কোরআন ও হাদিসের বাণী, আল্লাহ ও রাসূলের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে গিয়ে যুগের পর যুগ লড়াই সংগ্রাম করে নিজেদের জীবন ও সম্পদ বিলিয়ে দিয়ে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত মাতৃভূমির জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। গত প্রায় দুই বছরের ৭০ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষকে জায়নবাদী ইজরাইল ও পশ্চিমা শক্তি হত্যা করেছে আর তা চেয়ে চেয়ে দেখেছে মধ্যপ্রাচ্যে মক্কা মদিনার খাদেম নামধারী আরব রাষ্ট্রগুলো। শুধু দেখেইনি নিজ ধর্মের মুসলিম ভাই-বোনদের হত্যা ও ধ্বংস করতে জায়নবাদী ইহুদি ও পশ্চিমা মুসলিমবিদ্বেষী পরাশক্তিদের পদলেহন করে শুধুমাত্র দুনিয়ার সুখ শান্তি লাভের আশায় তারা ইহুদীবাদী শক্তির গোলামী করে নিজ দেশে তাদেরকে ঘাঁটি করে দিয়েছে, যাতে করে তারা মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, লেবানন এদিকে আফগানিস্তান এমনকি ফিলিস্তিনের মত মুসলিম গণহত্যায় পরোক্ষভাবে ইন্ধন যুগিয়েছে এই মুসলিম নামধারী আরব রাষ্ট্রগুলো।
কিন্তু সেই ঈমানী দায়িত্ব ভুলে যায়নি মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ খ্যাত ইরান। যাদেরকে এই আরব রাষ্ট্রগুলোই মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে শিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে । সেই মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ খ্যাত ইরান সেই ১৯৭৯ সাল থেকে ইসলামিক শাসনব্যবস্থা পরিচালনা শুরু করলে তখন থেকেই ইসলামবিরোধী শক্তি ইহুদিবাদী ইসরাইল ও পশ্চিমাদের তথা তাগুতি শক্তির গোলামী না করে এক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের গোলামী করার জন্য যুগের পর যুগ পৃথিবীর কর্তৃতবাদী শাসন ব্যবস্থার মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ তাদের মিত্রদের চক্ষুশূল হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক, সামরিক সহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত হয়েও, হাজারো কষ্ট দুঃখ সহ্য করেও তারা তাদের ঈমানকে হারিয়ে ফেলেনি কিংবা বিক্রি করেনি মধ্যপ্রাচ্যের নামধারী আরব রাষ্ট্র গুলোর মত। দশকের পর দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা পিড়িত ইরান হিজবুল্লাহ, হামাস, হুতি ইরাকের ইসলামিক রেজিস্টেন্স সহ এমন অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠী বানিয়েছে যারা একমাত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা করার জন্য, কারো গোলামী না করার জন্য লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আর আল্লাহ তো তাদেরকেই সাহায্য করবেন বলে ওয়াদা দিয়েছেন- যারা তার পথে অটল থাকে, লড়াই করে অর্থ সম্পদ ও জীবন দিয়ে তার গোলামী করে, অন্য কারো নয়।
ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রটিকে ধ্বংস করতে ইহুদীবাদী ইজরাইল-আমেরিকা সহ মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আরব রাষ্ট্রগুলোও চেষ্টার কমতি করেনি। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ১২ দিনের যুদ্ধে অংশ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বুঝতে পেরেছিলেন অথবা পারেননি যে, কেন ইরান কে মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ বলা হয়। তাই ওই ১২ দিনের যুদ্ধের পরাজয়ের সম্মান বাঁচাতে ২০২৬ সালে আবারো ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে ইহুদীবাদী ইজরাইলের সাথে এক হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলোতে নিজেদের তৈরি করা ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ হামলা শুরু করে। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এত ভয়াবহ পাল্টা আঘাত বিশ্ব পরাশক্তি কখনোই প্রত্যাশা করেনি যা ইরান দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম নামক বেইমানদের রাষ্ট্রগুলোতে থাকা ইহুদিবাদীদের ঘাঁটিগুলো যখন ইরান তছনছ করে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, বিশ্বে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পেরেছে এবং ইসরাইলের আগামী নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকেও প্রভাবিত করতে চলেছে, তখন ইহুদীবাদী পরাজিত শক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ক্রীড়ণক হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো সহ কয়েকটি শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রও এখন পশ্চিমাদের গোলামী করতে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উপর আক্রমণের পরিকল্পনা করছে।
যেই ইরানের সাথে যুদ্ধ করতে এসে, ইরানকে ধ্বংস করতে এসে, ইরানের পারমাণবিক শক্তি গুড়িয়ে দিতে এসে, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সমূলে নিশ্চিহ্ন করতে এসে, এমনকি ইরানের সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে এসে ইজরাইল-আমেরিকা তাদের নিজেদের দেশের নিজেদের ক্ষমতাসীন সরকার ব্যবস্থারই পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এমনকি সামরিক শক্তির দিক থেকেও তারা এতটাই পরাজিত যে, লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে সেখানে এই দীর্ঘকাল ধরে নিষেধাজ্ঞা পিরিত নিপীড়িত নির্ধারিত মুসলিম দুর্বল জনগোষ্ঠীর উপর অপর শক্তিশালী মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলোই সেই পশ্চিমা শক্তির গোলামী করতে নতুন করে জোট বাঁধতে যাচ্ছে।
এখান থেকেই হয়তো সৃষ্টিকর্তা পরীক্ষা করে নিবেন কারা মুসলিম এবং কারা ইহুদিদের গোলাম। ইরান এবং তার সমর্থিত জোটের ধর্মপ্রিয়তা, ধর্মের জন্য নিজেদের আত্মাহুতি এবং দুনিয়াবী কোন শক্তির গোলামী না করার জন্য নিজেরা জীবন দিয়ে প্রমাণ করছে তারাই প্রকৃত মুসলিম হিসেবে আল্লাহর কাছে নাম লিখিয়েছে। আর নিষেধাজ্ঞা পীড়িত ইরান যেভাবে বিশ্ব পরাশক্তির সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে সেখান থেকে অপর মুসলিমদের বুঝে নেওয়া উচিত এখানে শুধু ইরান যুদ্ধ করেনি ইরানের সাথে আল্লার পক্ষ থেকে ফেরেশতারাও যুদ্ধ করেছে-তা না হলে বিশ্ব পরা শক্তির সাথে বিশ্বের ওপর পরা শক্তি যারা কেউ কথা কিংবা একটি শব্দ উচ্চারণ করতে পারেনি একটা ক্ষেপণাস্ত্র মারা তো দূরের কথা, সেখানে ইরান কিভাবে বিশ্ব পরাশক্তিকে নাকানি চুবানি খাইয়ে তাদেরকে বিতাড়িত করছে। সুতরাং এই ইরানকে পরাজিত করতে যদি নতুন করে কোন পাখা গজানো মুসলিম রাষ্ট্র ইরান বিরোধী শক্তির সাথে লড়াই করতে নামে তাহলে তারা নিজেরাই শুধু ধ্বংস হবে না, তাদের নিজের দেশের শাসন ক্ষমতাও পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে অর্থাৎ শাসক হিসেবে থেকে যারা যুদ্ধ করতে যাচ্ছে তারা তাদের গদি হারাতে পারে এমন কথা আজকের দিনে বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
বিশেষ করে মক্কাজোট যদি ইহুদীবাদী ইজরাইল এবং আমেরিকার হয়ে ইরান, হুতি, হিজবুল্লাহ, হামাস, ইসলামিক রেজিস্টেন্স সহ ইরানপন্থী জোটের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধে নামে, সেই সাথে পাকিস্তান কিংবা ভারত কিংবা অন্য কোন রাষ্ট্র এতে যোগ দেয় তাতেও তাদের পরাজয় নিশ্চিত। কথায় বলে, "হাতি ঘোড়া গেল তল, ভেড়া বলে কত জল" - সে অবস্থাই হবে এদের। যেখানে বিশ্ব পরাশক্তি আমেরিকা-ইসরাইল জোট ইরানের সাথে যুদ্ধ করতে এসে নাকানি চুবানি খেয়ে পালিয়ে বাঁচতে চাচ্ছে, সেখানে মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো পশ্চিমাদের গোলামী করতে মুসলিম নামধারী সৌদি আরব কর্তৃক দীর্ঘকাল ধরে নিষেধাজ্ঞা পীড়িত, অর্থনৈতিক দুর্দশাগ্রস্থ, না খেতে পারা, না পড়তে পারা ইয়েমেনের অপর মুসলিম ভাই হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে চায়?
মুসলিমরা হয়তো ভুলে গিয়েছে যে ইয়েমেনের সাথে সৌদি আরবের কোত্থেকে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে?
এক দশক পূর্বে আরব বসন্তের সময় ইয়েমেনে আরব বসন্ত শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকে তাদের মধ্যে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে দুটি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব শুরু হয় সরকারপন্থী এবং সরকার বিরোধী। এটা তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু মুসলিম ভাই হিসেবে কিংবা প্রতিবেশী হিসেবে সৌদি আরবের উচিত ছিল তাদের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দেওয়া। তা না করে পশ্চিমাদের গোলামী করতে গিয়ে সৌদি আরব ইয়েমেনের অভ্যন্তরে নাক গলায় এবং হুতি বিরোধী পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। এটিই কি মুসলমানের পরিচয়? তারপর থেকে ইয়েমেনের উপর সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাতে তারা না খেয়ে মারা যায় অথচ তারা সকলেই মুসলিম। সেই অবস্থাতেও হুতি বিদ্রোহীরা তার সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করে এখনো টিকে আছে যাদের বিরুদ্ধে আমেরিকায় ইসরাইল সহ পশ্চিমা শক্তিও যুদ্ধ করেছিল, না পেরে ব্যর্থ হয়েছে। এই সৌদি আরবকে রক্ষার নামে মুসলিম রাষ্ট্র সে যেই রাষ্ট্রই হোক না কেন, তারা যদি ইরান বিরোধী কিংবা ইরান সমর্থিত সত্যিকারের ঈমানী পরীক্ষায় পরীক্ষিত মুসলিম জনগোষ্ঠী ইয়েমেনের হুতি, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইরাকের ইসলামিক রেজিস্টেন্স এইসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইজরায়েল ও মার্কিনীদের ইন্ধনে মক্কা-মদিনা রক্ষার নাম করে যুদ্ধ করতে যায় তাহলে তারাও সমূলে ধ্বংস হবে। শুধু ধ্বংসই হবে না নিজ দেশে তাদের সরকারেরও পতন ঘটবে এমন কথা আজকে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।
এদিক থেকে বাংলাদেশ সরকারের উচিত বাংলাদেশের জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে কোন জোটে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া। মক্কা মদিনার নামে কোন জোটে অংশ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে সে মুসলিম হয়ে যাবে, বরং মক্কা মদিনাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার। বাংলাদেশ সরকারের উচিত নিজ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কিভাবে বজায় রাখা যায় সেই চেষ্টা করা। বাংলাদেশ এমন অবস্থায় পৌঁছেনি যে, সে নিজেদের সামলিয়ে অন্য দেশের হয়ে যুদ্ধ করতে যাবে। সরকারকে সেটা ভাবতে হবে। সরকার নিজেদের দেশের অভ্যন্তরে নানা সমস্যায় জর্জরিত সে দিক লক্ষ রাখা জরুরী। অন্যদিকে ইরান বিরোধী যুদ্ধে যদি পাকিস্তান অংশগ্রহণ করে তাহলে চারিদিকে শত্রু বেষ্টিত পাকিস্তান সরকারেরও পতন ঘটবে, ভারত যদি ইরানবিরোধী যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইন্ধন যোগায় তাহলে ভারত সরকারেরও পতন ঘটা এখন সময়ের ব্যাপার। শুধু তাই নয়, এইসব রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করলেও ইরানি গোষ্ঠী বা ইরান সমর্থিত প্রকৃত মুসলিম জনগোষ্ঠীগুলোর সাথে যুদ্ধে পরাজিত হবে এমন কথা সেই ধর্মীয় ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী আজকের দিনে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন